সারদা নারদা নিয়ে বড় বড় কথা আর চিটফান্ডের মালিকের মাঠে জনসভা করছে প্রধানমন্ত্রী : মমতা।

Spread the love

নিজস্ব সংবাদদাতা, মথুরাপুরঃ —সারদা নারদা নিয়ে বড় বড় কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী আর নিজেই চিটফান্ড মালিকের মাঠে জনসভা করছেন বলে অভিযোগ তুললেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার দুপুরে দক্ষিণ ২৪ পরগণা জেলার মথুরাপুর লোকসভা কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী চৌধুরী মোহন জাটুযার সমর্থনে লক্ষীকান্তপুরে নির্বাচনী জনসভা করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায। সেই সভা থেকেই এ দিন প্রধানমন্ত্রীর সভাস্থল নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায। এ বিষয়ে অবিলম্বে তদন্ত করে পুলিশকে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলেন তিনি। রাজ্যে ৩২৪ ধারা জারি করে নির্বাচন কমিশন প্রচারের দিন কমিয়ে দেওয়ায় যথেষ্ট ক্ষুব্ধ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর সেই কারণেই মথুরাপুরের সভা শুরু থেকেই নির্বাচন কমিশন থেকে বিজেপি ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে একের পর এক আক্রমণ করেন তিনি। এদিনের সভায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন মথুরাপুর লোকসভা কেন্দ্রের সংসদ তথা এবারের তৃণমূল প্রার্থী চৌধুরী মোহন জাটুয়া, স্থানীয় বিধায়ক দেবশ্রী রায়, যোগরঞ্জন হালদার, জয়দেব হালদার সহ জেলা ও রাজ্য তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যান্য নেতৃত্বরা। এদিন মথুরাপুরের সভার পর ডায়মন্ড হারবারে তৃণমূল প্রার্থী অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এর সমর্থনে দ্বিতীয় সভা করার উদ্দেশ্যে রওনা দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মথরাপুর এ মুখ্যমন্ত্রীর সভার অদূরেই বৃহস্পতিবার বিকেল পাঁচটা নাগাদ সভা করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি মথুরাপুর লোকসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী শ্যামাপ্রসাদ হালদার এর সমর্থনে নির্বাচনী সভা করবেন। এদিন সেই সভাস্থল নিয়েই প্রশ্ন তোলেন মমতা।

নির্বাচন কমিশন বিজেপির ভাই আর সেই কারণেই নরেন্দ্র মোদী আর অমিত শাহের কথা শুনেই কাজ করছে কমিশন বৃহস্পতিবার দুপুরে মথুরাপুরের নির্বাচনী সভা থেকে এই ভাবেই নির্বাচন কমিশনকে আক্রমণ করেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুধু কমিশন কে আক্রমণ নয় এ দিন সফর শুরু থেকেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী অমিত শাহ কে একের পর এক আক্রমণ করেন তৃণমূল সুপ্রিমো। তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে মিথ্যেবাদী বলেও অবহিত করেন। কলকাতার রেলি করার নাম করে অমিত শাহ বহিরাগত বিজেপি দের নিয়ে এসে বিদ্যাসাগর কলেজে হামলা করেছে বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভেঙেছে বলেও দাবি করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আর সেই সমস্ত কিছু ভিডিও ফুটেজ এর মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে কিভাবে বিজেপি কলেজে হামলা চালিয়েছে। মূর্তি ভাঙ্গা প্রসঙ্গে নরেন্দ্র মোদী নতুন মূর্তি গড়ে দেওয়ার কথা বলেছিলেন বলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন। সেই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “নতুন মূর্তি আমরা অনেকেই বাংলা তে পারি, কিন্তু ভেঙে যাওয়া মুক্তির ঐতিহ্য তার সাথে জড়িত থাকা আবেগ সেটা কি বিজেপি কখনো ফিরিয়ে দিতে পারবে? নরেন্দ্র মোদী কখনো ফিরিয়ে দিতে পারবে?” নরেন্দ্র মোদি একের পর এক মিথ্যা কথা বলছেন বলেও দাবি করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেই কারণে এই মিথ্যাবাদী প্রধানমন্ত্রী কে কান ধরে উঠবস করানো উচিত বলেও মঞ্চ থেকে দাবি তোলেন তৃণমূল সুপ্রিমো। আর বাংলাকে কাঙাল বলার কারণে অমিত শাহ কে ও একহাত নেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “বাংলাকে কাঙাল বলেছেন এই বাংলার মানুষই আপনাদের শিক্ষা দেবে একটিও ভোট বাংলার মানুষ বিজেপিকে দেবে না।”

এরপর গত কয়েক বছরে এ রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের সরকার সাধারণ মানুষের জন্য কন্যাশ্রী রূপশ্রী সহ আরো সরকারি প্রকল্পের খতিয়ান তুলে ধরেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পাশাপাশি গত পাঁচ বছরে পেট্রোল ডিজেল থেকে শুরু করে জ্বালানি গ্যাস সবকিছু যেভাবে মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন মমতা। তাকে দমানোর জন্যই নির্বাচন কমিশন প্রচার এর দিন কমিয়েছে, কিন্তু তবুও তাকে কোনোভাবেই দমানো যাবে না বলে দাবি করেন তৃণমূল নেত্রী। তিনি বলেন, ” আমি বড় কঠিন জিনিস, এতো সহজে আমাকে দমানো যাবে না। এত কিছু করেও আমার প্রচার সভা কিছুই আটকাতে পারবেন না, আমি দু দিনের কাজ একদিনে করব”। এসবের পাশাপাশি স্ট্রং রুম থেকে বিজেপির লোকজন ইভিএম বদলে নিতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই কারণেই দলীয় কর্মী সমর্থকদের স্ট্রং রুমের আশপাশে ক্যাম্প করে রাত পাহারায় থাকার জন্য নির্দেশ দেন তিনি। এই কাজে মহিলাদের বেশি করে এগিয়ে আসার জন্য আবেদন জানান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মহিলাদের নিয়ে বঙ্গ বাহিনী তৈরীর কথা বলেন তিনি। এসবের পাশাপাশি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরো অভিযোগ তোলেন কেন্দ্রীয় বাহিনী কে কাজে লাগিয়ে দক্ষিণ ২৪ পরগনার প্রত্যন্ত গ্রামে গ্রামে ভোট কেনার চেষ্টা করছে বিজেপি ও আরএসএস-এর লোকজন। আরএসএস এর লোকজন এলাকায় অশান্তি ছড়াতে মাঝেমধ্যেই রাতের অন্ধকারে গুলি ছুড়ছে বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি।

সব মিলিয়ে এদিন মথুরাপুরে প্রায় ৪৫ মিনিট বক্তব্য রাখেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রবল রোদ উপেক্ষা করে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য শোনার জন্য আশপাশ থেকে বহু তৃণমূল কংগ্রেস কর্মী সমর্থক রা উপস্থিত হয়েছিলেন সভাস্থলে। এখন এটাই দেখার নরেন্দ্র মোদী এবং বিজেপিকে করা কটাক্ষের জবাব কিছুটা দূরে তৈরি হওয়া সভাস্থল থেকে কিভাবে দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সেই দিকে তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।


Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *