বেঁচে থাকার লড়াইয়ে অনন্যা নারী আলো অধিকারী।

সুভাষ চন্দ্র দাশ,ক্যানিং – শুক্রবার,বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন। সকাল থেকে শুভেচ্ছা বিনিময়,পুজো পার্বন ও বছরের প্রথম দিন কি খাওয়া হবে সেই নিয়ে ব্যস্ত বাঙালী সমাজ।পাশাপাশি বছরের প্রথম দিন বাঙালী তার খাতা পুজো করে গণেশ আরাধনা ব্রতী।যখন নববর্ষ নিয়ে এতো হইহুল্লোড়,মাতামাতি,ঠিক সেই মুহূর্তে বেঁচে থাকার কঠিন লড়াইয়ে সামিল হয়ে যুদ্ধ করতে রাজপথে দেখা গেলো এক অনন্যা নারী কে। ঘটনাস্থল ক্যানিং-বারুইপুর রোডের ক্যানিং থানার মোড়।সেখানে রাস্তার পাশে একটি ছোট্ট সাইকেল,ভ্যান সারাইয়ের দোকান রয়েছে।খাতায় কলমে দোকানের মালিক চন্দন অধিকারী হলেও বাস্তবে দোকান পরিচালনা করেন তাঁর স্ত্রী বছর পঁয়তাল্লিশের আলো অধিকারী।অধিকারী পরিবারের সদস্য সংখ্যা মাত্র তিন। স্বামী-স্ত্রী আর একমাত্র সন্তান পঞ্চম শ্রেণীর শঙ্কর কে নিয়ে স্থানীয় নাথ পাড়ায় বসবাস করেন। সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হতো।এমতো অবস্থায় বছর দশ আগে রাস্তার পাশে একটি ভ্যান,সাইকেল সারাইয়ের দোকান করেছিলেন চন্দন।বয়সের ভারে ভারাক্রান্ত চন্দন অধিকারী দোকানের কাজ কর্ম ঠিকঠাক করতে পারেন না। ফলে দোকাল প্রায় অচল অবস্থা। অচল অবস্থা দোকান কে সচল করতে বছর ছয়েক আগেই স্বামীর সাথে সাইকেল,ভান সারাইয়ের কাজ শুরু করেন আলো অধিকারী। প্রথম দিকে মহিলা ভেবে অনেকেই সাইকেল,ভ্যান সারাইয়ের কাজ করতেন না। বিপদে পড়লেই আলো অধিকারী সেই সমস্ত ভ্যান,রিক্সা,টোটো সহ সাইকেল চালকদের ত্রাতা হয়ে উঠতেন।অনায়াসেই অবলীলাক্রমে সমস্ত গাড়ি মেরামেত করে দিতেন।পাশাপাশি সংসারে হাল নিজের কাঁধে তুলেনিয়ে একমাত্র শঙ্কর কে পড়ালেখা শিখিয়ে মানুষ করতে ব্যস্ত।
সাত সকালে রাস্তার পাশে এই অনন্যা নারীকে দেখে থমকে দাঁড়িয়ে পড়েছিলাম। তাঁকে জিঞ্জাসা করলাম রাজপথের পাশে এমন সাইকেল,ভ্যান,রিক্সা মেরামতি করতে লজ্জা করে না। তিনি সপাটে জবাব দেন ‘লজ্জা কিসের?মেয়ে বলে কি কাজের অধিকার থাকবে না?স্বামী প্রায় অক্ষম,সংসারের হাল ধরে ছেলে কে যোগ্য মানুষ করতে হবে যে!না হলে বৃদ্ধ বয়সে কে নেবে আমাদের বাঁচিয়ে রাখার দায় দায়িত্ব?নিজে বেঁচে থাকার জন্য আমার এই লড়াই সমস্ত লজ্জা কে হার মানিয়ে দেবে।’
আলো নাম যে যথেষ্ট সার্থক তার জলন্ত দৃষ্টান্ত ক্যানিংয়ের আলো অধিকারী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *