রঙিন মাছ চাষে রাজ্যে নতুন দিশা দেখাচ্ছে ক্যানিং ১ ব্লক।

0
203

সুভাষ চন্দ্র দাশ,ক্যানিং – আন্তর্জাতিক স্তরে মাছের জন্য ক্যানিংয়ের সুনাম রয়েছে দীর্ঘদিন। সেই সুনামের পাশে আবারও একটি পালক নবনিযুক্ত হতে চলেছে। যা কিনা জেলা তথা রাজ্যে প্রথম।রঙিন মাছ। সকলের আদরের প্রিয় এই রঙীন মাছ অনেকেই শখ করে বাড়িতেই চাষ করে থাকেন।বর্তমানে সাধারণ মাছ চাষের পাশাপাশি প্রযুক্তিগত ভাবে রঙীন মাছ চাষ শুরু হয়েছে ক্যানিং ১ ব্লকের দিঘীরপাড় গ্রাম পঞ্চায়েতের ট্যাংরাখালি কয়ালপাড়া এলাকায়।ক্যানিং ১ ব্লক মৎস্য দফতরের সহযোগিতায় প্রায় এক বিঘা পুকুরে এই রঙীন মাছ চাষ শুরু হয় গত দুমাস আগে।স্থানীয় বাসিন্দা অভিজিৎ কয়ালের পুকুরে এই রঙীন মাছ চাষ করেছেন মৎস্যচাষী বিকাশ সাউ।
জানাগেছে গত প্রায় দুমাস আগে এক ইঞ্চি সাইজের গোল্ড ফিশ,ডিসকাস,অসকাস,রেড ক্যাপ,রেড আই,মিল্কি,বার্ব প্রজাতির রঙীন মাছের এক লক্ষ চারা ছাড়া হয় একবিঘা পুকুরে।কোন প্রকার রাসায়নিক সার,ওষুধপত্র ছাড়া সেই মাছ গত পঞ্চাশ দিনে বেশ ভালো পরিমাণ বেড়ে উঠেছে। যার বর্তমান সাইজ এক একটির আড়াই ইঞ্চি।
বিশেষ করে খোলা পুকুরে রঙীন মাছের এমন অস্বাভাবিক বাড়বাড়ন্তে নতুন দিশা খুজে পেয়েছেন ক্যানিং এক ব্লক মৎস্যদফতর ও মাছ চাষী।খোলামেলা পুকুরে প্রাকৃতিক খাবার খেয়ে সাধারণত রঙীন মাছ কম সময় এতো বেশি পরিমাণ বাড়তে পারে তা এক অবিশ্বাস্য ব্যাপার।
বৃহষ্পতিবার এমন রঙীন মাছ চাষ সম্পর্কে খোঁজ খবর নিতে সরাসরি মাছ চাষের পুকুরপাড়ে হাজীর হয়েছিলেন ক্যানিং ১ বিডিও শুভঙ্কর দাস,ক্যানিং ১ ব্লক মৎস্য আধিকারীক অরুন কুমার দেব,কৃষি দফতরের সহকারী অধিকর্তা শঙ্কর দেব গায়েন।
ক্যানিং ১ বিডিও শুভঙ্কর দাস বলেন ‘এত বিশাল বড় পুকুরে লক্ষাধিক পরিমাণ রঙীন মাছ চাষ হয়েছে তা আশ্চর্জনক ব্যাপার। তবে যে প্রযুক্তিগত পদ্ধতিতে মাছ চাষ হয়েছে এবং যে ভাবে দ্রুততার সাথে বৃদ্ধি ঘটছে তা আগামী দিনে জেলা তথা রাজ্যস্তরে ব্যাপকভাবে সাড়া ফেলবে এবং রঙীন মাছ চাষে ক্যানিং ১ ব্লক ইতিহাস সৃষ্টি করবে’।
ক্যানিং ১ ব্লকের মৎস্য অধিকর্তা অরুন কুমার দেব জানিয়েছেন ‘অন্যান্য মাছ চাষের পাশাপাশি চাষীদের মাধ্যমে আমরা রঙীন মাছ চাষ শুরু করছিলাম। কারণ রঙীন মাছে কদর রয়েছে বাজারে।রঙীন মাছ চাষ করে খুব কম সময়ে বেশী মুনাফা অর্জন করা সম্ভব। এছাড়াও রঙীন মাছ চাষ অতি লাভজন এবং স্বনির্ভরতার একটা দিক।ক্যানিং এক ব্লকে রঙীন মাছ চাষে সফলতা পাওয়ায় আগামী দিনে এই রঙীন মাছ চাষের প্রতি সাধারণ মানুষের ঝোঁক বাড়বে এবং কর্মসংস্থানও বাড়বে।এছাড়াও খোলা পুকুরে রঙীন মাছ চাষে চাষী কোন প্রকার বাইরের খাবার দেন নি। তাছাড়াও বাজারের রঙীন মাছের তুলনায় পুকুরে চাষ করা মাছের রঙ অতি উজ্জ্ল।ফলে ক্যানিং ব্লকের অন্যান্য জায়গায় চাষীরা যাতে করে রঙীন মাছ চাষে আগ্রহী হয় সে ব্যাপার আরো বেশি করে উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। ’
অন্যদিকে ক্যানিং ১ ব্লক সহকারী কৃষি দফতরের অধিকর্তা শঙ্কর দেব গায়েন বলেন ‘রঙীন মাছ চাষ করে চাষী কে কোন প্রকার ঝুঁকি নিতে হবে না। মাছ বড় হলেই ক্রেতারা সরাসরি চষীর পুকুরে হাজীর হবেন এবং ন্যায্যমূল্যে বিক্রি করে লাভবান হবেন।।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here