আবদুল হাই, বাঁকুড়াঃ- নদীতে স্নান করতে গিয়ে প্রায় তিন ফুট উচ্চতার প্রাচীণ শিব লিঙ্গ আকৃতির পাথর উদ্ধার হলো সিমলাপালের পল্লীভারতী এলাকায়। আর এই পাথর ঘিরে ব্যাপক হৈ চৈ শুরু হয়েছে এলাকায়। উদ্ধার হওয়া পাথর পল্লীভারতী তিলাবনী হাই স্কুল সংলগ্ন এলাকার একটি কালী মন্দিরে রেখে ইতিমধ্যে পুজা পাঠও শুরু করেছেন কয়েকজন।
স্থানীয় সূত্রে খবর, ওই এলাকায় সরকারী উদ্যোগে শিলাবতী নদীর পাড় বাঁধাইয়ের কাজ চলছে। তার মাঝেই নদীতে স্নান করতে যায় পল্লী ভারতী-বাঁকিপাল গ্রামের দুই যুবক। ওই দুই যুবক নদীতে স্নান করতে নেমে শিবলিঙ্গ আকৃতির পাথরের সন্ধান পেয়ে গ্রামে খবর দিলে ঢাকের বাদ্য সহযোগে সাইকেলে চাপিয়ে স্থানীয় মন্দিরে আনা হয়। এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই প্রচুর মানুষ তা দেখার জন্য ভীড়। ভক্তিভরে প্রণামও করছেন কেউ কেউ।
নদী থেকে ওই পাথর উদ্ধারকারীদের একজন বিনু কালিন্দী বলেন, নদীতে স্নান করতে গিয়েই এই শিবলিঙ্গের সন্ধান পাই। নিজেরা দুই বন্ধু মিলে কোন রকমে তুলে গ্রামে খবর দিই। পরে গ্রামের মানুষ সবাই মিলে গিয়ে এখানে নিয়ে আসি। তবে তিনি ইতিমধ্যে স্বপ্নাদেশ পেয়ে রাতে কালী মন্দিরে এই পাথরের মূর্তির কাছে রাতে থাকছেন বলেও জানিয়েছেন।
গ্রামবাসী ফুল্লরা সিংহমহাপাত্র বলেন, ঠাকুর নিজের ইচ্ছায় আমাদের গ্রামে এসেছেন। এখন গ্রামের সবাই মিলে গ্রামে রেখেই পূজা করবো। আগামী দিনে সম্মিলীত উদ্যোগে মন্দির তৈরীর চিন্তাভাবনা তাঁরা করছেন বলে তিনি জানান।
বিশিষ্ট গবেষক ও শিক্ষক রামামৃত সিংহমহাপাত্র এবিষয়ে বলেন, সাধারণভাবে দেখলে শিবলিঙ্গের মতো মনে হলেও আদতে তা নয়, এটি সম্ভবত কোন প্রাচীণ মন্দিরের ভগ্নাবশেষ হতে পারে। যে জায়গা থেকে এই পুরাতাত্বিক নিদর্শনটি পাওয়া গেছে তা একটি উৎকৃষ্ণ প্রত্ন স্থল। এই কারণে এটি কোন জৈন মন্দিরের ধ্বংসাবশেষ হলেও বিস্মিত হওয়ার কোন কারণ নেই। তবে সম্ববত এটি পাল যুগের হলেও হতে পারে বলে তিনি জানান।












Leave a Reply