বাঘের পিঠে চড়ে বসে নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে সঙ্গী কে বাঁচিয়ে নিজেও বাঁচলেন মৎস্যজীবি।

0
249

সুভাষ চন্দ্র দাশ,ক্যানিং – এক হাড়হিম করা রোমহর্ষক ঘটনা। পিঠে চড়ে বসে নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে প্রাণে বাঁচালেন সঙ্গী মৎস্যজীবিকে,প্রাণে বাঁচলেন নিজেও।হাড়হিম করা ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ লাগোয়া ভারতীয় ভূখন্ডের সুন্দরবনের হলদিবাড়ি নদীখাঁড়িতে। ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন মিহির সরদার ও বাবলু হালদার নামে দুই মৎস্যজীবি।
স্থানীয় সুত্রে জানাগিয়েছে কয়েকদিন আগেই হতদরিদ্র দুই মৎস্যজীবি ঝড়খালি ২ নম্বর গ্রামের বাড়ি থেকে ডিঙি নৌকা নিয়ে সুন্দরবনের নদীখাঁড়িতে কাঁকড়া ধরতে বেরিয়েছিলেন।বুধবার সন্ধ্যা নাগাদ ওই দুই মৎস্যজীবি হলদিবাড়ি নদীখাড়িতে নৌকায় বসে রান্না করছিলেন। সেই সময় সুন্দরবনের গভীর জঙ্গল থেকে একটি বাঘ বেরিয়ে আসে। আচমকা ঝাঁপিয়ে পড়ে মিহির সরদারের উপর। তার মুখে কাড়ম দিয়ে টানটে টানতে গভীর জঙ্গলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে।সেই মুহূর্তে কোন কিছু চিন্তা না করে নিজের প্রাণের মায়া উপেক্ষা করে সঙ্গী কে বাঁচানের জন্য উপর ঝাঁপিয়ে পড়েন বাবলু হালদার।সঙ্গী কে উদ্ধারের জন্য বাঘের পিঠে চড়ে বসে। চলে বাঘে মানুষের লড়াই।বাঘ তার শিকার কে ছেড়ে পাল্টা আক্রমণ করে বাবলু কে।বাবলু ও বাঘের আক্রমণে ক্ষতবিক্ষত হয়। দীর্ঘক্ষণ লড়াইয়ের পর পরিস্থিতি বেগতিক ঝুঝে বাঘ তার শিকার ছেড়ে দেয়।এরপর হুঙ্কার করতে করতে গভীর জঙ্গলে পালিয়ে যায় বাঘ।
সেখান থেকে কোনক্রমে সঙ্গী কে নৌকায় তোলে বাবলু।এক মুহূর্ত দেরী না করে দ্রুততার সাথে নৌকার হাল বেয়ে দীর্ঘ নদীপথ পাড়ি দিয়ে ঝড়খালি গ্রামে পৌছায়।সেখানে হাজীর হয় স্থানীয় এক চিকিৎসকের কাছে চিকিৎসার জন্য।মিহিরের অবস্থা সঙ্কটজনক হলে তাকে প্রথমে ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালে এবং পরে সেখান থেকে কলকাতার হাসপাতালে স্থানান্তরিত করে চিকিৎসকরা। অন্যদিক বাবলু হালদারের অবস্থা আশঙ্কাজনক হলে তাকে গোসাবা ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে স্থানান্তরিত করা হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here