ইউরো কাপের ইতিহাস।

0
2050

১৯২৭ সালে, ফরাসি ফুটবল ফেডারেশনের মহাসচিব অঁরি দলোনে ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যকার একটি ফুটবল প্রতিযোগিতা আয়োজন করার সর্বপ্রথম একটি ধারণা প্রদান করেন, কিন্তু দলোনের মৃত্যুর তিন বছর পরে ১৯৫৮ সালের পূর্ব পর্যন্ত এই প্রতিযোগিতার কোন আসর অনুষ্ঠিত হয়নি।দলোনের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে, তার নামে এই প্রতিযোগিতার শিরোপার নামকরণ করা হয়েছিল। ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত ১৯৬০ সালের আসরে বাছাইপর্বে অংশগ্রহণকারী ১৭টি দলের মধ্যে সর্বমোট ৪টি দল চূড়ান্ত পর্বে অংশগ্রহণ করেছিল।১৯৬০ সালের ১০ই জুলাই তারিখে, প্যারিসের পার্ক দেস প্রিন্সেসে আয়োজিত এই আসরের ফাইনাল ম্যাচে সোভিয়েত ইউনিয়ন ২–১ গোলে যুগোস্লাভিয়াকে হারিয়ে এই প্রতিযোগিতার প্রথম বিজয়ী দল হয়েছে। দুটি রাজনৈতিক প্রতিবাদের কারণে স্পেন সোভিয়েত ইউনিয়নের বিপক্ষে তার কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচ থেকে সরে গিয়েছিল। এই আসরের বাছাইপর্বে অংশগ্রহণ করা ১৭টি দলের মধ্যে অনুপস্থিত থাকা উল্লেখযোগ্য দলগুলো হচ্ছে: ইংল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস, পশ্চিম জার্মানি এবং ইতালি।
পরবর্তী আসর ১৯৬৪ সালে স্পেনে অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেটির বাছাইপর্বে ২৯টি দল অংশগ্রহণ করেছে, যা পূর্ববর্তী আসর হতে ১২টি দল বেশি। পূর্ববর্তী আসরের মতো এই আসরেও পশ্চিম জার্মানি অনুপস্থিত ছিল এবং আলবেনিয়ার সাথে যুদ্ধ চলার কারণে আলবেনিয়ার সাথে ম্যাচ নির্ধারিত হওয়ায় গ্রিস এই আসর হতে নিজেদের নাম প্রত্যাহার করেছিল। ১৯৬৪ সালের ২১শে জুন তারিখে, মাদ্রিদের সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে আয়োজিত এই আসরের ফাইনাল ম্যাচে পূর্ববর্তী বিজয়ী সোভিয়েত ইউনিয়নকে ২–১ গোলে হারিয়ে স্পেন এই প্রতিযোগিতার শিরোপাজয়ী দ্বিতীয় দলে পরিণত হয়।
১৯৬৮ সালে অনুষ্ঠিত আসরেও এই প্রতিযোগিতার বিন্যাস একই রকম ছিল, যেটি ইতালিতে আয়োজিত হয়েছে। এই প্রতিযোগিতার ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এই আসরের ১ম সেমি ফাইনাল ম্যাচের (ইতালি বনাম সোভিয়তে ইউনিয়ন) ফলাফল মুদ্রা নিক্ষেপের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হয়েছে, যেটি ইতালি জয়লাভ করেছিল। ১৯৬৮ সালের ৮ই জুন তারিখে, রোমের স্তাদিও অলিম্পিকোতে আয়োজিত যুগোস্লাভিয়া এবং ইতালির মধ্যকার ফাইনাল ম্যাচটি অতিরিক্ত সময়ের পরও ১–১ গোলে ড্র হয়েছিল; তাই এর দুই দিন পর, ১০ই জুন তারিখে, এই ম্যাচটি পুনরায় আয়োজন করা হয়; যেখানে ইতালি ২–০ গোলের ব্যবধানে যুগোস্লাভিয়াকে হারিয়েছে।[১৯] এই আসরের বাছাইপরবে পূর্ববর্তী আসর হতে বেশি দল অংশগ্রহণ করেছে, যা এই প্রতিযোগিতার ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তার প্রমাণ।[২০]
পরবর্তী আসর ১৯৭২ সালে বেলজিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেটির বাছাইপর্বে ৩২টি দল অংশগ্রহণ করেছে, যা পূর্ববর্তী আসর হতে ১টি দল বেশি। ১৯৭২ সালের ১৮ই জুন তারিখে, ব্রাসেল্‌সের হেসল স্টেডিয়ামে আয়োজিত এই আসরের ফাইনাল ম্যাচে গের্ড ম্যুলার (২টি) এবং হের্বের্ট ভিম্মারের করা গোলের বিনিময়ে পশ্চিম জার্মানি ৩–০ গোলে সোভিয়েত ইউনিয়নকে হারিয়েছে। এই আসরের পরবর্তী বছরের আগত তারকা ফুটবলারদের এক ঝলক দেখা গিয়েছিল; ১৯৭৪ ফিফা বিশ্বকাপে জার্মানি দলে স্থান পাওয়া বেশ কয়েকজন ফুটবলার এই আসরে খেলেছিলেন।[২২][২৩]
১৯৭৬ সালে এই প্রতিযোগিতাটি যুগোস্লাভিয়ায় অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এই আসরেই সর্বশেষ বার চূড়ান্ত পর্বে ৪টি দল অংশগ্রহণ করেছিল এবং সর্বশেষ আসর যেখানে স্বাগতিক দলকে বাছাইপর্বের মাধ্যমে যোগ্যতা অর্জন করে হতো। ১৯৭৬ সালের ২০শে জুন তারিখে, বেলগ্রেডের রেড স্টার স্টেডিয়ামে আয়োজিত পশ্চিম জার্মানি এবং চেকোস্লোভাকিয়ার মধ্যকার ফাইনাল ম্যাচটি অতিরিক্ত সময় শেষে ২–২ গোলে ড্র হয়েছিল; অতঃপর সদ্য প্রয়োগকৃত পেনাল্টি শুট-আউটের মাধ্যমে চেকোস্লোভাকিয়া ৫–৩ গোলে পশ্চিম জার্মানিকে হারিয়েছে। সাতটি সফল পেনাল্টির পর, পশ্চিম জার্মানির উলি হোনেস গোল করতে ব্যর্থ করেন; যার ফলে চেকোস্লোভাকীয় আন্তোনিন পানেনকা গোল করে এই আসরটি জয়ের একটি দারুণ সুযোগ পান। একটি “দু: সাহসী” চিপ শট, যেটি উয়েফা দ্বারা “সম্ভবত সর্বকালের সবচেয়ে বিখ্যাত স্পট কিক” খেতাব লাভ করেছে, তার দল চেকোস্লোভাকিয়া এই প্রতিযোগিতার ইতিয়াসে প্রথমবারের মতো শিরোপা জয়লাভ করতে সাহায্য করেছিল।

।।সংগৃহীত গুগল।।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here