কয়েক আগের ঘটনা। সেই বিপিন রাওয়াত আর নেই! ভাবতেই পারছেন না হলদিয়ার অনির্বাণ দাস,হতাশও।

0
182

নিজস্ব সংবাদদাতা,পশ্চিম মেদিনীপুর:- সেনাকে প্রদান করে ছিলেন বিস্ময় জুতো। তাঁর আবিষ্কার দিয়ে তাক লাগিয়ে ছিলেন পূর্ব মেদিনীপুর জেলার হলদিয়ার গবেষক অনির্বাণ দাস, তাঁর কাজ দেখে উচ্ছ্বসিত হয়ে ছিলেন সিডিএস বিপিন রাওয়াত, তার এই কর্মকাণ্ড দেখে তরুণ বিজ্ঞানীকে নিজের হাতে তুলে দিয়ে ছিলেন শংসাপত্র। এই তো মাস কয়েক আগের ঘটনা। সেই বিপিন রাওয়াত আর নেই! ভাবতেই পারছেন না হলদিয়ার অনির্বাণ দাস। আবার এই খবরে তিনি হতাশও। জানালেন তাঁর ব্যক্তিগত ক্ষতি হল। মাত্র পাঁচ মাস আগে বিপিন রাওয়াতেরর সঙ্গে দেখা হয় হলদিয়ার এই তরুণ গবেষকের। তার পর একসঙ্গে পাশাপাশি দাঁড়িয়ে ফটো সেশন। এমনকি নিজের হাতে অনির্বাণকে শংসাপত্র তুলে দেন সিডিএস বিপিন রাওয়াত। এখনও চোখ বুজলেই অনির্বাণের মনে পড়ে সেই দৃশ্য। তাঁর জীবনের অন্যতম দিন ছিল সেটা। অনির্বাণের গবেষণা মূলক কাজে দারুণ খুশি হয়ে ছিলেন রাওয়াত। তবে এখনও সম্পূর্ণ স্বীকৃতি পায়নি হলদিয়ার গবেষক অনির্বাণ দাসের আবিষ্কৃত সেই ‘অবাক জুতো’। তার মধ্যে বুধবার বিপিন রাওয়াতের মৃত্যুতে কার্যত ভেঙে পড়লেন অনির্বাণ বাবু। কেয়ার ফ্রি সোল। রোবটিক্সের সেন্সর টেকনোলজি সমৃদ্ধ একটি জুতো। যা সিয়াচেনের মাইনাস ৫৭ ডিগ্রিতেও সমান কার্যকরী। প্রবল শৈত্যেও এই জুতো থেকে উৎপন্ন কম্পন এবং তাপশক্তি সহায়তা করবে শরীরের রক্ত সঞ্চালনে। হলদিয়ার তরুণ গবেষক অনির্বাণ দাসের এই উদ্ভাবনীকে ইতিমধ্যে স্বীকৃতি দিয়েছে ইনস্টিটিউট অফ ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ার্স সংস্থা। সম্প্রতি দিল্লির এই সংস্থার তরফে ‘বেস্ট ইনোভেটর’ পুরস্কারও দেওয়া হয়েছে অনির্বাণ বাবুকে। হলদিয়ার চৈতণ্যপুরের বাসিন্দা কলকাতার ইউনিভার্সিটি অফ ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড ম্যানেজমেন্টের অধ্যাপক ও ইনোভেশন কাউন্সিলের ভাইস প্রেসিডেন্ট অনির্বাণ বাবুর এই বিস্ময় জুতোকে সেনাবাহিনীর কাজে কীভাবে ব্যবহার করা যায়, সে বিষয়ে শুরু হয়েছে চিন্তাভাবনা। তাঁর আবিষ্কারের তারিফ করে ছিলেন স্বয়ং বিপিন রাওয়াত। সেই স্মৃতি জ্বলজ্বল করছে অনির্বাণবাবুর মনে। যদিও তাঁর এই আবিষ্কার কবে সম্পন্ন ভাবে দেশের জওয়ানদের পায়ে শোভা পাবে তার অপেক্ষায় তিনি। কয়েক মাস আগে যে মানুষটির কাছে তারিফ পেয়ে ছিলেন তাঁর এমন আকস্মিক প্রয়াণ কিছুতেই যেন মানতে পারছেন না অনির্বাণ বাবু।
প্রসঙ্গত, তামিলনাড়ুর কুন্নুরে ভেঙে পড়ে ভারতীয় বায়ুসেনার এমআই-১৭ভি ৫ হেলিকপ্টার। তাতে ছিলেন সিডিএস জেনারেল বিপিন রাওয়াত ও তাঁর স্ত্রী-সহ কয়েকজন উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা। প্রাণ হারান বিপিন রাওয়াত। সিডিএস বিপিন রাওয়াতের হেলিকপ্টারটি এদিন সুলুর বায়ুঘাঁটি থেকে ওয়েলিংটনের দিকে যাচ্ছিল। যে ভাবে হেলিকপ্টার ভেঙে পড়েছিল, তাতে উদ্বেগ ক্রমশ বাড়ছিল। তারই মধ্যে সন্ধ্যা নাগাদ বায়ুসেনার তরফে জানানো হয়, তামিলনাড়ুতে হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় প্রয়াত হয়েছেন সিডিএস জেনারেল রাওয়াত। মৃত্যু হয়েছে তাঁর স্ত্রী মধুলিকা রাওয়াতেরও। তাছাড়া ১১ জন আধিকারিক মারা গিয়েছেন। জানা গিয়েছে, এর মধ্যে রয়েছেন এই রাজ্যের বাসিন্দা সৎপাল রাই-ও। এক কথায় বলা যেতে পারে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সারাদেশ শোকাহত।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here