ডোনা পাওলার দিন কটি : শীলা পাল।

0
1269

পর্তুগালের রোমান্টিক হিরোইন সুন্দরী ডোনা পাওলার কথা অনেক শুনেছি তার লোকগাথা গ্রামবাসীদের মুখে মুখে ঘুরত।
এই জায়গাটির নাম দা ভারতের ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্ব পর্তুগীজ পলা অমরাল আন্তোনিয়া ডি সাউটো মাইনর।অত্যন্ত সম্ভ্রান্ত পরিবার 1744 সালে তিনি গোয়া আসেন।
আমি ছোট্ট পরিসরে সাউথ গোয়া র
ডোনাপাওলার কথা বলতে চাই এই
নামটি আমাকে ভীষণ আকর্ষন করে।
শুনেছি তিনি অসম্ভব সুন্দরী এবং রোম্যান্টিক ছিলেন এবং হিরোইন।
ডোনা পাওলা খুব দানশীল মহিলা ছিলেন। গ্রামবাসীদের বিপদে অনেক সাহায্য করতেন। তাদের উন্নতির জন্য অনেক অবদান ছিল তাঁর।গ্রামটির নাম ছিল ওডাভেল। তাঁর মৃত্যুর পর গ্রাম বাসীরা গ্রামটির নাম ডোনা পাওলা রাখেন।
এই রোমান্টিক সুন্দরীকে দেখার সাধ ছিল অনেকদিনের। সুযোগ এসে গেল। ডাক এলো এক প্রিয় জনের কাছ থেকে ।
শাঁওলী নন্দী আমার প্রিয় এক বন্ধু কাম নাতনী। হোটেল হায়াৎ এ কর্মরতা। আমাদের আপ্যায়নে তার হার্দিক যত্ন সারাজীবন মনে থাকবে।
এত গাছগাছালি সবুজ চারিদিক। সমুদ্র কিনারে মান্ডবী নদী বেষ্টিত পর্তুগাল ধাঁচের গ্রামগুলি যেন পটে আঁকা ছবি। আর এত নিস্তব্ধ চারিদিক কথা বললে ভয় হয় এই বুঝি ডোনা পাওলার ঘুম ভেঙে যাবে।
প্রতিদিন সকালে একটি গাড়ী করে আমাদের সফর শুরু হত। নদী পেরিয়ে নারকেল গাছের ছায়ায় ঘেরা সুন্দর গ্রাম গুলি যেন কোন্ নতুন জগতের কথা বলত । ভালোলাগায় ভেসে যেতাম যেন অচীনদেশে।
মান্ডবী আর জুয়ারী নদী এখানে তাদের পথচলা শেষ করে আরব সাগরে মিশেছে। এত কাব্যিক সৌন্দর্যএই জায়গাটিতে ছড়ানো মনে হয় বসে বসে দেখি সারাদিন।এটা কোনও ভ্রমনকাহিনী ভাবলে ভুল হবে কারণ আমার চোখে যা সুন্দর হয়ে ধরা দিয়েছে আমি সেটুকুই লিখেছি মাত্র।
রম্য দৃশ্য মনোমুগ্ধকর কিছু স্মৃতি ক’দিনের নিটোল আনন্দ ই শুধু তুলে ধরেছি এই লেখায়।
নদী পার হলাম গাড়ীতে করে গাড়ী পার হল ভেসেলে চড়ে। গাছে গাছে ভরা নির্জন গ্রাম। এত সুন্দর বলে বোঝাতে পারব না। গ্রামটির নাম মায়েম। বর্ধিষ্ণু । জল টলটলে দীঘির কাছে গাড়ী থামল। শ্রী সপ্তকটেশ্বর মন্দির।বহু পুরোন মন্দির। এখন নতুন করে নির্মান কাজ চলছে। তাই দেবতা এখন অস্থায়ী মন্দিরে। সেদিন কোনও বিশেষ পুজো ছিল বেশ লোক সমাগম হয়েছে। আমাদের পরদেশী দেখে খুব যত্ন করল। মন্দিরে গিয়ে আমাদের নতুন জায়গা নতুন মানুষজন দেখে মনটা পরিতৃপ্ত হয়ে গেল। আমাদের প্রসাদ দিলেন।আচমকা বৃষ্টি এসে গেল। আমরা ভিজে গেলাম। ওরা তখন গরম চায়ের কাপ হাতে ধরিয়ে দিতে কী ভালো যে লেগেছিল যেন মনের কথাটিওরা
বুঝে গেছিলেন।
মান্ডবী নদী পার হয়ে আরও দুটো সুন্দর ভিলেজ বিচোলেম আর বেনোলেম দেখলাম।মাত্র সাতটি দিনে কীআর দেখব তবু সকাল থেকে রাত পর্যন্ত যতটুকু পারি গোগ্রাসে গিলে নেওয়ার মত মনকে গিলিয়ে নিতাম।
এখনও সমুদ্র কিনার শুধু চোখে দেখেছি বাঁশি শুনি নি। রাতের ডোনা পাওলা সত্যিই রোম্যান্টিক। সারা রাস্তা আলো ঝলমলে। দূরের পাহাড় আর সাগরের নীল জলের কানাকানি
যেন কোন স্বপ্নের দেশ বলে ভ্রম হয়। সমুদ্রের মাঝে সারি সারি ক্যাশিনোর রঙীন আলোর কি যে বাহার মুগ্ধতায়
ভরে যাই ভরে যাই।
আমার বন্ধু পার্টি দেবে তার হোটেলে। সাজগোজ করে আটটা নাগাদ আমরা গেলাম। গেস্টদের কী খাতির কী খাতির। একঘন্টা লাগলো প্রাকৃতিক এবংহোটেলের পারিপার্শ্বিক সৌন্দর্য ঘুরে দেখতে। একদম জুয়ারী নদীর মোহানায় সমুদ্রের সঙ্গে মিলনের স্বর্গীয় এক মুর্ছনার অদূরে দাঁড়িয়ে প্রত্যক্ষ করলাম প্রকৃতির আরাধনা। জীবন সার্থক হল। হায়াতের সব কর্মীদের অনেক অনেক শুভেচ্ছা আর মিস শাঁওলী নন্দী যুগ যুগ জিও।
এবার আমাদের ক্যাম্পফায়ার পর্ব বাগা বীচ।সী বিচ যেন মেলা। নাচ গান হৈ হল্লা আর আলোয় আলো। আনমনে সমুদ্র ঢেউ ভাঙে।চেয়ার টেবিল পেতে সবাই ডিনারে ব্যস্ত। আমাদের শাঁওলী বললে চলো একটা নতুন জিনিস দ্যাখাব। সে এক আলো ঝলমল রাতের সমুদ্র। তার আওয়াজ যত না শোনা যাচ্ছে তার থেকে বেশী এ্যামপ্লিফায়ারের গর্জন। “দম মারো দম”… তারসঙ্গে নৃত্যের উদ্দামতা। কী করে যে আমরাও মেতে গেলাম জানি না আনন্দ উচ্ছ্বাসের ঊন্মাদনার
কাছে বয়সও হার মানে। খুব উপভোগ করলাম লাস্ট নাইট ইন ডোনা পাওলা।
প্রায় শেষ রাতে ঘরে ফেরা। দিনগুলো যেন সাগরতীরে ওড়া ফানুসের মত উড়েই গেল। এখনও মাঝে মাঝে দোলা দিয়ে যায় ডোনা পাওলার স্মৃতি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here