প্রাণ সংশয়ের আশঙ্কা, নিরাপত্তা বাড়ানোর আবেদন বিধায়কের।

সুভাষ চন্দ্র দাশ, ক্যানিং : – তিনি শ্যামল মন্ডল। বর্তমানে বাসন্তী বিধানসভার বিধায়ক। একবার দুবার নয়,তিন তিনবার বিধায়ক পদে নির্বাচিত হয়েছেন। বিগত দুবার ক্যানিং পশ্চিম বিধানসভা কেন্দ্র থেকে বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছিল।বর্তমানে তাঁর তিন তিনজন দেহরক্ষী রয়েছেন।তাতে যেন কোথাও ফাঁক ফোকর রয়েছে।প্রাণ সংশয় হতে পারে। ফলে চরম ভাবে সেই দুঃশ্চিন্তায় ভুগছিলেন বাসন্তীর বিধায়ক শ্যামল মন্ডল।যাতে করে অন্তত আরও একজন দেহরক্ষী বাড়ানো হয় তারজন্য বুধবার বারুইপুর জেলা পুলিশের পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত আবেদন করলেন তিনি। সেই আবেদনে তিনি জানিয়েছেন তাঁর প্রাণ সংশয়ের আশঙ্কা রয়েছে। বিষয়টি জরুরী ভিত্তিতে দেখার জন্য আবেদন পত্রে উল্লেখ করেছেন।আশ্চর্য্যের বিষয় যেখানে রাজ্যের শাসন ভার তৃণমূল কংগ্রেসের হাতে,সেখানে তৃণমূল কংগ্রেসের একজন বিধায়ক প্রাণ হানি হতে পারে আশাঙ্কায় ভুগছেন!এমন ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই রাজ্যের আইন শৃঙ্খলার অবনতি নিয়ে শাসকদল কে কোনঠাসা করতে বিরোধীরাও তাদের অস্ত্রে শান দিতে শুরু করেছে।
প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে হঠাৎ কি এমন হলো যে,জীবন সংশয়ের আশঙ্কা করছেন বাসন্তীর বিধায়ক?

শ্যামল মন্ডলের দাবি ‘বাসন্তী, ক্যানিং সহ আশপাশের বেশ কয়েকটি বিধানসভা এলাকায় সরকারি কাজ ও সংগঠনের কাজের জন্য যাতায়াত করতে হয়। যখনই কোথাও কোন অন্যায় দেখেছি,তখনই সেখানেই সেই কাজের প্রতিবাদ করেছি।আর সেই কারণে নানা ধরনের হুমকি পাচ্ছি। তিনি আরও বলেন, কিছু তোলাবাজ, মাটি মাফিয়া, দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই পুলিশ প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানিয়েছি। অনেক জায়গায় পুলিশ ব্যবস্থা গ্রহণও করেছে। আর সেই কারণে নানা জায়গায় হুমকি, পেশীশক্তির সম্মুখীন হতে হচ্ছে।যার ফলে প্রাণ সংশয়ের আশাঙ্কা থেকে যাচ্ছে।’
এমন ঘটনার কথা প্রকাশ্যে আসেতেই বাসন্তীর বিজেপি নেতা বিকাশ সরদার জানিয়েছেন ‘রাজ্যের আইন শৃঙ্খলার যে কতটা অবনতি হয়েছে তা শাসক দলের বিধায়ক এর কথায় পরিষ্কার। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা যে একে বারেই নেই সেটা প্রমাণিত।তৃণমূল কংগ্রেস যে কোন ঘটনায় ধামা চাপা দিয়ে বিরোধীদের ঘাড়ে দোষ চাপায়।এখন কেঁচো খুঁড়তে কেউটে বেরিয়ে পড়েছে।নিজেদের মধ্যে খেলা শুরু হয়ে গিয়েছে।’
উল্লেখ্য, সম্প্রতি বাসন্তী ব্লকের ফুলমালঞ্চ গ্রাম পঞ্চায়েতের সর্দার পাড়ায় বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় ফারুক সর্দার নামে একজনের মৃত্যু হয়। সেই ঘটনার পর সমগ্র বাসন্তী বাসীর উদ্দেশ্যে শ্যামল করজোড়ে আবেদন করেছিলেন, যাতে বাসন্তীর মানুষ বোমা, বন্দুক ত্যাগ করেন।বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র পুলিশ প্রশাসনের কাছে তুলে দিয়ে বাসন্তীতে শান্তির পরিবেশ তৈরী করেন। কিন্তু তাঁর সেই করজোড়ে আবেদন-নিবেদনের পর প্রায় একমাস কেটে গেলেও এখনও পর্যন্ত একজনও নিজে থেকে থানায় হাজীর হয়ে বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র ফেরৎ দেয়নি।
যদিও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে রাজ্যের অন্যান্য এলাকার মতো বাসন্তী থানার পুলিশপ্রশাসন প্রতিনিয়ত এলাকায় তল্লাশি অভিযান চালিয়ে বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের কাজ ধারাবাহিক ভাবে করে চলেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *