উপার্জন বন্ধের ঘাটতি পূরণ করতে মহিলা যৌনকর্মী এবং রূপান্তরকামীদের পাসে সহযোগিতার হাত।

0
406

নদীয়া, নিজস্ব সংবাদদাতা:- উপার্জন বন্ধের ঘাটতি পূরণ করতে মহিলা যৌনকর্মী এবং রূপান্তরকামীদের করোনার প্রকোপ চলছে গোটা রাজ্য জুড়ে তার মধ্যেই ওমিক্রণের থাবা। সংক্রমণ রোধে প্রশাসনিক একাধিক বিধিনিষেধ এবং নিয়মকানুন চালু হয়েছিলো পুনরায়।
প্রত্যেক পেশায় বহু মানুষ কর্মহীন হলেও, কিছু পেশা আছে যা সমাজের মূল স্রোতে এসে অন্যান্য কাজকর্ম করে উপার্জন করার সামাজিক নানা বাধার সম্মুখীন হন। যার মধ্যে অন্যতম যৌনকর্মী এবং তৃতীয় লিঙ্গের বেশ কিছু মানুষ প্রশাসনের নির্দেশেই অতীতে নিজেদের পেশা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন‌। সে সময়ও একবার চাল ডাল এবং অন্যান্য শুকনো খাদ্যদ্রব্য দিয়ে সহযোগিতা করেছিলেন জেলা প্রশাসন। এই পেষার ক্ষেত্রে অপরিচিতদের অত্যন্ত কাছে আসা এবং শারীরিক স্পর্শ আবশ্যকীয় হওয়ার কারণে করোনা সংক্রমনের ঝুঁকিও অনেক বেশি থাকে। যদিও ফ্রন্টলাইন ওয়ার্কার দের সাথে প্রথম ধাপেই তাদের দুটি প্রতিষেধক টিকা সম্পন্ন হয়েছে ইতিমধ্যেই। আর্থিক দিক থেকে কিছুটা সহযোগিতা করতেই আবারো জেলা সমাজ কল্যাণ দপ্তরের সহযোগিতায় শান্তিপুর সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক প্রণয় মুখোপাধ্যায় এবং বিধায়ক ব্রজকিশোর গোস্বামী আজ শান্তিপুর ম সিআর দাস রোড ব্রহ্মা তলা এলাকার 253 জন মহিলা যৌনকর্মী এবং শান্তিপুরের মোট 15 জন রূপান্তরকামী কি 5 কেজি চাল এবং 1 কেজি মসুরির ডাল তুলে দেন।
বিধায়ক ব্রজকিশোর গোস্বামী জানান, যদিও প্রয়োজনের তুলনায় সামান্য, তবু কিছুটা হলেও হয়তো দুশ্চিন্তা মুক্ত হতে পারবেন তারা। তবে সমস্ত রকম স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে অল্পদিনের মধ্যেই। এদিন সাধারণের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, শুধু নিজের জন্যই নয় বিভিন্ন পেশায় অর্থনৈতিক সঙ্কটের রয়েছেন বহু পরিবার তাদের কথা ভেবে নিজেকে মেনে চলতে হবে স্বাস্থ্যবিধি, আর সকলের সচেতনতায় নির্মূল হবে করোনা। এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন দুর্বার মহিলা সমন্বয় কমিটির প্রোগ্রাম অফিসার পৌলমী নন্দী,এমিনি কাম একাউন্টেন্ট অফিসার তুষার কান্তি ঘোষ, কাউন্সিলর সুমন মন্ডল।
অন্যদিকে রূপান্তরকামীদের রানাঘাট নদিয়া সম্প্রীতি সংগঠনের পক্ষ থেকে রিংকি ঘোষ সরকারি এ ব্যবস্থা এবং শান্তিপুর দুর্বার সমিতির প্রতি কৃতজ্ঞতা স্বীকার করেছেন। মহিলা যৌনকর্মীদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এ সময় পাশে দাঁড়ানোতে তারা প্রত্যেকেই খুশি।