মীরা দত্তগুপ্ত, ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের এক বিপ্লবী ও জননেত্রী, জন্মদিনে শ্রদ্ধাঞ্জলি।

0
244

ভূমিকা—-

ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলন ছিল কিছু মানুষের অব্যর্থ পরিশ্রম যার ফলেই ব্রিটিশদের থেকে ভারত রাজনৈতিক দিক থেকে মুক্তি পেয়েছে। ভারত উপমহাদেশের বিংশ শতাব্দীতে ব্রিটিশ সম্রাজ্যবাদ বিরোধী যে সশস্ত্র বিপ্লববাদী লড়াই-সংগ্রাম সংগঠিত হয় এবং যার ধারাবাহিকতায় ভারত স্বাধীন হয়, তার মূলে যে সকল বিপ্লবীর নাম সর্বজন স্বীকৃত তাঁদের মধ্যে মীরা দত্তগুপ্ত প্রথমসারির একজন অন্যতম বিপ্লবী ছিলেন।ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রাম শুধু শহীদ ভগৎ সিং-এর মতই নয় বরং শক্তিশালী নারীদের দ্বারা প্রশস্ত হয়েছিল যারা তাদের মাটিতে দাঁড়িয়েছিল এবং দেশের স্বাধীনতা অর্জনের জন্য ব্রিটিশদের সাথে লড়াই করেছিল। মীরা দত্তগুপ্ত  ভারতীয় উপমহাদেশের ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনে এক উল্লেখযোগ্য নাম, যিনি দেশমতৃকার শৃঙ্খল মুক্তির জন্য নিজেকে সঁপে দিয়েছিলেন সম্পূর্ণ রূপে। ভারতীয় উপমহাদেশের ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের একজন ব্যক্তিত্ব ও অগ্নিকন্যা ছিলেন  মীরা দত্তগুপ্ত ।

  জন্ম ও পরিবার——

  মীরা দত্তগুপ্ত ১৯০৬ সালে ঢাকা শহরে জন্মগ্রহণ করেন। কিন্তু পৈতৃক জমি ছিল বিক্রমপুরের জৈনসার গ্রামে।  তাঁর পিতার নাম শরৎকুমার দত্তগুপ্ত।  পিতার আদর্শে প্রভাবিত হয়ে তিনি রাজনীতিতে যোগ দেন।  তার পিতামাতার মনোভাব ছিল দেশপ্রেম।

  শিক্ষাজীবন—

  মীরা দত্তগুপ্ত বেথুন কলেজের মেধাবী ছাত্রী।  ১৯৩১ সালে পাটিগণিতের এমএ পরীক্ষায় তিনি প্রথম শ্রেণীতে দ্বিতীয় হন।  এরপর বিদ্যাসাগর কলেজে শিক্ষকতা শুরু করেন।

  রাজনৈতিক জীবন—–

  পড়াশোনার সময় তিনি বিপ্লবী পার্টিতে যোগ দেন।  বেনু পত্রিকার মহিলা বিভাগের দায়িত্বে ছিলেন।  কিছুদিন ‘সাউথ ক্যালকাটা গার্লস অ্যাসোসিয়েশন’-এর সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।  নারী আন্দোলন গড়ে তুলতে কাজ করেছেন।  ১৯৩৩ সালে তার গতিবিধি পুলিশের নজরে আসে।  ১৯৩৭ থেকে ১৯৫২ সাল পর্যন্ত তিনি দুইবার আইনসভার সদস্য নির্বাচিত হন।  ১৯৪২ সালে আন্দোলনের সময় তিনি অর্থ সংগ্রহ করে বিপ্লবীদের দিয়েছিলেন।  ১৯৪৬ সালে তিনি জেল থেকে বেরিয়ে ‘ফরওয়ার্ড ব্লক’ গঠন করেন।

  মৃত্যু—-

  মীরা দত্তগুপ্ত ১৭ জানুয়ারি ১৯৮৩ সালে মারা যান।

।।তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।