তৃণমূলের পার্টি অফিস ভেঙে খাসজমি দখল করার অভিযোগ দলেরই এক কর্মীর বিরুদ্ধে।

নিজস্ব সংবাদদাতা, মালদা—  তৃণমূলের পার্টি অফিস ভেঙে খাসজমি দখল করার অভিযোগ দলেরই এক কর্মীর বিরুদ্ধে। পুলিস ও ব্লক প্রশাসনে অভিযোগ জানিয়েছে পরিবারগুলি। কিন্তু সকলকে অবাক করে দিয়ে দলের ওই কর্মীকে বাঁচাতে একই দাগের খাসজমিতে বসবাসকারী ১২ জন ভূমিহীন পরিবারকে জায়গা খালি করার নোটিস জারির অভিযোগ উঠেছে তৃণমূলের প্রধানের বিরুদ্ধে। এ নিয়ে বেজায় ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা। রবিবার রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখালেন দলের নেতাকর্মীরা। ঘটনাটি হরিশ্চন্দ্রপুরের কুশিদা মুসলিমপাড়া এলাকার। বিক্ষোভকারীরা জানান, স্থানীয় বাসিন্দা তথা তৃণমূলের সক্রিয় কর্মী তজিমুল হকের বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ। প্রধান ব্যবস্থা না নিয়ে তারই পক্ষ নিয়েছেন। যদিও, তজিমুলের দাবি, তিনি জায়গা কিনে নিয়েছেন।স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৩ সালে পঞ্চায়েত নির্বাচনের সময় মুসলিম পাড়ায় ছ’শতক খাস জমিতে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা পার্টি অফিস গড়ে তোলেন। অভিযোগ, তৃণমূল কর্মী তজিমুল পার্টি অফিস ভেঙে টিনের বেড়া দিয়ে ঘিরে নেন। কেউ প্রতিবাদ করলে মারধর করতে আসেন। এই নিয়ে দুইপক্ষের মধ্যে একাধিকবার বিবাদ হয়। হরিশ্চন্দ্রপুর থানা, বিডিও অফিস, ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তর সহ একাধিক প্রশাসনিক দপ্তরে অভিযোগ দায়ের করেন স্থানীয়রা। এদিন অভিযোগকারী তৃণমূল নেত্রী শেফালি খাতুন বলেন, জমির মালিক স্বেচ্ছায় ২০২৩ সালে পার্টি অফিস করতে দেন দলকে। এরপর তজিমুল সেই জায়গা দখল করে নেন। স্থানীয় বাসিন্দা ও দলের নেতা কর্মীরা ওর নামে বিভিন্ন প্রশাসনিক দপ্তরে অভিযোগ দায়ের করেছেন। মাপজোক হয়েছে। প্রধানকে দখলমুক্ত করার জন্য ব্যাবস্থা নিতে বলেছেন বিডিও। কিন্তু প্রধান অভিযুক্তকে বাঁচাতে ভূমিহীন ১২ জন ব্যক্তির নামে নোটিশ জারি করে দিয়েছেন।এদিকে অভিযুক্ত বলেন, আমরা দু’জন ৪৪ শতক জমি কিনে নিয়েছি। স্বাভাবিকভাবেই খাস জমিটি আমাদের দখলে এসেছে। তাই ঘিরে নিয়েছি। এখানে কোনও তৃণমূলের পার্টি অফিস ছিল না। মিথ্যা বলছেন তাঁরা। এ নিয়ে কুশিদা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান সামিনা পারভিনের স্বামী
মহম্মদ আজহারউদ্দিন বলেন, ব্লক প্রশাসনের নির্দেশে ১২ জনের নামে নোটিস জারি করা হয়েছে। ৭ দিনের মধ্যে জায়গা খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যদিও হরিশ্চন্দ্রপুর-১ এর বিডিও সৌমেন মণ্ডল সাফ জানিয়েছেন, সেটি পঞ্চায়েতের জায়গা। যে খাস জমিটি নিয়ে ঝামেলা চলছে, সেটি দখলমুক্ত করতে প্রধানকে ব্যবস্থা নিতে বলেছি। ব্লক প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনও নোটিস জারি করা হয়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *