আম্ফান বিধ্বস্ত সুন্দরবনে ত্রাণ দিতে এগিয়ে এলেন ইন্ডিয়ান ওয়েলের কর্মকর্তারা।

0
89

সুভাষ চন্দ্র দাশ ,ক্যানিং -কেড়েছে নিয়েছে মুখের গ্রাস। ভেঙে দিয়েছে ঘরবাড়ি।অগত্যা খোলা আকাশের নীচে বসবাস।গাছপালা,পুকুরের মাছ চিংড়ী সব ধ্বংস করে দিয়েছে আম্ফান নামক সাইক্লোন ঝড়।একদিকে করোনা আর আর অপর দিকে লকডাউন জোড়া ফলায় বিধ্বস্ত সমগ্র সুন্দরবন এলাকার বাসিন্দারা। ইতিমধ্যে ২০ মে আম্ফান নামক ঘূর্ণিঝড় বিধ্বস্ত করে দিয়েছে রাজ্যের সাতটি জেলা সহ সমগ্র সুন্দরবন।ভৌগলিক মানচিত্রের প্রায় বদল ঘটিয়ে দিয়ে সব লন্ডভন্ড করে দিয়েছে আম্ফান।অসহায় হয়ে পড়েছে সুন্দরবনের প্রায় পঞ্চাশ লক্ষ মানুষ।ভেঙে পড়েছে প্রচুর বাড়িঘর। নিরাশ্রয় হয়েছেন লক্ষাধিক পরিবার।মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই।নেই পানীয় জল,নেই খাদ্য,নেই কোন পর্যাপ্ত পরিমাণ ত্রানের ব্যবস্থা,আবার কোথাও কোথাও কোন ত্রাণই পৌঁছায়নি বলে অভিযোগ। এমনই ভয়াবহ কঠিন পরিস্থিতিতে বাসন্তী ব্লকের সাইক্লোন বিধ্বস্ত অসহায় পরিবার গুলোর পাশে ত্রাণ দিয়ে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিলেন ইন্ডিয়ান ওয়েলের কর্মকর্তারা।শুক্রবার সকালে বাসন্তী ব্লকের সাইক্লোন বিধ্বস্ত এলাকা পরিদর্শন করে অসহায় পরিবার গুলোর হাতে তুলেদেন পর্যাপ্ত পরিমান শুকনো খাবার সামগ্রী ও ত্রিপল।কুলতলি মিলনতীর্থ সোসাইটির উদ্যোগে এমন ত্রাণ বিতরনের কথা কথা আগেই লোক মারফত পৌঁছে গিয়েছিল সুন্দরবনের প্রত্যন্ত দ্বীপ এলাকায় কুমীরমারি,পুঁইজালি,লাহিড়ীপুর,সাতজেলিয়া মোল্ল্যাখালি সহ অন্যান্য এলাকায়। অসহায় মানুষজন পেটের টানে এবং বাঁচার উদ্যোগ নিয়ে নদীপথ পারাপার হয়ে ত্রাণ পাওয়ার আশায় পায়ে হেঁটে পাড়ি দেন প্রায় ত্রিশ কিলোমিটার পথ।পৌঁছে যায় বাসন্তীর কুলতলির নারায়ণতলা মিলনতীর্থ সোসাইটিতে। সেখানে ইন্ডিয়ান ওয়েলের সৌজন্যে এবং কুলতলি মিলনতীর্থ সোসাইটির কর্ণধার লোকমান মোল্ল্যার উদ্যোগে প্রত্যন্ত সুন্দরবন দ্বীপের প্রায় ৫০০ অসহায় পরিবার ত্রাণ পেয়ে খুশি।
উল্লেখ্য বিগত দিন গুলিতে সমাজসেবী লোকমান মোল্ল্যা করোনা থেকে শুরু করে সাইক্লোন বিধ্বস্ত মানষের পাশে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন।আম্ফান বিপর্যয়েও সমান ভাবে ত্রাণ দিয়ে চলেছেন বিধ্বস্ত এলাকায়।অসহায় সুন্দরবনবাসীর পাশে দাঁড়িয়ে সাহায্যের আবেদন জানিয়েছিলেন লোকমান বাবু। তাঁর ডাকে সাড়াদিয়ে অসহায় সুন্দরবনবাসীর পাশে ত্রাণ নিয়ে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়ে সাহায্য করেন ইন্ডিয়ান ওয়েলের কলকাতার নির্বাহী অধিকর্তা পৃত্থিশ ভরদ্বাজ,ইন্ডিয়ান ওয়েলের চীফ জেনারেল ম্যানেজার অনির্বাণ ঘোষ সহ অন্যান্য কর্তারা। ইন্ডিয়ান ওয়েলের কলকাতার নির্বাহী অধিকর্তা পৃত্থিশ ভরদ্বাজ জানিয়েছেন “সংবাদ মাধ্যম ও সমাজসেবী লোকমান মোল্ল্যার কাছে আম্ফান বিধ্বস্ত এলাকা সম্পর্কে জেনেছিলাম ভয়াবহ পরিস্থিতির কথা। আজ নিজে স্বচক্ষে সুন্দরবনের বাস্তব চিত্র দেখলাম। চোখে জলে এসে গেছে। সাময়িক ভাবে যে ত্রাণ দিয়েছি তা অত্যন্ত নগণ্য।খুব শীঘ্রই আগামী দিনে প্রর্যাপ্ত পরিমান ত্রাণ নিয়ে আবারও সুন্দরবনের মানুষের কাছে পৌঁছে দেবো।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here