দুঃস্থ শিক্ষার্থীদের জন্য এগিয়ে এলো কোলাঘাটের সংকেত,একশোরও বেশি ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে শুরু হল ফ্রি কোচিং।

পূর্ব মেদিনীপুর, নিজস্ব সংবাদদাতাঃ- লক্ষ্য একটাই! পড়াশোনার ক্ষেত্রে যেন না পিছিয়ে পড়ে দুঃস্থ পরিবারের শিক্ষার্থীরা। আর তাদের জন্য সম্পূর্ণ বিনামূল্যে তৈরি হয়েছে কোচিং সেন্টার। যেখানে অংক, ইংরেজি থেকে ভৌত বিজ্ঞান সহ বিভিন্ন বিষয়ে শিক্ষাদান করা হচ্ছে প্রায় ১০০ এর বেশি দুঃস্থ পরিবারের শিক্ষার্থীদের। আর এই ফ্রি কোচিং সেন্টার চালিয়ে যাচ্ছে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার কোলাঘাটের সংকেত সংস্থা। সারা বছরই নানান সমাজসেবা কাজের পাশাপাশি পিছিয়ে পড়া পরিবারের ছাত্র-ছাত্রীরা যাতে সঠিক উপায়ে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে তার জন্য এই উদ্যোগ নিয়েছে ঐ সংস্থা।

বর্তমান সময়ে শিক্ষাব্যবস্থা দিন দিন মহার্ঘ্য হয়ে উঠছে। দাম বাড়ছে বই সহ শিক্ষা সামগ্রীর। প্রাইভেট টিউশন ফী বছরের পর বছর বেড়েই চলেছে। এমনই অবস্থা দুঃস্থ পরিবারে বর্তমানে পড়াশোনাটা বিলাসিতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই এইসব পরিবারের শিক্ষার্থীরা যাতে শিক্ষা গ্রহণে পিছিয়ে যেন না পড়ে সেই দিকেই খেয়াল রেখে এই ফ্রী কোচিং সেন্টার চালিয়ে যাচ্ছে ওই সংস্থা। যেখানে ৬ জন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক, দুঃস্থ পরিবারের পঞ্চম শ্রেণী থেকে দশম শ্রেণী পর্যন্ত ১১৩ জন শিক্ষার্থীদের অংক, ইংরেজি, ভৌত বিজ্ঞান ও জীবন বিজ্ঞান সহ বিভিন্ন বিষয়ের পাঠ দান করছেন।

এই ফ্রী কোচিং সেন্টার বা অবৈতনিক শিক্ষা কেন্দ্র নিয়ে সংস্থার অন্যতম সদস্য অসীম দাস জানান, ‘বর্তমান সময়ে গৃহ শিক্ষক বা প্রাইভেট টিউটর ছাড়া পড়াশোনা হয় না। ‌ কিন্তু খেটে খাওয়া পরিবারে শিক্ষার্থীদের জন্য প্রাইভেট টিউটর একপ্রকার বিলাসিতা। ফলে ওইসব পরিবারের শিক্ষার্থীরা শিক্ষার দিকে কিছুটা পিছিয়ে থাকে। তাদের কথা ভেবেই এই ফ্রী কোচিং সেন্টার চালু করা হয়েছে। পঞ্চম থেকে দর্শন শ্রেণী পর্যন্ত ১১৩ জন পড়ুয়া ফ্রি কোচিং ক্যাম্প থেকে বিভিন্ন বিষয়ে পাঠদান লাভ করছে। এর পাশাপাশি প্রতিবছর এইসব শিক্ষার্থীদের শিক্ষা সামগ্রী ও তুলে দেওয়া হচ্ছে।’

কোলাঘাট সংকেতের উদ্যোগে এই ফ্রী কোচিং সেন্টার দিনের পর দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। কোলাঘাটের বিভিন্ন এলাকা থেকে দুস্থ পরিবারের ছেলে মেয়েরা বিনা পয়সায় বিভিন্ন বিষয়ে পাঠদানের সুযোগ পাচ্ছে। উদ্যোক্তাদের দাবি আগামী দিনে আরো কয়েকটি এই ফ্রী কোচিং সেন্টার চালু করার চিন্তাভাবনা রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *