দুবরাজপুর, সেখ ওলি মহম্মদঃ- পঞ্চায়েত নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাহার করার দাবিতে মেরে মাথা ফাটানো হলো অনুব্রত মণ্ডলের বিরুদ্ধে মামলাকারী শিব ঠাকুর মন্ডলের। মারধরের অভিযোগ তার কাকা অর্থাৎ বিজেপি প্রার্থী দীপক মন্ডল ও তাঁর অনুগামীদের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে আজ দুবরাজপুর ব্লকের বালিজুড়ি পঞ্চায়েতের মেজে গ্রামে। শিব ঠাকুর মন্ডল এই মর্মে দুবরাজপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তাঁর দাবি, মাছ ভাগ করাকে কেন্দ্র করে প্রথমে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়, পরে রাজনৈতিক কারণে তাঁকে মারধর করা হয়। পাশাপাশি তাঁকে ভয় দেখানো হয় তার স্ত্রী লিপিকা মন্ডল যাতে বালিজুড়ি পঞ্চায়েতের বনকাটি সংসদ থেকে মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেন। কারণ ওই একই আসনে বিজেপির হয়ে দাঁড়িয়েছেন শিব ঠাকুর মন্ডলের কাকা দীপক মণ্ডল। উল্লেখ্য, শিব ঠাকুর মণ্ডল যিনি বালিজুড়ি পঞ্চায়েতের প্রাক্তন প্রধান। তিনি কয়েকমাস আগে দুবরাজপুর থানায় বীরভূম জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলের বিরুদ্ধে খুনের হুমকির অভিযোগ করেছিলেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে অনুব্রত মণ্ডলকে আসানসোল সংশোধনাগার থেকে দুবরাজপুর আদালতে পেশ করা হয়েছিল। বিরোধীরা দাবী করেছিল অনুব্রত মণ্ডলের তিহার যাত্রা আটকাতেই এই কৌশল। যদিও বা তিহার যাত্রা আটকাতে তৃণমূলের পক্ষ থেকে পুরস্কার হিসেবে তাঁর স্ত্রী লিপিকা মণ্ডলকে বালিজুড়ি পঞ্চায়েতের বনকাটি গ্রামের প্রার্থী করা হয়েছে। আর এই আসনে ১০০ শতাংশ লিপিকা মণ্ডল জয়ী হবেন বলেই মারধর করা হয়েছে বলে জানান শিব ঠাকুর মণ্ডল। অন্যদিকে তাঁর কাকা দীপক মণ্ডল জানান, পুকুরে মাছ ভাগ করা হচ্ছিল। সেই সময় ইচ্ছাকৃতভাবে এসে ঝামেলা সৃষ্টি করে। আমি বিজেপির হয়ে মনোনয়ন জমা করেছিলাম। কিন্তু আজ প্রত্যাহার করলাম। কারন ঐ আসনে বিজেপির প্রভাত মণ্ডলকে টিকিট দিয়েছে দল। কিন্তু শিব ঠাকুর মণ্ডল এলাকায় সন্ত্রাস সৃষ্টি করছে, ভয় দেখাচ্ছে আমাদের প্রার্থীকে। ফলে আমাদের প্রার্থীকে এখন গ্রামছাড়া। তবে শিব ঠাকুর মণ্ডল বুঝে নিয়েছে যে তাঁর স্ত্রী ১০০ শতাংশ পঞ্চায়েত নির্বাচনে পরাজিত হবেন। তাই নিজেই মাথা ফাটানোর নাটক করে থানায় গিয়েছে। আমরাও তাঁর বিরূদ্ধে দলগত ভাবে বা সামাজিক ভাবে ব্যবস্থা নেব। শিব ঠাকুর মণ্ডলের এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন দুবরাজপুর বিধানসভার বিজেপি বিধায়ক অনুপ কুমার সাহা।
শিব ঠাকুরের মাথা ফাটানোর অভিযোগ বিজেপির বিরুদ্ধে।












Leave a Reply