বাঘাযতীনের নামাঙ্কিত স্কুলে বাঘাযতীনের জন্মদিনে জুটলো না মালা, দোষ ঢাকতে মিথ্যার আশ্রয় স্কুলের।

0
208

নদীয়া, নিজস্ব সংবাদদাতা :- “বাঙালির রণ দেখে যা রে তোরা রাজপুত, শিখ,
মারাঠা, জাঠ বালাশোর— বুড়িবালামের তীর—
নব ভারতের হলদিঘাট ৷”— কাজী নজরুল ইসলাম।
বাঘা যতীনের নামাঙ্কিত স্কুলে তাঁরই জন্মদিনে জুটলো না মালা, সাংবাদিকদের ফোন পেয়ে পরের দিন মালা দিয়ে জন্মদিনের মালা বলে সংবাদমাধ্যমকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টার অভিযোগ, উঠছে প্রশ্ন ৷ ঘটনাটি নদীয়ার শান্তিপুরের বাবলা পঞ্চায়েতের অন্তর্গত মোল্লাবের বাঘাযতীন বিদ্যাপীঠ (উচ্চ মাধ্যমিক)-এর ৷ ঘটনার বিবরণে প্রকাশ 7 ডিসেম্বর ভারতবর্ষের মহান বিপ্লবী যতীন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের জন্মদিন ৷ বাঘাযতীনের নামাঙ্কিত হাওয়াই ওই স্কুলের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শঙ্কর শীল(TIC), বেশ কয়েকজন শিক্ষক এবং বিদ্যালয়ের সভাপতি 7 ডিসেম্বর রাতে জানান যে স্কুলে বাঘাযতীন এর জন্মদিন উপলক্ষে কোন অনুষ্ঠান করা হয়নি ৷ অথচ 8 ডিসেম্বর ওই স্কুলে গিয়ে বাঘাযতীনের জন্মদিন পালন করা এবং বাঘা যতীনের আবক্ষ মূর্তি স্থাপনের উদ্যোগ সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শঙ্কর শীল জানান যে 7 ডিসেম্বর বাঘাযতীনের জন্মদিন পালন করা হয়েছে ৷ তবে তিনি নাকি মিড ডে মিল নিয়ে ব্যস্ত থাকায় বাঘা যতীনের জন্মজয়ন্তী উদযাপন এর বিষয়টি দেখতে পারেননি ৷ অন্য শিক্ষকরা নাকি বাঘা যতীনের ছবিতে মালা দিয়েছেন ৷ যদিও তার কোন ছবি তারা দেখাতে পারেননি ৷ অথচ স্কুলের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন শিক্ষক এবং সভাপতি জানিয়েছেন 8 ডিসেম্বরই অর্থাৎ পরের দিনই নাকি মালা দেওয়া হয়েছে ৷ সংবাদমাধ্যমকে এভাবে বিভ্রান্ত করায় স্কুলের ভূমিকা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন ৷ মোল্লাবের অঞ্চলের স্থানীয় মানুষ জানিয়েছেন যে ভুল হতেই পারে, সেটি স্বীকার করে নিলে সমস্যা হওয়ার কথা নয় ৷ কিন্তু জন্মদিনের মালা পরের দিন গলায় দিয়ে জন্মদিনের মালা বলে চালানোর ঘটনা নিন্দনীয় ৷
প্রসঙ্গত 1879 সালের 7 ডিসেম্বর অধুনা বাংলাদেশের কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী থানার কয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন বাঘা যতীন ৷ যৌবনে নদীয়া জেলার এক গ্রামে বাঘের হানার হাত থেকে গ্রামের মানুষকে বাঁচাতে অসম্ভব সাহসী, দেহে অদ্ভুত শক্তি, পরোপকার করার অদম্য ইচ্ছার অধিকারী যতীন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় একটি ভোজালি নিয়েই বাঘ মারতে উদ্যোগী হয়েছিলেন ৷ মামাতো ভাই বন্দুক নিয়ে তার সঙ্গী হয়েছিলেন ৷ বাঘের সাথে প্রচন্ড লড়াইয়ে অবশেষে বাঘ মেরে গ্রামবাসীকে মুক্ত করেন যতীন্দ্রনাথ ৷ সেই থেকেই তাঁর নাম হয় বাঘাযতীন ৷ সেই বাঘাযতীন বৈপ্লবিক সংগঠন যুগান্তর দলের সাথে যুক্ত হয়ে দেশকে স্বাধীন করার শপথ নেন ৷ গুপ্ত সংগঠনের মাধ্যমে ব্রিটিশকে উৎখাত করার জন্য বিদেশি রাষ্ট্রের কাছ থেকে অস্ত্র কিনে ব্রিটিশ এর সাথে সম্মুখ সমরে অবতীর্ণ হওয়ার পরিকল্পনা করেন ৷ কিন্তু বিশ্বাসঘাতকদের জন্য ব্রিটিশের কাছে সে খবর চলে যায় ৷ জাহাজ করে অস্ত্র আসার পরিকল্পনায় ব্যাঘাত ঘটে ৷ ফলে 1915 সালের 9 সেপ্টেম্বর উড়িষ্যার বালেশ্বরের বুড়িবালাম নদীর তীরে চাষ খন্ডে বাঘাযতীন তার সঙ্গী চিত্তপ্রিয়, মনোরঞ্জন, জ্যোতিষকে নিয়ে তৎকালীন কুখ্যাত পুলিশ কমিশনারের সাথে সম্মুখ সমরে অবতীর্ণ হন ৷ ব্রিটিশ এর সাথে প্রবল যুদ্ধে চিত্তপ্রিয় গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করেন ৷ গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদের মৃত্যু বরণ করেন বাঘাযতীন ৷ অন্য তিনসঙ্গীর মনোরঞ্জন এবং নীরেনকে ফাঁসি দেওয়া হয় ৷ জ্যোতিষকে যাবৎ জীবন দ্বীপান্তর দেওয়া হয় আন্দামানে ৷ প্রচন্ড অত্যাচারে পাগল হয়ে বন্দী অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন তিনি ৷ তবে বাঘাযতীন এর লড়াইকে মাথার টুপি খুলে স্যালুট জানান কুখ্যাত পুলিশ অফিসার চার্লস টেগার্ট ৷

এহেন মহান বিপ্লবীর নামাঙ্কিত স্কুলে তার জন্মদিনে জুটলো না মালা ৷ মিথ্যার আশ্রয় নিতে হয় স্কুলের শিক্ষকদের ৷ এ বড় বেদনার ৷ স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা বাঘাযতীনের অবদান কিছুই বলতে পারলোনা ৷ তারা জানেনই না কেন বাঘা যতীনের নামে স্কুলের নামকরণ করা হয়েছে ? স্থানীয় মানুষ জানিয়েছেন নদীয়ার সাথে বাঘাযতীন এর মত বিপ্লবের সম্পর্ক থাকায় স্কুল প্রতিষ্ঠার সময় বাঘা যতীনের নামেই ওই স্কুলের নামকরণ করা হয় ৷ যদিও ওই স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শঙ্করবাবু এবং সভাপতি মন্টু দূর্লভ জানিয়েছেন যে, তারা বাঘা যতীনের আবক্ষ মূর্তি স্থাপনের বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে জানাবেন ৷

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here