সপ্তাহখানেক হতে চললেও স্কুলমুখী ছাত্রদের থেকে ছাত্রীদের উৎসাহ দেখা গেলো সাঁকরাইল এর আজিজিয়া হাই মাদ্রাসায়।

0
231

প্রকাশ কালি ঘোষাল, হাওড়া : গত 16 ই নভেম্বর শিক্ষা দপ্তরের নির্দেশে সমস্ত স্কুল খোলায় ধীরে ধীরে স্কুলমুখী ছাত্র ছাত্রীদের পঠন-পাঠনে উৎসাহ দেখা যাচ্ছে বিভিন্ন স্কুল প্রাঙ্গনে । বৃক্ষ যেমন ফল এবং ফুলের মাধ্যমে তার মান দণ্ড ধরে রাখে, ঠিক তেমনি স্কুল অঙ্গন ছাত্র-ছাত্রীবৃন্দ বিহীন মানে ফল শূন্য বৃক্ষ সমূহ । দীর্ঘ দেড় বছর যাবত মহামারী করোনার ত্রাহি ত্রাহি রবের ফলে সারা ভারতবর্ষ তথা পশ্চিমবঙ্গের সমস্ত ইস্কুল বন্ধ ছিল। কেবলমাত্র শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং অশিক্ষক কর্মচারীরা তারাই আসতেন স্কুলে বিভিন্ন কাজের জন্য। আর সমস্ত ছাত্র-ছাত্রীদের অনলাইনে পঠন পাঠন চলছিল নিজ গৃহেতে । পশ্চিমবঙ্গ সরকার গত ১৬ নভেম্বর সমস্ত স্কুলে নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রছাত্রীদের স্কুলে আসার অনুমতি প্রদান করায় ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে একটা উৎফুল্ল উন্মাদনা দেখে মনে হল দীর্ঘদিন ধরে খাঁচায় বন্দি থাকা পাখিরা অবশেষে যেন মুক্তি পেল এমনই অভিমত শিক্ষাবিদদের । শিক্ষক-শিক্ষিকাদের চোখে-মুখে ফুটে উঠল উচ্ছ্বাসে ছবি । সাঁকরাইল থানা অন্তর্গত সাঁকরাইল আজিজিয়া হাই মাদ্রাসায় তেমনি চিত্র ধরা পরল আমাদের সব খবরের ক্যামেরায়। সেই ১৯২৫ সালে মহরুম আব্দুল আজিজ তরফদার মহাশয় একতলা ৩০ ইঞ্চি গাঁথুনি দিয়ে শুরু করেছিলেন মাদ্রাসা স্কুলের পথ চলা। তাঁর সেই সেবামূলক এবং এলাকায় পিছিয়ে পড়া ছেলেমেয়েদের এগিয়ে চলার পঠন-পাঠনের স্থানটি আজ মহীরুহে পরিণত হয়েছে কালের পরিবর্তনে। ধীরে ধীরে সেই জুনিয়ার মাদ্রাসা স্কুল হাই জুনিয়র মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৭৮ সালে এবং মাধ্যমিক স্তরে উপনীত হয় ২০০১ সালে, পরিশেষে উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের পদার্পণ করল ২০০৮ সালে । এইভাবে ধীরে ধীরে পথচলা আজিজিয়া হাই মাদ্রাসা স্কুলের। ধর্মীয় শিক্ষাকে পাথেয় করে বিজ্ঞানের তরীতে উঠে ধীর গতিতে সুনামের সহিত এগিয়ে চলেছে এই স্কুল। বর্তমানে লোয়ার থেকে উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে প্রায়২ হাজার ছাত্র-ছাত্রী সংখ্যা আছে জানালেন ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক মহাশয় । শিক্ষক-শিক্ষিকা ও অ শিক্ষক কর্মচারীর সংখ্যা মোট ৩২। বর্তমানে উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে কলা বিভাগের ক্লাস চলে জানালেন স্কুল কমিটির সম্পাদক আতিউর রহমান মল্লিক মহাশয়। আগামী দিনে যাতে বাণিজ্যিক বিভাগ এবং বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র-ছাত্রীদের পড়ানো যায় তার জন্য শিক্ষা দপ্তরের কাছে তারা আবেদন করেছেন। আমাদের মাধ্যমে সরকারের দৃষ্টিগোচরে আনার জন্য তিনি আবেদন করলেন চারতলা বিশিষ্ট বিদ্যালয়টির সিরি খুবই সরু এই সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামা করতে ছাত্র-ছাত্রীদের খুবই অসুবিধা হয় তার জন্য যদি বিদ্যালয়ের একটি সিঁড়ির ব্যবস্থা করা হয় তাহলে ছাত্র-ছাত্রীদের খুবই উপকৃত হয়। কম্পিউটার রুম থেকে আরম্ভ করে মাল্টি জিম পর্যন্ত সবই আছে এই স্কুলে। এলাকাবাসী, ছাত্র-ছাত্রীর অভিভাবকবৃন্দ, স্কুল পরিচালন পরিচালন কমিটি এবং শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সহযোগিতায় আগামী দিনে শিক্ষাঙ্গন আরো এগিয়ে যাবে এই আসা ভরসা রাখলেন মোঃ কামাল হোসেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মহাশয়। তার সঙ্গে তিনি ঈশ্বরের কাছে এই প্রার্থনা করলেন আগামী দিনে সারা পৃথিবী থেকে করোনা চিরতরে বিলুপ্ত হোক এবং শিক্ষাঙ্গন ছাত্র-ছাত্রীদের কলকাকলিতে ভরে উঠুক । স্কুলমুখী হোক সকল ছাত্র-ছাত্রী।।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here