স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র “অঙ্ক” যেন সোনার শেকলে বাঁধা সুখের বুনো হাঁসের এক স্বপ্নের তরঙ্গ-গল্প….।

0
1022

সৌগত রাণা কবিয়ালঃ- ” আমি অভিরুপ মুখার্জি.. প্রফেশনাল এটিচ্যিউডে আমি খুব বিশ্বাসী..বন্ধুবান্ধবদের সাথে অযথা আমি একদম সময় কাটাই না…প্রফেশনাল সাকসেস আমার জীবনের মূল উদ্দেশ্য..নীল রঙটা আমার ভীষণ প্রিয়.. ইকোনোমিক্স নিয়ে পড়লেও ছোটবেলা থেকে অঙ্কে আমার প্যাশান”……!

নিয়মতান্ত্রিক আধুনিক শহুরে জীবনধায়ায় চাওয়া আর পাওয়ার মাঝে মানুষের নিজের সাথে নিজের দ্বিচারিতার রক্তাক্ত শেকল বন্দি জীবনের গল্পটা যে যোগ বিয়োগের ফলাফলে নিছক এক ‘শুন্য’ এর খেলা মাত্র, তা অসাধারণভাবে ফুঁটে উঠলো ‘ডি গঙ্গোপাধ্যায়’ এর প্রযোজোনায়, মানস সরকারের গল্প অবলম্বনে, প্রত্যুষ রায় দাশগুপ্ত’র ক্যামেরা ও সম্পাদনায় এবং অর্পণ লাহা’র পরিচালনায় স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘অঙ্ক’ এর তরঙ্গ সেলুলয়েডে…!

আজকের উচ্চ-মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত সমাজের আপ্রাণ মেলবন্ধনের চেষ্টায় উচ্চশিক্ষিত সমাজ-পাড়ায় আরও একটু ভালো থাকতে এ যেন অনেকটা দাস আর মজাজনের অদ্ভুত অশ্লীল বর্তমান বাস্তব চিত্রায়ণ…!

শ্রীমন্ত ভগত ও প্রিয়দর্শিনী নাথ এর মুখ্য অভিনয়ে ‘অঙ্ক’-এ প্রতিটি সংলাপ ও চিত্রায়ণে অসাধারণ ভাবে ফুটে উঠেছে যে,
ভারতীয় সমাজ প্রথায় হাজার বছর ধরে লালিত পারিবারিক বন্ধনের রঙ্গিন ঘুড়িটি অনেক আগেই সুতো কাটা পরে দিশেহারা হয়ে গেছে…আর “অঙ্ক” যেন সেই পথটাকে সময়ের ঘড়িতে আজ থেকে মাত্র দশ বছর পর নিরুদ্দেশ ঠিকানায় নিজেদের ভবিষ্যতটা আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে…!

আজকের সমাজের প্রজন্মের নিউক্লিয়ার ফ্যামিলির স্বপ্নটা একদিন হয়তো এভাবে পূর্ণতা পাবে মানবিক অস্তিত্বকে পাশ কাটিয়ে…!

‘অঙ্ক’ দেখে স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র প্রেমিদের কাছে একবার হলেও হয়তো মনে হবে,
” আহারে সুখের বুনো হাঁস…
সুখ খুঁজতে গিয়ে কখন যে সোনার শেকলটাতে জীবন জড়িয়ে গেলো টেরই পেল না” …!

শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত, খুব মজার ছলে আগামী প্রজন্মের একজন অভিরুপ মুখার্জির কবিতার প্রেমকে সুখি দাসত্বের মুখোশে ঢেকে দিয়ে, সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে নিজের মনের ভেতরের মানুষটাকে মাটিচাপা দিয়ে, শুধুমাত্র পোষাকি সুখের সেলফি জীবনটাকে বেছে নেয়ার অকপট স্বীকারোক্তি হয়ে ফুটে উঠেছে স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ” অঙ্ক ” এর পর্দায়….!

পরিবর্তন মানুষের বিবর্তনীয় সাথী.. সময় আগলে ছুটতে চায় স্বপ্নের কালো ঘোড়া.. এই দুরন্ত প্রতিযোগিতার বিরাট আয়োজনে হয়তো এভাবেই হারিয়ে যাবে একদিন, জীবনবোধের সুন্দর সাদা ঘোড়ার চোখটি… আর সেই চোখের সাথে সাথে হারিয়ে যাবে হিসেবের খেলায় ক্লান্ত ফলাফলের আড়ালে মানুষের জীবনের অনুভূতির লাল – নীল ডাইরিটাও….!

সহ শিল্পী- মিলন মালিক, অর্নব দত্ত, সৌরভী ব্যানার্জি, সুফল সাহা, সৌমদীপ, সৈকত কর, অর্পণ লাহার পরিপূর্ণ দক্ষতায় শর্ট ফ্লিম “অঙ্ক” এর মাধ্যমে তরুণ ফ্লিমমেকার তার দর্শকদের ফিরে দেখার দর্শন ভাবনায় বলে দিয়ে গেলেন নির্মম এক ভবিষ্যৎ নির্মানের কথা, যাতে রুপকথা হয়ে আবার হয়তো ফিরে আসছে আদিম পারিবারিক জীবন প্রথা… নারী কিংবা পুরুষ… সেই গল্পে নিজেদের অজান্তেই বদলে নেবে নিজেদের জন্মগত বৈশিষ্টের জিন…! আদপে তখন হয়তো কাশ্মীরি বিরিয়ানির পুরোটাই একদিন হয়ে দাঁড়াবে সেদ্ধ চালের ভাত….!

সৌগত রাণা কবিয়াল
( কবি সাহিত্যিক ও কলামিস্ট )

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here