নিজের ঘরে ফিরে যাওয়ার আর্তি অসহায় বৃদ্ধার়,তৎপর যুবক।

0
232

সুভাষ চন্দ্র দাশ,ক্যানিং -বাড়ি থেকে বেরিয়ে পথ ভুলে আর বাড়িতে ফেরা হয়ে ওঠেনি।কিংবা পরিবারের কোন নিকট আত্মীয় বৃদ্ধা কে পথে ফেলে রেখে পালিয়েছে।দীর্ঘ প্রায় তিন বছর এখানে সেখানে কাটিয়েছেন। কথা ঠিক মতো বলতে পারেন না। বর্তমানে মানসিক ভাবে ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছেন। দীর্ঘ প্রায় দুবছরের অধিক সময় রয়েছে প্রত্যন্ত সুন্দরবনের ঝড়খালির পার্বতিপুর গ্রামে। এলাকার লোকজনেরই সেবায় বেঁচে রয়েছেন তিনি। নাম সূর্য্যমনি সরদার।স্বামীর নাম বিষম সরদার
ছেলের নাম গোপাল অথবা খোকন
ঠিকানা উত্তর ২৪ পরগনা জেলার সন্দেশখালি থানার ভোলাখালি গ্রাম।
আর কিছুই স্মরণ নেই।ঝড়খালি পার্বতিপুর এলাকায় বছর ৮৫ বয়সের ওই বৃদ্ধা যখন যাকে সামনে পেয়েছে তাকেই বলেছেন ‘আমার বাড়িতে দিয়ে আসবি চল না বাবা’।
বৃদ্ধার এমন আর্তনাদ শুনে একাধিকবার বৃদ্ধার দেওয়া ঠিকানায় খোঁজ খবর করেছেন স্থানীয় সমাজসেবী যুবক প্রশান্ত সরকার। কিন্তু কোন ঠিকানার হদিশ মেলেনি। অগত্যা সমাজসেবী প্রশান্ত সরকার ও পাড়া প্রতিবেশীরা মিলিত ভাবে বৃদ্ধার সমস্ত কিছুই দেখভাল করে থাকেন।পাশাপাশি বৃদ্ধার সঠিক ঠিকানা খুঁজে বের করার চেষ্টা চালাতে থাকেন।বয়সের ভারে বৃদ্ধা বর্তমানে ওই এলাকার ঠাকুমা হিসাবে পরিচিত।আনন্দে কাটলেও পরিবারের কথা মনে পড়লে বৃদ্ধার চোখে নেমে আসে জল। সকলকে অনুরোধ করে ‘আমি কি বাড়িতে ফিরবো না!’ বৃদ্ধার এমন আর্তনাদ শুনে ভারাক্রান্ত হয়ে পড়েন সমাজসেবী যুবক প্রশান্ত সরকার।তবে তিনি হাল ছাড়ার পাত্র নন।তিনি সোস্যাল মিডিয়া বৃদ্ধার একটি ছবি,নাম ঠিকানা পোষ্ট করেছেন সঠিক ঠিকানা পেয়ে বৃদ্ধা কে বাড়িতে পৌঁছানোর জন্য।
প্রশান্ত বাবুর দাবী ‘অনেক খোঁজাখুঁজি করে ঠাকুমার দেওয়া ঠিকানায় কিছুই পেলাম না।এবার সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার করে যদি ঠাকুমা কে বাড়িতে ফেরাতে পারি সেই কারণে সোস্যাল মিডিয়া একটি পোষ্ট করেছি। আশা করি এবার ঠাকুমা কে তাঁর পরিবারের হাতে তুলে দিতে পারবো।’
এখন দেখার বিষয় সমাজসেবী যুবকের ভাগ্য কতটা প্রসন্ন হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here