প্রথম বাঙালী হিসাবে সিআরপিএফ ডেপুটি কমাড্যান্ট দিলীপ মালিক পেলেন ‘শৌর্যচক্র’।

0
470

সুভাষ চন্দ্র দাশ,ক্যানিং – বিশ্বকবি হিসাবে রবীন্দ্র নাথ ঠাকুর নোবেল পুরষ্কার পেয়ে দেশ তথা বাঙালী কে একরাশ সম্মান এনে দিয়েছিলেন।আজও আসমুদ্র হিমাচল সেই ইতিহাস অমরত্ব এবং প্রবাহমান।এবার প্রজাতন্ত্র দিবসে বাংলার একঝাঁক বিশিষ্ট মানুষজনকে বিভিন্ন সম্মানে ভূষিত করেছে কেন্দ্র। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন সিআরপিএফ এর বেঙ্গল সেক্টরের ডেপুটি কমান্ড্যান্ট দিলীপ মালিক।যিনি প্রাণের মায়া উপেক্ষা করে দেশের একাধিক মাওবাদী ও জঙ্গি উপদ্রুত এলাকায় অত্যন্ত দক্ষতার সাথে কাজ করেছেন।আর তার সেই কাজের দুর্লভ স্বীকৃতি স্বরূপ তাঁকে দেওয়া হয়েছে শৌর্যচক্র সম্মান।
হুগলির জগন্নাথপুর গ্রামে বড় হওয়া দিলীপ মালিক সিআরপিএফ-এর সাব-ইন্সপেক্টরের পদে যোগ দেন ১৯৯০ সালে।দক্ষতা এবং দৃঢ়তার সাথে কঠিন পরিশ্রম করে ১৯৯৮ সালে ইন্সপেক্টর ও ২০০৬ সালে অ্যাসিস্ট্যান্ট কমান্ড্যান্ট পদে উন্নিত হন। ২০১৩ সালে পদোন্নতি পেয়ে ডেপুটি কমান্ড্যান্ট পদে স্থলাভিষিক্ত হন।
দীর্ঘ প্রায় ত্রিশ বছর তাঁর কর্মময় জীবনের মধ্যে ২১ বছর তাঁর কেটেছে ছত্তীসগড়, ঝাড়খণ্ড, গড়চিরৌলির মতো নকশাল প্রভাবিত ও জম্মু-কাশ্মীরের মতো জঙ্গি উপদ্রুত এলাকায়। সিআরপিএফ এর ১৫৬ নম্বর ব্যাটেলিয়ানে থাকাকালীন ১৬ উলফা-সহ একাধিক কেএনএলএফ, এনএসসিএম জঙ্গিকে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য করতে সফল হয়েছিলেন।
তাঁর অসীম সাহস আর নিপূণ দক্ষতায় খোদ বাংলার বুকে বাংলায় ২১ জন মাওবাদী আত্মসমর্পণ করে। পাশাপাশি কিষেণজির এনকাউন্টারের ক্ষেত্রে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল অপরিসীম। এছাড়াও পশ্চিমবঙ্গ ও বিহারের ২০০ মাওবাদী কে গ্রেফতারের অন্তরালে মুখ্য ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন বাঙালী বীর দিলীপ মালিক।
কোবরা ব্যাটেলিয়ানে থাকাকালীন বিহারের নওয়াদা জেলায় এনকাউন্টারের মারা যায় ৪ কুখ্যাত মাওবাদী। উদ্ধার হয় বিপুল আগ্নেয়াস্ত্র। সেই সাফল্যের জন্য তাঁকে ২০১৯ সালে পুলিশ মেডেল দিয়ে সম্মানিত করা হয়। এবার ৭৩ তম প্রজাতন্ত্র দিবসে পেলেন শৌর্যচক্র সম্মান। এছাড়াও চাকরি জীবনে উল্লেখযোগ্য কাজের জন্য বিভিন্ন সময়ে দিলীপ বাবু পেয়েছেন অজস্র সম্মান। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ‘মেরিটোরিয়াস সার্ভিস মেডেল’ , ‘গ্যালান্ট্রি মেডেল’ , ‘অতি উৎকৃষ্ট সেবা পদক’।
এবার শৌর্যচক্র সম্মানে সম্মানিত হওয়ায় আরো একবার বাঙালী বুক গর্বে ভরে উঠেছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।