মনিরুল হক, কোচবিহার: পঞ্চায়েত ভোটের মুখে কোচবিহার জেলার দিনহাটায় ফের তৃণমূল-বিজেপি সংঘর্ষ। ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে ১ জনের। আহত হয়েছেন ৬ জন। মঙ্গলবার সকালে দিনহাটার গিতালদহের জারিধরলা গ্রামে ঘটনাটি ঘটেছে। মৃতের নাম বাবু হক। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় প্রচুর সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে,দিনহাটার সীমান্ত সংলগ্ন গীতালদাহ ২ গ্রাম পঞ্চায়েতের জারি-ধরলা গ্রামে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে এক তৃণমূল কর্মীকে কুপিয়ে ও গুলি করে খুন করার অভিযোগ উঠলো বিজেপির বিরুদ্ধে। তৃণমূলের অভিযোগ তাদের দলীয় কর্মী বাবু রহমান প্রচার সেরে যখন বাড়ি আসেন ঠিক সেই সময় দুষ্কৃতীরা তাদের সেই কর্মীকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে এলোপাতাড়ি কোপ ও গুলি চালায়। পরবর্তীতে সেই কর্মীকে উদ্ধার করতে বাকি তৃণমূল কংগ্রেস সমর্থকরা গেলে তাদের উপরও গুলি চালায় বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরা। আর সেই গুলিতে আরো গুরুতর যখন ছয় তৃণমূল কর্মী। বর্তমানে তারা আশঙ্কাজনক অবস্থায় দিনহাটা মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। ঘটনার জেরে প্রচন্ড উত্তেজনা ছড়িয়েছে এলাকায়। ইতিমধ্যে এলাকায় মোতায়ন রয়েছে বিপুল পুলিশ বাহিনী।
কোচবিহার জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কুমার সানি রাজ জানিয়েছেন, সীমান্ত এলাকায় এই গুলি গালাজ হয়, ঘটনায় খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে দিনহাটা থানার পুলিশ। এরা বাংলাদেশের চোরাচালানকারী কোন দল হলেও হতে পারে। গোটা বিষয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।
কোচবিহার তৃণমূল জেলা সভাপতি অভিজিৎ দে ভৌমিক জানান, ঘটনা আরো পাঁচজন গুলিবিদ্ধ হয়েছে। তারা সকলেই তৃণমূল কংগ্রেস কর্মী, কাল আনুমানিক রাত বারোটা সাড়ে বারোটা নাগাদ প্রচার শেষ করে তারা বাড়ি গিয়েছিল আজ ভোরে তাদের উপরে আক্রমণ হয়। আহত হয়েছেন মিজানুর রহমান, শাকিল হক, রতন বর্মন, রেজ্জাক হোসেন, মনিরুল হক। এরা সকলেই কোচবিহারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এছাড়া আরো একজন আহত উদ্ধার করা হয়েছে, তিনি এখন দিনহাটা মহকুমা হাসপাতালে রয়েছেন। এই ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে দিনহাটায়। ইতিমধ্যেই পঞ্চায়েত নির্বাচন ঘোষণা হওয়ার পর দিনহাটায় মোট খুনের ঘটনা চারটে। আহত এবং আক্রান্তের সংখ্যা নেহাত কম নয়।
ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী তথা দিনহাটার বিধায়ক উদয়ন গুহ সরাসরি আক্রমণ করেছেন সীমান্ত রক্ষী বাহিনীকে। যে জায়গায় ঘটনাটি ঘটেছে অর্থাৎ জারি ধরলা এলাকাটি বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া। প্রায় জিরো পয়েন্টের কাছাকাছি ঘটনাটি ঘটেছে, একদিকে নদী অন্যদিকে বাংলাদেশ। উদয়ন বাবু দাবি করে বলেন সেই এলাকায় সীমান্ত রক্ষে বাহিনীর চোখ এড়িয়ে কোন কিছু করা সম্ভব নয়। এত বড় একটা ঘটনা ঘটে গেল সীমান্তরক্ষী বাহিনীর জওয়ানেরা কোথায় ছিলেন? একই সাথে তিনি বলেন বিজেপির কিছু মন্ত্রী ভিন রাজ্য থেকে দুষ্কৃতিকারীদের নিয়ে এসে কোচবিহার তথা উত্তরবঙ্গের মাটিতে সন্ত্রাস তৈরির চেষ্টা করছে, এই পরিস্থিতি কোন অবস্থাতেই মেনে নেওয়া যায় না। তিনি আরো অভিযোগ করে বলেন বিভিন্ন জায়গা থেকে সমাজবিরোধীদের নিয়ে এসে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর বাড়িতেই আশ্রয় দেওয়া হয়। সুতরাং অবিলম্বে পুলিশের উচিত কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর বাড়িতে কারা আছেন তাদের পরিচয় খুঁজে বার করা। বাড়ি সার্চ করা, আইনানুগ পদ্ধতিতে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করার দাবী জানিয়েছেন তিনি। একই সাথে রাজ্যপাল কে কোচবিহারে আসার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন তিনি। তিনি বলেন রাজ্যপাল নিজে এসে তদন্ত করে দেখুন কারা সাহেবগঞ্জে অশান্তি করছে, কারা দিনহাটাতে অশান্তি করছে তাহলেই সমস্ত দিক পরিষ্কার হয়ে যাবে। তবে ঘটনায় এখনো পর্যন্ত কাউকে আটক বা গ্রেপ্তার করা হয়নি বলে পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে।












Leave a Reply