কোলাঘাটে ফুলের হাটে সকালের ভরা বাজারেই বৃদ্ধার সোনার গহনা সহ বিধবা ভাতার টাকা নিয়ে চম্পট দিল দুষ্কৃতীরা।

পূর্ব মেদিনীপুর, নিজস্ব সংবাদদাতা:-  আজ বুধবার সকাল আটটা। দেনান গ্রামের অশতীপর বৃদ্ধা তুলসী সামন্ত চার ছেলের সংসারে থাকেন। পুরানো দিনের মানুষ , নিজে ঘুরে প্রত্যেক দিন বাজার হাট করতে ভালোবাসেন।
রোজকার মত আজো সকালে কোলাঘাট স্টেশন সংলগ্ন ফুল বাজারে নিত্য বাজার করতে আসেন।
তিনজন অপরিচিত যুবক ওনাকে নানান কথায় ভুলিয়ে অদূরেই পরিত্যক্ত পুরানো শরৎসেতূর উপর নিয়ে যান।
এরপর জোরপূর্বক মুখে চাপা দিয়ে কানে সোনার চেন পাশা, গলায় সোনার হার এবং ব্যাগে থাকা বৃদ্ধার বিধবা ভাতার দুই হাজার টাকা নিয়ে দূঃস্কৃতকারীরা মোটর সাইকেলে পালাতে সক্ষম হয়।

এরপর ওই বৃদ্ধা কান্নাকাটি শুরু করলে স্থানীয়রা বাড়ি পাঠিয়ে দেন। বাড়ির লোকজন পুলিশে অভিযোগ জানিয়েছেন।
বৃদ্ধার কথা অনুযায়ী অপরিচিত কজন যুবক কদিন ধরেই ফুল বাজারে ওনাকে চা খাওয়ায় কথা বললেও উনি রাজি হননি। আজকেই ঘটে গেল এই বিপত্তি।
ওনার ছেলে শ্রমজীবী রবীন সামন্ত জানান, “মা কে বহুবার এইসব সোনার গহনা পরে বাইরে বেরাতে বা বাজার যেতে মানা করলেও মা কোন কথা শোনেনি। মায়ের বয়স হয়েছে, বাবার স্ম্যতি আঁকড়ে সোনার গহনা পরে থাকতেন। মা ভেবে ছিলেন তার শরিরেই এই গহনাগুলো নিরাপদ।
তারপর সাতসকালেই প্রকাশ্য বাজারে আজ এমন ঘটে গেল।
তাহলে কি লোকজন বাজারে ফেরাবে না !
আমরা চাই এর তদন্ত হোক দোষীরা ধরা পড়ুক।”

উল্লেখ্য, ঘটনাস্থল বা ফুলবাজর কিন্তু রেলের অধীনে। প্রত্যেকদিন রেল পুলিশের পক্ষ হতে রশিদের বিনিময়ে ফুল ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ফুল হাটে বসার জন্য নিয়মিত টাকা কালেকশন করা হয়। রেল পুলিশও এই এলাকার নিরাপত্তার দায়িত্বে এড়িয়ে যেতে পারেন না।
প্রকাশ্য দিবালোকে এই ধরনের ঘটনায় এলাকায় জনমানসে যেমন ভীতির সঞ্চার হয়েছে, পাশাপাশি গভীর উদ্বেগের সাথে ক্ষোভও দানা বাঁধছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *