স্কুলের ক্লার্কের কাজের গাফিলতিতে মাধ্যমিক পরীক্ষা বসা হল না এক ছাত্রীর।

0
305

মনিরুল হক, কোচবিহারঃ স্কুলের ক্লার্কের কাজের গাফিলতিতে মাধ্যমিক পরীক্ষা দেওয়া থেকে বঞ্চিত এক ছাত্রী। ঘটনাটি ঘটেছে দিনহাটা ১ নং ব্লকের অন্তর্গত গিতালদহ উচ্চ বিদ্যালয়ে। ঘটনার বিবরণে জানা যায়, রুজিনা খাতুন নামে ওই ছাত্রীর এবারে মাধ্যমিক পরীক্ষা দেওয়ার কথা ছিল। সে জন্য যথারীতি ওই ছাত্রী মাধ্যমিকের ফর্ম পূরণ করে ও ফি জমা দেয় কিন্তু তার অ্যাডমিট আসেনি। অ্যাডমিট না আসার কারন হিসেবে স্কুল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ওই ছাত্রী নাকি ফর্মের চেক লিস্টে সই করেনি।
তবে রুজিনা খাতুন নামে ওই ছাত্রী জানায় টাকা জমা দেওয়ার পর সেখানে থাকা ক্লার্ক তাকে সই করতে বলেনি তাই সে শুধু টাকার মেমো নিয়ে চলে আসে। তারপর আর স্কুল থেকে তার সাথে কোনোরূপ যোগাযোগ করা হয়নি। এদিকে ৭ তারিখ মাধ্যমিক পরীক্ষা, পরীক্ষার জন্য যথাসম্ভব প্রস্তুতিও নিয়েছে ওই ছাত্রী। কিন্তু অ্যাডমিট না আসায় ও স্কুল কর্তৃপক্ষের কথাতে কার্যত দিশেহারা সে।
ওই ছাত্রীর অভিভাবক ও সম্পর্কে মামা মাসুম আক্তার অভিযোগ করেন, স্কুল কর্তৃপক্ষের সম্পূর্ণ দায়সারা মনোভাবের কারণে আজ তার ভাগ্নী মাধ্যমিক পরীক্ষা থেকে বঞ্চিত। এমনকি এই সমস্যা সমাধানের জন্য বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে কোনোরূপ সহযোগিতাও করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এদিকে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মলয় কুমার দাস জানন, ক্লার্কের ভুলেই এই অনভিপ্রেত ঘটনাটি ঘটেছে। তিনি তার জন্য যথেষ্ট দুঃখপ্রকাশও করেন। তবে তিনি জানান যে স্কুলের তরফ থেকে সব ধরনের চেষ্টা করা হচ্ছে এমনকি কলকাতা বোর্ড অফিসে পর্যন্ত যোগাযোগ করা হয়েছিল। তিনি আরও জানান যে সমস্ত স্টাফের গাফিলতিতে ছাত্রীটি মাধ্যমিক পরীক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে মিটিং করে শাস্তিস্বরূপ পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
তবে প্রধান শিক্ষক যেটাই বলুক বা যে শাস্তি প্রদান করুক না কেন আগামী ৭ তারিখে শুরু হওয়া মাধ্যোমিক পরীক্ষায় রুজিনা যে বসতে পারবে না সেটা একপ্রকার নিচ্চিত। আর পরীক্ষায় বসতে না পারার খবর শোনার পর থেকে কর্যত কান্নায় ভেঙে পড়েছে সে।
এদিকে একের পর এক ঘটনায় স্কুলের নাম জড়িয়ে যাওয়ায় কার্যত ক্ষোভে ফুঁসছে এলাকাবাসী। তাদের দাবি প্রধান শিক্ষকের গাফিলতিতে ঘটছে একের পর এক ঘটনা। আর তাতে ক্ষুণ্ন হচ্ছে বিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি। উল্লেখ্য ৩/৪ দিন আগেও এই বিদ্যালয়ের নাম জড়িয়েছিল অন্য একটি ঘটনায় আর তার পর আজকের এই মাধ্যমিক ছাত্রীর অ্যাডমিট না আসা।