সুভাষ চন্দ্র দাশ,ক্যানিং: – ক্যানিংয়ে তিন তিনজন তৃণমূল কর্মী সমর্থক খুনের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত রফিকুল সর্দার সহ অন্যান্যদের গ্রেফতারে দাবী জানিয়ে পথ অবরোধ করে বিক্ষোভ আন্দোলনে সামিল হলেন গ্রামবাসীরা।বৃহষ্পতিবার সকালে ক্যানিংয়ের গোপালপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ধর্মতলার জেলেপাড়া সংলগ্ন ঢোষা-জামিনীমোড়-ক্যানিং রোড ও ঢোষা-বেতবেড়িয়া রোডের উপর রীতিমতো বেঞ্চ পেতে,ভাঙা বিদ্যুতের খুঁটি ফেলে অবরোধ করে বিক্ষোভে সামিল হয় কয়েক হাজার গ্রামবাসী। স্তব্দ্ধ হয়ে যায় যান চলাচল।প্রায় ঘন্টা খানেক অবরোধ চলে। খবর যায় ক্যানিং থানার পুলিশের কাছে।ঘটনাস্থলে হাজীর হয় ক্যানিং থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী।বিক্ষোভকারী গ্রামবাসীদের বুঝিয়ে অবরোধ তুলতে সক্ষম হয় পুলিশ। শুরু হয় স্বাভাবিক যান চলাচল।
উল্লেখ্য গত ৭ জুলাই প্রকাশ্য দিবালোকে গোপালপুর গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য স্বপন মাঝি ও দুই তৃণমূল কংগ্রেস কর্মী ভূতনাথ প্রামাণিক ও ঝন্টু হালদার কে গুলি করে চপার দিয়ে কুপিয়ে খুন করার অভিযোগ ওঠে একদল দুষ্কৃতিদের বিরুদ্ধে।একই দিন তিন তিনজন তৃণমূল কংগ্রেস কর্মী খুনের ঘটনায় রাজ্য-রাজনীতি তোলপাড় হয়।এমনকি জাতীয়স্তরেও এই খুনের ঘটনায় সমালোচনার ঝড় ওঠে।মৃতের পরিবার খুনের ঘটনায় জড়িত রফিকুল সর্দার,জালাল উদ্দিন আখন্দ,বসির শেখ,বাপি ওরফে দেলয়ার মন্ডল,ওবায়দুল্লাহ মন্ডল ও আলি হোসেন লস্করদের নামে ক্যানিং থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।১২ জুলাই ওবায়দুল্লাহ মন্ডল কে গ্রেফতার করে পুলিশ।যদিও ঘটনার পর ৮ জুলাই রাতে খুনের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আফতাবউদ্দিন শেখ নামে এক দুষ্কৃতি কে গ্রেফতার করে। সেই মুহূর্তে রাজ্যের একাধিক বিধায়ক মৃতদের বাড়িতে হাজীর হয়েছিলেন। মৃত তৃণমূল কর্মীদের পরিবার কে সমবেদনা জানিয়ে আর্থিভাবে সাহায্য করেছিলেন।পাশাপাশি খুনের ঘটনায় জড়িত মূল অভিযুক্তরা যাতে করে ৭২ ঘন্টার মধ্যে গ্রেফতার হয় সেই আশ্বাস দিয়েছিলেন।এরপর ১২ জুলাই জাতীয় তপশিলি কমিশনের ভাইস চেয়ারম্যান অরুণ হালদার ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন। সেখানে মৃত তৃণমূল কর্মীদের পরিবারের সাথে দেখা করে কথা বলেন।অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা প্রসঙ্গে ধর্মতলার জেলে পাড়ায় দাঁড়িয়ে অরুণ বাবু সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন ‘অভিযুক্তদের গ্রেফতার করতেই হবে। অভিযুক্তদের কে কেউ যদি বাঁচানোর চেষ্টা করেন,তাহলে তিনি নিজেও বাঁচবেন না এবং তাঁর চাকরি যাবে।’
কমিশনের এমন কড়া মন্তব্যের পর ১২ জুলাই রাতে ক্যানিং থানার পুলিশ এফআইআর এ নাম থাকা ওবায়দুল্লাহ মন্ডল কে কুলতলি থানার মহিষমারী এলাকা থেকে গ্রেফতার করে।যদিও খুনের ঘটনার এক সপ্তাহ সময় অতিবাহিত হয়ে গেলেও খুনের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত রফিকুল সর্দার অধরা।আর সেই কারণেই গ্রামবাসীরা ক্ষোভে ফুঁসছেন।
মৃত তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্য স্বপন মাঝির স্ত্রী টুকটুকি মাঝির দাবী ‘পুলিশ কি করছে?আমার স্বামী ভালো কাজ করতে গিয়ে দেশের জন্য খুন হতে হলো। ৭২ ঘন্টা অতিবাহিত হয়ে গেলেও এখনও পর্যন্ত মূল অভিযুক্ত রফিকুল সর্দার সহ অন্যান্যরা অধরা।আমরা দেখতে চাই তাদের ধরে ফাঁসির দড়িতে ঝোলানো হোক। তা না হলে আগামী দিনে আমাদের এই আন্দোলন চলবে’।
ক্যানিংয়ে খুনের ঘটনায় মূল অভিযুক্তদের গ্রেফতারের দাবীতে রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ।












Leave a Reply