জল্পনা তৈরি করে মুর্শিদাবাদের সাগরদিঘির সদ্য নির্বাচিত বিধায়ক বাইরন বিশ্বাস যোগ দিলেন তৃণমূলে।

পশ্চিম মেদিনীপুর, নিজস্ব সংবাদদাতা:- জল্পনা তৈরি করে মুর্শিদাবাদের সাগরদিঘির সদ্য নির্বাচিত বিধায়ক বাইরন বিশ্বাস যোগ দিলেন তৃণমূলে। অভিষেক ব্যানার্জীর সঙ্গে ফোনে কথা বলে মুর্শিদাবাদ থেকে পশ্চিম মেদিনীপুরের ঘাটালে এসে যোগ দিলেন তৃণমূলে। যোগদান পর্বের পর অভিষেক ব্যানার্জির মন্তব্য-” সৌজন্যতার কারণে সকলকে নিতে পারছি না। দরজা একটু ফাঁক করে দিলে, রাজ্য ও রাজ্যের বাইরের অনেক বিধায়ক সাংসদ রয়েছেন যারা তৃণমূলে যোগ দেবেন। তবে কেউ যদি চ্যালেঞ্জ করে- তা করতে বাধ্য থাকব।”যোগদান করে বায়রন বিশ্বাসের মন্তব্য-” কংগ্রেস কাজের জায়গা নয়, সেই সঙ্গে বিজেপি বিরোধীতাও নেই। তাই সেখান থেকে এসে তৃণমূলে যোগ দিলাম।”
সোমবার সকালে ঘাটাল বিদ্যাসাগর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ থেকে অভিষেকের নব জোয়ার যাত্রা শুরুর আগেই ধামাকা দিলেন অভিষেক ব্যানার্জি। দলের সোশ্যাল সাইটে বায়রন বিশ্বাসকে দলে নেওয়ার ছবি প্রকাশ করলেন সকলকে চমকে দিয়ে। শুরু হয়ে যায় সংবাদ মাধ্যমের হুড়োহুড়ি। সকলের অনুরোধে সাংবাদিক সম্মেলনে বসেন অভিষেক ব্যানার্জি, সঙ্গে ছিলেন কংগ্রেসের সদ্য জেতা বিধায়ক বাইরন বিশ্বাস।

সাংবাদিক সম্মেলনে অভিষেক ব্যানার্জি বলেন-” বায়রন বিশ্বাস নির্বাচনে দাঁড়ানোর আগে থেকেই আমার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছিলেন। তৃণমূলের পরিবারেরই ছেলে বায়রন বিশ্বাস। কিন্তু যে কোন কারণেই হোক আমার সঙ্গে সংযোগ হয়ে ওঠেনি তখন। সম্প্রতি তিনি যোগাযোগ করেন আবার। শারীরিক ভাবে অসুস্থ হয়েছিল। সুস্থ হয়ে আমাকে ফোন করেছিলেন গতকাল। আমি অবস্থান জানাতে সুদূর মুর্শিদাবাদ থেকে ঘাটালে এসে যোগদান করলেন তৃণমূলে। এমন অনেক এমএলএ এমপি রয়েছেন রাজ্য ও রাজ্যের বাইরে, যারা দলে যোগ দিতে চেয়েছেন। কিন্তু দরজা একটু ফাঁক করলেই অনেকেই আবার ছোটখাটো ঢুকে পড়বে। সৌজন্যতার কারণে সেই কাজ আমরা করছি না। কেউ যদি চ্যালেঞ্জ করে সেটা করতে বাধ্য থাকব।”
সেই সঙ্গে অধীর চৌধুরী প্রসঙ্গে অভিষেক ব্যানার্জি বলেন-” উনি বিজেপি বিরোধিতা করছেন না বাংলায়। উল্টে তৃণমূলকে দুর্বল করে বিজেপির হাত শক্ত করতে চাইছেন। অন্য কোথাও কিছু যাই করুক এ রাজ্যে তো কখনোই বিজেপি বিরোধিতা উনি করছেন না। সেটা অনেক মানুষ বুঝতে পেরেছেন। তাই ওনার পাশ থেকে সকলে সরে যাচ্ছেন।”
এদিন বায়রন বিশ্বাস বলেন,-“আমার জয়লাভের পিছনে কংগ্রেসের অবদান তেমন নেই। আমি কারো সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতাও করছি না। তবে কংগ্রেসে কাজ করা যাচ্ছিল না, তাই মানুষের কাজ করা ও বিজেপি বিরোধী একমাত্র প্লাটফর্ম হিসেবে তৃণমূলকেই পছন্দ করেছিলাম। কারণ অধীর চৌধুরীরা বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই করছেন না, তাদের বিরুদ্ধেও বলছেন না। এত সমস্ত কারণে আমি স্বেচ্ছায় তৃণমূলে যোগ দিলাম।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *