আবদুল হাই,বাঁকুড়া: সবুজ ধান ক্ষেত আর মেঠো পথ পার করে বিক্রমপুর গ্রামে প্রবেশ করলেই দেখবেন এক সুবিশাল পুকুর। আপনি যদি কৌতহলি হন তাহলে পুকুরপাড়ে বিরাজমান একটি সুন্দর কিন্তু পরিত্যক্ত মন্দির চোখ এড়াবে না কোনওভাবেই। কাছে গেলে স্পষ্ট দেখতে পাবেন টেরাকোটার মন্দিরটি। বাঁকুড়া জেলার ওন্দায় বিক্রমপুর গ্রামে এইভাবেই পরিচর্যার অভাবে পড়ে রয়েছে বিষ্ণুপুরের মল্ল রাজার আমলের বিগ্রহ হীন শতাব্দী প্রাচীন মন্দির। মন্দিরের গায়ে খোদাই করা ইতিহাস অপেক্ষা করছে পরিচর্যার ছোঁয়ার। মন্দিরের আরও কাছে গেলে দেখতে পাবেন টেরাকোটার কারু কার্য ঢেকে গেছে ঘুঁটেতে। মন্দিরের বাইরে চড়ে বেড়াচ্ছে গরু ছাগল। ঐতিহাসিক মন্দির রূপান্তরিত হয়েছে গোয়াল ঘরে।
এত কিছু দেখার পর স্বাভাবিক ভাবেই মনে প্রশ্ন জাগবে। একটু অনুসন্ধান করলেই জানা যাবে বিক্রমপুর গ্রামের একপ্রান্তে বাস করে বল্লভ পরিবার। এই পরিবারের কাছেই রয়েছে মন্দিরের সেবা করার দায়িত্ব। তাঁদের কাছেই রয়েছে মন্দিরের শতাব্দী প্রাচীন অষ্ট ধাতুর বিগ্রহ। এখন গ্রামের মানুষ পালা করে পূজা করেন। বল্লভ পরিবারের এক সদস্য জানান বিষ্ণুপুরের মল্ল রাজা গোপাল সিংহ মহারাজ তৎকালীন সময়ে মুখার্জী পরিবারকে দেন মন্দিরের দায়িত্ব এবং কিছু সম্পত্তি সঙ্গে উপাধী দেন বল্লভ। তারপর থেকে বল্লভ পরিবারের তত্ত্বাবধানে চলে আসছে মন্দিরের সেবার কাজ। যাঁরা খোঁজ খবর রাখেন তাঁরা মন্দির দেখতে এলে বল্লভদের মুখেই জেনে নেন ইতিহাস।
মন্দিরের বর্তমান অবস্থা যথেষ্ট বেদনাদায়ক। গরু ছাগল আর ঘুঁটে ছাড়াও মন্দিরের গায়ে গজিয়েছে আগাছা। যার জেরে ফাটল দেখা যেতে পারে। এই নিয়ে যথেষ্ট চিন্তিত ৭৮ বছরের গুইরাম বল্লভ, তিনি জানান যত দ্রুত সম্ভব মন্দিরের সংস্কারের দাবি জানাচ্ছি।












Leave a Reply