ঝিঙে পটল (ধারাবাহিক, ষষ্ট পর্ব) : দিলীপ রায় (+৯১ ৯৪৩৩৪৬২৮৫৪)।

0
464

সকালবেলায় উঠে সোজা নোনাই নদীর বাঁধে । আগেরদিন গদাই খুড়ো তাড়াতাড়ি বাঁধের কাজে পৌঁছাতে অনুরোধ করেছিলেন । কেননা আজ বি-ডি-ও সাহেব বাঁধের কাজ সরেজমিনে দেখতে নোনাই নদির বাঁধে আসবেন । পটল পৌঁছানো মাত্রই মনোহরকে ডেকে বললেন, “পটল এসে গেছে । তোমার টীমে কারা আছে তাদের ডেকে নিয়ে সোজা কাজের স্পটে যাও এবং কাজ শুরু করো । খুব শীঘ্রই বি-ডি-ও সাহেব এসে পড়বেন । তিনি আসার পর সব অগোছালো দেখলে বিরক্ত হবেন । সেই ক্ষেত্রে আমাদের বদনাম ! সুতরাং শিগ্‌গির কাজে লেগে যাও মনোহর ।“
পটল ও তার অধীনের ছয়জন দিনমজুর নিয়ে মাটি কাটার কাজে নেমে পড়লো মনোহর । অর্ধেক ঝুড়ি মাটি মাথায় নিয়ে পটলা বাঁধে ফেলছে । চারিদিকে কাজের তৎপরতা তুঙ্গে । প্রচুর মানুষ নোনাই নদীর বাঁধ মেরামতির কাজে নিয়োজিত । যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ চলছে । বর্ষার আগে মেরামতির কাজ শেষ করতে হবে । গদাই খুড়ো এ-প্রান্ত থেকে সে-প্রান্ত ঘুরে বেড়াচ্ছেন । তদারকিতে যেন কোনোরকম ঢিলেমি না ঘটে ।
জীপ থেকে বি-ডি-ও সাহেব নামলেন । খবর পাওয়া মাত্র গদাই খুড়ো ছুটলেন । একেই তাঁর বিশাল ভুঁড়ি । ভুঁড়ি নিয়ে বাঁধ দিয়ে ছোটা তাঁর পক্ষে খুব কষ্টকর । কিন্তু উপায় নেই । সরকারি বড় অফিসার বি-ডি-ও সাহেব বলে কথা । বি-ডি-ও সাহেবকে আপ্যায়নে ত্রুটি ঘটলে গদাই খুড়োর কাজের বরাতের উপর কোপ পড়বে । তাতে হিতে বিপরীত হওয়ার সম্ভাবনা । ভবিষ্যতে তার কপালে সরকারি কাজের সুযোগ বন্ধ হয়ে যেতে পারে । সরকারি বরাদ্দ বন্ধ হলে গদাই খুড়ো যেভাবে করে-কম্মে খাচ্ছিলেন সেটাও বন্ধ হয়ে যাবে । যদিও সকলের জানা, বর্তমান পঞ্চায়েতের একশ দিনের কাজ গদাই খুড়ো সামলান । সুতরাং তাঁর কাছে এই মুহূর্তে বি-ডি-ও সাহেবকে তোয়াজ করে চলা তাঁর দায়িত্বের মধ্যে পড়ে !
“আসুন স্যার । কী খাবেন স্যার । ঠাণ্ডা খান স্যার । যা গরম পড়েছে, তাতে ঠাণ্ডা খাওয়াই যুক্তিযুক্ত ।“ গদাই খুড়ো আগেভাগেই ঠাণ্ডার ব্যবস্থা করে রেখেছিলেন । গদাই খুড়োর পেছন পেছন ঠাণ্ডা নিয়ে ঘুরছিল দীনহরি ।
বি-ডি-ও সাহেব বললেন, “ঠাণ্ডা নয়, এক কাপ চা হলেই খুশী ।“ তারপর পটলের দিকে চোখ পড়তেই বি-ডি-ও সাহেব গদাই খুড়োকে বললেন, “শিশুদের মাটি কাটার মতো কঠিন কাজে লাগিয়েছেন কেন ? আপনি তো জানেন, অল্প বয়সের শিশুদের দিয়ে কাজ করানো গর্হিত কাজ । নালিশ হলে শিশু শ্রমিক কাজে লাগানোর অপরাধে আপনার শাস্তি পর্যন্ত হতে পারে ।“
বি-ডি-ও সাহেবের কড়া কথা শুনে ক্যাবলা কার্তিকের মতো হাসলেন গদাই খুড়ো । তারপর মাথা নেড়ে বললেন, “কাল থেকে ঐ ছেলেকে আর কাজে লাগাবো না স্যার ।“
সব জেনে-শুনে কেন তাকে কাজে লাগিয়েছিলেন ?
ছেলেটা খুব গরীব, স্যার । তার নিজস্ব বাড়ি ঘর নেই । বাজারসৌ স্টেশনের প্লাটফর্মে শুয়ে রাত কাটায় । তা ছাড়া তার একটি ছোট বোন আছে । সেই বোনকে বসিয়ে রেখে মাটি কাটার কাজ করে । ছেলেটি খেটে খেতে আগ্রহী ।
বি-ডি-ও সাহেব ডাকলেন পটলকে, “কোথায় থাকো ?”
বাজারসৌ স্টেশন প্লাটফর্মে ।
প্লাটফর্মে কেন ? তোমার বাড়ি কোথায় ?
বাড়ি-ঘর ছিল স্যার । শালিকডাঙ্গা বাঁকের বিলাসপুর গ্রামে । কিন্তু সেখান থেকে তাড়িয়ে দিয়েছে স্যার । এখন প্লাটফর্ম ভরসা ।
পটলের জীবনের সমস্ত খবর জেনে বি-ডি-ও সাহেবও বিষণ্ণ । তারপর গদাইকে ডেকে বললেন, “ছেলেটাকে হাল্কা কাজ দিন । নতুবা মাটি কাটার মতো কষ্টকর কাজ করার ফলে নিমেষেই তার শারীরিক স্থিতাবস্থা হারিয়ে ফেলবে । তা ছাড়া কঠিন রোগেও পড়তে পারে । তখন পটলকে নিয়ে যমে মানুষে টানাটানির পরিস্থিতি দাঁড়াতে পারে । সুতরাং খুব সাবধান ! আমার মতে, ছোট ছেলেটাকে মাটি কাটার মতো কঠিন কাজে না লাগালেই বরং মঙ্গল ।“
গদাই খুড়ো মাথা নেড়ে বি-ডি-ও সাহেবের কথা মেনে নিলেন ।
বাঁধের কাজের গতি দেখে বি-ড-ও সাহেব খুব খুশী । তিনি গদাই খুড়োর কাজের তারিফ করে বললেন, “এবার বর্ষায় নোনাই নদীর বাঁধ ভেঙ্গে যেন গৌরীনগর গ্রামের চাষের জমি ডুবে না যায় । তাহলে কিন্তু সর্বনাশ ! এই চাষের উপর গাঁয়ের অতগুলি পরিবারের সারা বছরের ভরণ পোষণ । সুতরাং বাঁধ মেরামতির কাজে কোনোরকম খামতি বরদাস্ত করা হবে না ।“
“যথা আজ্ঞা স্যার !” গদাই খুড়ো হাত জোড় করে বি-ডি-ও সাহেবকে আশ্বস্ত করলেন ।
তারপর বি-ডি-ও সাহেব চলে যাওয়ার পর গদাই খুড়ো হাফ ছেড়ে বাঁচলেন ! বি-ডি-ও সাহেব বাঁধের মেরামতির কাজ সরেজমিনে তদন্ত করতে আসার জন্য গদাই খুড়ো খুশীতে টগবগ । তা ছাড়া বি-ডি-ও সাহেব বাঁধের কাজের গতির প্রশংসা করায় খুড়ো সবাইকে টিফিনের পর ছুটি দিয়ে দিলেন । তবে পটলকে ডেকে বললেন, “বি-ডি-ও সাহেবের নির্দেশ, তোমাকে আর কাজে রাখা যাবে না । এই প্রসঙ্গে আমার পরামর্শ – যতদিন তুমি বিকল্প কাজ খুঁজে না পাচ্ছ ততদিন এখানে কাজ চালিয়ে যাও । আমরাও তোমার বিকল্প কাজের খোঁজখবর নিচ্ছি ।“
পটল মাথা নেড়ে তার সম্মতি জানালো । তারপর বোনকে নিয়ে সোজা বাজারসৌ স্টেশন । সূর্য পশ্চিমাকাশে ঢলে পড়েছে । দুপুরে তাদের খাওয়া হয়নি । বোনের প্রচণ্ড খিদে । কিন্তু বিকেলবেলায় ভাত পাওয়া মুশকিল । তাই তারা রহমান চাচার দোকানে ঢুকলো ।
ঝিঙে রহমান চাচাকে বলল, “আমাদের রুটি ও তরকারি দাও !”
“কিন্তু …?” বলেই ডান হাতে রহমান চাচা মাথা চুলকাতে থাকলো ।
“আবার কিন্তু কেন চাচা ?” এবার পটল জিজ্ঞাসা করলো ।
“রুটি ও তরকারি আছে বটে, কিন্তু ঠাণ্ডা !” তারপর আবার রহমান চাচা বলল, “তোমারা একটু বসো, আমি গরম করে দিচ্ছি ।“
তরকারি গরম করে রহমান চাচা দুইজনকে খেতে দিলো । রুটি তরকারি খেয়ে ঝিঙে চাঙ্গা । পটল বোনকে নিয়ে প্লাটফর্মের গাছ তলায় এসে বসলো । বোনটা দাদার সঙ্গে না বসে সমস্ত প্লাটফর্মটায় ঘুরতে লাগলো । ঐদিকে সূর্য ডুবতে বসেছে । কিছুক্ষণের মধ্যে অন্ধকার নেমে আসবে । পটল গদাই খুড়োর কথাগুলি ভাবছে । নোনাই নদীর বাঁধ মেরামতির কাজে তার মতো ছোট ছেলের দরকার নেই । বি-ডি-ও সাহেবেরও তাই মত । বি-ডি-ও সাহেবের নির্দেশ মতো গদাই খুড়ো তাকে মাটি কাটার কাজে আর লাগাতে চাইছেন না । পটলকে কাজ করানো তাঁর পক্ষে ঝুঁকিবহুল । স্বাভাবিকভাবে পটলকে অন্যত্র কাজের ধান্দা করতেই হবে । মুষড়ে পড়লে চলবে না । পটল ভাবছে, তাকে মানসিকভাবে শক্ত থাকতে হবে । তাকে মেরুদণ্ড সোজা রাখতে হবে । ভেঙ্গে পড়লে চলবে না । কাজের বিকল্প পথ বার করতেই হবে । তা ছাড়া বোনকে নিয়ে বাজারসৌ স্টেশনের প্লাটফর্মে থাকাটাও নিরাপদ নয় । বাঁচার জন্য তাকে বিকল্প কাজের ব্যবস্থা করতেই হবে ! পটল তার নিজ সিদ্ধান্তে অটল রইলো ।
পরেরদিন নোনাই নদীর বাঁধে কাজের জন্য উপস্থিত । রাজমিস্ত্রীর যোগালে হিসাবে কাজ দিয়ে গদাই খুড়ো জানিয়ে দিলেন, “এরপর থেকে রাজমিস্ত্রীর যোগালে হিসাবে বাকী দিনগুলি কাজ করবে ।“ আর একটা কথা, “বাঁচার তাগিদে যেখানেই তুমি কাজের ধান্দায় যাও না কেন আমাদের জানিয়ে যাবে । যদি আমরা কোনো সহযোগিতা করতে পারি !”
দুপুরবেলা বোনকে নিয়ে পটল রাধানগর গ্রামে ঢুকলো । মুড়ি চানাচুর কিনে খবরের কাগজের উপর রেখে মুড়ি খাওয়ায় মনোযোগ দিলো । হঠাৎ এক সাধুর আবির্ভাব । জটাধারী সাধু । এক হাতে ত্রিশূল এবং অন্য হাতে কাসার জগ । ভাই বোনের মুড়ি খেতে দেখে সাধু এক দণ্ড দাঁড়ালেন । তাদের দিকে তাকিয়ে বললেন, “তোমরা কারা বাছা ! এভাবে রাস্তায় বসে মুড়ি খাচ্ছ ? তোমাদের আগে কখনও এই গ্রামে দেখিনি !”
পটল বলল, “আমরা এখানে নতুন । নোনাই নদীর বাঁধে কাজ করছি । দুপুরের খাবার সময় চলছে । তাই আমরা মুড়ি কিনে খাচ্ছি ।“
সঙ্গের মেয়েটা তোমার কে হয় ?
আমার ছোট বোন ।
“তোমার ছোট বোন একদিন তোমার মুখ উজ্জ্বল করবে । তার কপাল দেখে আমি যেটা বুঝতে পারছি, সে ভাগ্যবতী ।“ সাধু ঝিঙের দিকে তাকিয়ে বললেন ।
সাধুবাবার কথায় কান না দিয়ে তারা আবার মুড়ি খাওয়ায় মনোনিবেশ করলো । যাদের চাল-চুলোর ঠিকঠিকানা নেই, তাদের আবার ভাগ্য কী ? পটল সাধুবাবার কথা একদম গ্রাহ্য করলো না । পটলদের চুপচাপ থাকা দেখে সাধুবাবা তাঁর নিজস্ব গন্তব্যস্থলে অগ্রসর হলেন । মুড়ি খাওয়ার পর গাঁয়ের টিউবওয়েল থেকে ঢকঢক করে জল খেয়ে পটল মাটি টানার কাজে নেমে পড়লো ।
টানা এক সপ্তাহ কাজ করার পর হাঁপিয়ে উঠলো পটল । সেদিন রবিবার । কাজে না গিয়ে বিশ্রামে রইলো । গদাই খুড়ো কাজ ছেড়ে দেওয়ার জন্য আর চাপ দেয়নি । কিন্তু তিনি তাকে কাজে থাকার ব্যাপারে কোনো আগ্রহ দেখাননি । তাতে পটল নিশ্চিত কোনো একদিন সকালে কাজের শুরু মুহূর্তে তাকে গদাই খুড়ো বলে দেবেন, “আগামীকাল থেকে তোমাকে আর দরকার নেই । তখন বিপদ বাড়বে বই কমবে না । কেননা তিনি অনেক আগেই বিকল্প কাজের সন্ধানের পরামর্শ দিয়েছেন ।“ এদিকে পটল নোনাই নদীর বাঁধে কাজ করবার জন্য বিকল্প কাজের সন্ধানের একদম সময় পাচ্ছে না । বিশ্রামে থাকার পেছনে বিকল্প কাজ খোঁজাটাও একটা কারণ ।
বাজারসৌ স্টেশন ছাড়তে চেয়েছিল পটল । কিন্তু মাটি টানার কাজের সূত্রে চরবল্লভপুর গ্রামের কানাইয়ের সাথে আলাপ হওয়ার পর তার সেই চিন্তা মাথা থেকে এই মুহূর্তে উধাও । কানাই পটলকে পরামর্শ দিলো, “তোমার বাজারসৌ ছাড়া ঠিক হবে না । প্লাটফর্মে থেকে কিছু কাজ করার র ধান্দা করো । তাতে বেঁচে থাকার মতো পথ পাবে । এখানকার মানুষজন খারাপ নয় । সবাই তোমাকে প্রয়োজনে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেবে ।“ অন্যদিকে মনোহর অনেক আগেই পটলকে পরামর্শ দিয়ে রেখেছে, “বোন বড় হচ্ছে । তুমিও বড় হচ্ছ । তুমি নানান কাজের ধান্দায় বাইরে থাকবে । সেইক্ষেত্রে তোমার একটা স্থায়ী ঠিকানা দরকার । প্রয়োজনে রাধানগরেও বাড়ি বানাতে পারো । সেখানে অনেক খালি জায়গা পড়ে রয়েছে । তুমি বাড়ি বানালে কেউ বাঁধা দেবে না ।“ কিন্তু পটলের রাধানগরে বাড়ি বানানোর কিছুতেই ইচ্ছা নয় । কেননা বর্ষার সময় রাধানগরে বন্যার জল ওঠে । তা ছাড়া রাধানগর থকে বাজারসৌ স্টেশন অনেক দূরে । বোনের পড়াশুনার ক্ষেত্রে বাজারসৌ স্টেশন আসাটা খুব কষ্টসাধ্য হবে । অসুবিধার কথা মাথায় রেখে জেনেশুনে পটল রাধানগরে বাড়ি বানাতে পারবে না । তবে কানাইদার কথাটা তার মনে ধরেছে । স্টেশন চত্ত্বরে কিছু করা যায় কিনা সেটা নিয়ে পটল খুব ভাবছে ।
জগাইয়ের ভাতের হোটেলের কাছাকাছি একটা ভাঙ্গা বাড়ি সমেত জায়গা পড়ে রয়েছে । শোনা যায় জায়গার মালিক শিবু হেমব্রম অভাবের তাড়নায় অনেকদিন আগে বাজারসৌ ছেড়ে অসমের ডিব্রুগড়ের চা বাগানে কাজ নিয়ে চলে গেছে । তাদের ফিরে আসার কোনো সম্ভাবনা নেই । জায়গাটা আগাছায় ভর্তি । কাটা জাতীয় অনেক ধরনের গাছ । ইটের দেওয়াল ভেঙ্গে পোড়োবাড়ির ন্যায় পড়ে রয়েছে । পতিত বাড়ি ভেঙ্গে নষ্ট হচ্ছে । পটল আড়ালে আবডালে খোঁজ নিইয়ে জেনেছে, শিবু হেমব্রম জীবদ্দশায় ফিরবে না । সুতরাং ইচ্ছা করলে জায়গাটা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করে যে কেউ কাজে লাগাতে পারে । এই ব্যাপারে স্থানীয় পঞ্চায়েতের কোনো আপত্তি নেই । এতকাল কেউ বাড়িটার প্রতি নজর দেয়নি, তার একটাই কারণ, ঐ এলাকায় লোকের যাতায়াত কম । রাত্রিবেলায় জগাইয়ের হোটেল ছাড়া কোনো দোকান খোলা থাকে না । স্থানীয় মানুষদের মতে, ঐ পোড়োবাড়িতে ভুত বাস করে । অনেকেই ভুত দেখেছে । এইজন্য কেউ সাহস করে পোড়োবাড়িতে কিছু করার পদক্ষেপ নেয়নি ।
পটল বোনকে প্লাটফর্মে রেখে গদাইয়ের হোটেলের কাছের পোড়োবাড়িটা দেখতে গেল । পোড়োবাড়ির পাশে দাঁড়িয়ে পটল ভাবছে, জায়গাটা কীভাবে কাজে লাগানো যায় । ইতিমধ্যে জগাই পটলকে দেখতে পেয়ে জিজ্ঞাসা করলো, “কি ভায়া ! এদিকে কতক্ষণ ?”
একটু আগেই এসেছি । আপনার কাছেই যাচ্ছি । কখন খেতে আসবো সেই কথা জানতে ?
দুপুরের খাওয়া এখনও অনেক দেরী । আমি এখন বাজারে যাচ্ছি । বাজার থেকে ফিরে রান্না বসাবো । তা তুমি পোড়োবাড়ির সামনে কেন দাঁড়িয়ে রয়েছ ? কাউকে খুঁজছো কী ?
কাউকে খুঁজছি না । তবে এদিক দিয়ে যাচ্ছি, দেখলাম পোড়োবাড়ি । দিনের বেলায় এদিকে কম এসেছি । তাই ভাবছিলাম বাড়িটা পরিত্যক্ত অবস্থায় কেন পড়ে র‍্যেছে ? বাড়িটার মালিকই বা কে ?
আর বলো না ভায়া ! বাড়ির মালিক অসমে চা বাগানে কাজ নিয়ে এখান থেকে তল্পিতল্পা গুটিয়ে অসম চলে গেছে । ফিরবে বলে মনে হয় না । অথচ কেউ ভুতের ভয়ে বাড়িটা সংস্কার করছে না । লোকে বলছে বটে, কিন্তু ভুতের কথা আমার একদম বিশ্বাস হয় না । আনি পঞ্চায়েতকে বলেছিলাম, জায়গাটা পরিষ্কার করতে । কেননা ভুতের ভয়ের কারণে আমার হোটেলে খরিদ্দার কম আসে । রাত্রিবেলায় মানুষ হোটেলে আসতে ভয় পায় । অথচ পোড়োবাড়িটা না থাকলে আমার হোটেল আরও ভাল চলত । খরিদ্দার বাড়তো ।
পঞ্চায়েত কী বলল গদাইদা ?
পঞ্চায়েতের পরিষ্কার বক্তব্য, “কেউ বাড়িটা সংস্কার করার পর দোকান ঘর তুললে বা থাকার জন্য বসবাসযোগ্য গড়ে তুললে সেই ক্ষেত্রে পঞ্চায়েতের কোনো আপত্তি নেই ।“ তারপর পটলের দিকে তাকিয়ে জগাই বলল, “তুমি ইচ্ছা করলে বাড়িটা ঠিকঠাক করতে পারো । সেইক্ষেত্রে আমার পূর্ণ সহযোগিতা পাবে ।“
জগাইয়ের কথা শুনে পটল বিষণ্ণভাবে একটু হাসলো ।
 ( চলবে )

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here