মালদা জেলার সাহাপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের তাতিপাড়া মঙ্গলবাড়ী তাঁতিদের এখন করুন অবস্থা।

নিজস্ব সংবাদদাতা, মালদা :- এক সময় বাংলার তাঁত শিল্পের ব্যাপক চাহিদা ছিল ।কিন্তু বর্তমান সময় এ যুগের পরিবর্তনের সাথে সাথে পাল্লা দিয়ে বাংলার তাঁত শিল্প এখন ধ্বংসের মুখে । নতুন নতুন রেডিমেড জগতে টেক্সটাইলের দুনিয়ায় বাংলার তাঁতের তৈরি কাপড় হারিয়ে যাচ্ছে।সেই তুলনায় তাদের পারিশ্রমিক বাড়ছে না। সরকারি কোন জায়গা থেকে কোন ভাবে তাদের পাশে দাড়ালে বা লোন এর ব্যবস্থা করলে এই শিল্প গড়ে তোলা চেষ্টা করা যেতে পারে। তাঁত শিল্পিদে অভিযোগ কোনো সুযোগ-সুবিধাও পাওয়া যাচ্ছে না। তাই সংসারের খরচ চালাতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে বাংলার তাঁতিদের। তাই এখন অধিকাংশ শিল্পীরা তাঁত বোনা ছেড়ে অন্য পেশার সাথে যুক্ত হচ্ছেন। আবার অনেকে সংসারের হাল ধরতে কেউ ভিন্ন রাজ্যে পাড়ি দিচ্ছেন শ্রমিকের কাজে। কেউ আবার দিনমজুরের কাজ করছে ।মালদা জেলার সাহাপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের তাতিপাড়া মঙ্গলবাড়ী তাঁতিদের এখন করুন অবস্থা। এক সময় এই সাহাপুর মঙ্গলবাড়ী তাতিপাড়া এলাকায় এক সময় ভোর হলে শোনাযেত তাঁত বোনার আওয়াজ। আগে এক ঘরে প্রায় একটি ঘরে চলতো প্রায়৪০০ থেকে ৫০০ তাতের কাজ । কিন্তু বর্তমান যুগে এখন এখন সংখ্যা এসে দাঁড়িয়েছে ২৪ থেকে ২৬ টি তাঁতের কাজ হয়। সাহাপুর ,তাঁতিপাড়া এলাকার বাসিন্দা পেশায় তাঁত শিল্পী তরুণ কুমার দাস জানান এই শিল্প আগামী দিনে বন্ধ হয়ে যেতে বসেছে ।কেউ এই শিল্পে আর কাজ করতে চাচ্ছে না ।পরিশ্রম অনুযায়ী মজুরি নেই । শাড়ির কাজ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে । এখন শুধু খাদির কাজ হয়। কিছু খাদি কোম্পানির মালিকরা তারা আমাদের কাছে কাজ দেয় ।দিনে কোনোটাতে দেড়শো থেকে দুইশো টাকা মজুরি আমরা পাই । আমরা সরকারি কোনো সুযোগ-সুবিধা সে ভাবে থাকলে তাঁত শিল্প ধরে রাখা যায় ।অন্যদিকে তাত শিল্পী মিতালী দাস জানান আমাদের শ্রমিক থাকলেও আমরা শ্রমিক কার্ডের কোনো সুযোগ-সুবিধা সরকার থেকে পায় না ।আমরা যে ভাবে পরিশ্রম করি তাতে আমাদের সেভাবে মজুরি নেই ।আমরা চাই সরকার আমাদের বিষয়ে একটু নজর দিক ।অন্যদিকে পঞ্চানন দাস তাত শিল্পী জানান চল্লিশ বছর ধরে এই ব্যবসার সাথে যুক্ত আমাদের পরিবার। বর্তমান আমাদের অবস্থা খুব খারাপ দিনে দিনে সুতোর দাম বাড়ছে কিন্তু সেভাবে আমরা মজুরি পারছিনা ।কাজ করে দেড়শ থেকে দুইশ টাকা আমাদের রোজগার হয় ।পরিবারের সদস্য সংখ্যা ৫ জন কি করে সংসার চলবে ।পেশার টানে অনেকেই জীবিকা পাল্টে নিচ্ছে । আমরা কোন রকম সরকারি লোন আমাদের কেউ দেয় না। আমাদের কথা কেউ শোনে না ।
যদিও খাদি কোম্পানির সম্পাদক বামাচরণ প্রামানিক জানান তাঁত শিল্পের অবস্থা বর্তমান খুব খারাপ। শিল্পীরা যে মজুরি পায় তাতে তাদের সংসার চালানো খুব কষ্টকর ।আগামী দিনে নতুন প্রজন্ম এই শিল্পে কেউ এগিয়ে আসবে না
বর্তমান পশ্চিমবঙ্গ সরকার তিন বছর ধরে এই শিল্পে কোন রকম সাবসিডি দিতে পারছে না

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *