বাসন্তীতে পরিবেশ মেলা।

0
275

সুভাষ চন্দ্র দাশ,ক্যানিং – শেষ হল একদিনের পরিবেশ মেলা। সুন্দরবন দিবস উপলক্ষে সুন্দরবনকে রক্ষা করার দাবী নিয়ে পরিবেশ মেলা বসেছিল প্রত্যন্ত সুন্দরবনের বাসন্তী ব্লকের শিবগঞ্জে। “রেনেসাঁস অফ সুন্দরবন” এর আয়োজনে ও ‘লোক চেতনা মঞ্চ’র সহযোগিতায পরিবেশ মেলার আনুষ্ঠানিক সূচনা করছিলেন বাসন্তীর বিডিও সৌগত সাহা। উপস্থিত ছিলেন চম্পা মহিলা সোসাইটির সম্পাদক অমল নায়েক, সুন্দরবন বিষয়ক গবেষক ও লেখক কানাইলাল সরকার ও অনিমেষ সিনহা, শিক্ষক হরিপদ বৈদ্য,প্রবীর বসু,সুজাতা দাস গুপ্ত সহ অন্যান্যরা।

উল্লেখ্য আমাদের চারপাশের পরিবেশ (প্রাকৃতিক পরিবেশ, সামাজিক পরিবেশ, অর্থনৈতিক পরিবেশ ও সাংস্কৃতিক পরিবেশ) জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে কিভাবে প্রভাবিত হচ্ছে সে সম্পর্কে মানুষকে গণসচেতনতা এবং প্রাসঙ্গিক প্রশমন এবং অভিযোজন কৌশলসহ জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা।গ্রাম্যস্তরের সাধারণ মানুষজনকে বিশেষ করে যুবসমাজকে সংগঠিত করে পরিবেশকে সুরক্ষিত করার বিষয়ে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করাই ছিল মেলার মূল উদ্দ্যেশ্য।
মেলায় বাসন্তী ব্লকের জ্যোতিষপুর, জয়গোপালপুর, পুরন্দর, কালিডাঙ্গা সহ অন্যান্ত প্রান্তের প্রচুর মানুষজন এসেছিলেন। পরিবেশের ওপর পথ মিছিল সহ বিভিন্ন বিষয়ের উপর স্টল তৈরি করা হয়েছিল মেলায়।স্টলগুলিতে সুন্দরবনের প্রাকৃতিক বৈচিত্র, সংস্কৃতি, জনজীবন এবং সুন্দরবন কিভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং তাকে কি করে সংরক্ষণ করা সম্ভব তার ওপর, কিভাবে একটি মডেল গ্রাম কিভাবে অপ্রচলিত শক্তির দ্বারা চালানো সম্ভব কোনরকম দূষণ ছাড়া, শিশু অধিকার ও মানবাধিকার, পুষ্টি ও স্বাস্থ্যের ওপর, জলবায়ু কিভাবে পরিবর্তন হচ্ছে ও তার ফলে কিভাবে মানব জাতি ধ্বংসের মুখে পড়ছে, টেকসই উন্নয়নের ১৭ টি লক্ষ্য, ও সরকারি ভাবে চালু হওয়া সুন্দরী প্রকল্পের বিভিন্ন জিনিসপত্র প্রদর্শনী করা হয়েছিল।এছাড়াও পঞ্চম থেকে অষ্টম শ্রেণির ছাত্রছাত্রীদের দ্বারা সুন্দরবনের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বিষয়ের উপর অঙ্কন প্রতিযোগিতা, নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্রছাত্রীদের রিসাইকেলিং প্রতিযোগিতা যেখানে ফেলে দেওয়া পুরাতন জিনিস থেকে ব্যবহারযোগ্য কোন জিনিস তৈরি করা, কুইজ প্রতিযোগিতা ও সুন্দরবনের ওপর তথ্যচিত্র প্রদর্শনী আয়োজন করা হয়েছিল। এছাড়া ছোট ছোট ছেলে মেয়েদের দ্বারা প্লাস্টিক বর্জ্য সচেতনতার উপর একটি নাটক আয়োজন করা হয়েছিল।আবার লোকসংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য “বনের মা বনবিবি পালা” যাত্রার আয়োজন করা হয়েছিল।
পরিবেশ মেলা প্রসঙ্গে বাসন্তীর বিডিও সৌগত কুমার সাহা বলেন ‘কিভাবে দ্রুত জলবায়ু পরিবর্তন হচ্ছে এবং তার প্রভাব সুন্দরবনের উপরে পড়ছে। পরিবেশ বাঁচানোর জন্য মানুষকে অনেক বেশি সচেতন হতে হবে। সুন্দরবনের নদী বাঁধ ও ম্যানগ্রোভ কে রক্ষা করতে হবে।যেভাবে ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের দ্বারা এই পরিবেশ মেলা আয়োজিত হয়েছে ও বিভিন্ন স্টল এর মাধ্যমে তারা পরিবেশের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেছে তা প্রশংসনীয়। বিশেষ করে অপ্রচলিত শক্তি ব্যবহার করে কিভাবে একটি মডেল গ্রাম তৈরী করা সম্ভব তার যে স্টল সেটার প্রয়োজনীয়তা কথা তুলে ধরা হয়।এছাড়াও তিনি জানান বাসন্তী গ্রাম পঞ্চায়েত সমিতি সোলার লাইট ব্যবহার বাড়ানোর জন্য একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে সেখানে পানীয় জল এবং রাস্তার আলো যাতে সোলার লাইটের মাধ্যমে করা যায় তার পরিকল্পনা রূপায়ণ ২০২৪ সালের মধ্যে করা হবে। ’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here