
দক্ষিণ দিনাজপুর, নিজস্ব সংবাদদাতা:- আদিবাসী শ্রমিককে প্রায় এক বছর ধরে শ্রমের টাকা না দিয়ে দিল্লির এক কারখানায় আটকে রাখার অভিযোগ উঠল শ্রমিক সরবরাহকারী ও ঠিকাদারের বিরুদ্ধে। এমন ঘটনার খবর চাউর হতেই ভিন রাজ্যের শ্রমিক সরবরাহকারী দালাল ও ঠিকাদারের বিরুদ্ধে শাস্তির দাবি জানিয়ে সরব হয়েছেন আদিবাসী সমাজ সহ এলাকার বাসিন্দারা। এই ঘটনায় রবিবার সকালে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার হিলি থানায় লিখিত অভিযোগ জানিয়ে তিন নম্বর ধলপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার দিল্লিতে আটকে থাকা আদিবাসী শ্রমিকের স্ত্রী ডুমিলা পাহান জানান যে, গত ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে স্বামীকে দুই মাসের জন্য কাজের নাম করে গ্রামেরই প্রতিবেশী এক দালাল ও বালুরঘাট থানা এলাকার চিঙ্গিসপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের আমরাইল এলাকার এক মহিলা শ্রমিক সরবরাহকারী দালালের মাধ্যমে। হরিয়ানায় শ্রমিকের কাজে নাম করে স্বামীকে নিয়ে যাওয়া হয় । তিনি আরো বলেন যে প্রতিমাসে পরিশ্রমের বাবদ দশ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে বলে। প্রথমত দুই মাসের কথা বলে তাকে নিয়ে যাওয়া হয়। তিনি বলেন বর্তমানে এগারো মাস হয়ে গেল কোনরকম পরিশ্রমের টাকা তাকে দেওয়া হচ্ছেনা। স্বাভাবিক কারণে টাকা না পাওয়ার ফলে বাড়িতেও আসতে পারছে না স্বামী। এমনটাই অভিযোগ দালাল ও শ্রমিক সরবরাহকারী ঠিকাদারের বিরুদ্ধে। তিনি বলেন স্বামীর সাথে ফোনে কথা বলার সময় কেড়ে নেওয়া হয়। অন্যের ফোন দিয়ে কথা বলতে দেওয়া হয় না। কুড়ি দিন আগে স্বামী নিজের বাড়িতে আসার জন্য বাড়ির ধান বিক্রয় করে। একটি পেটিএম নাম্বারের মাধ্যমে পনের শো টাকা করে ৩ দফায় টাকা পাঠানো হলেও সেই টাকা পেয়েও। কোন ভাবেই সেই কারখানার ভেতর থেকে বাইরে আসতে দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। ডুমিলা পাহান আরো বলেন যে গ্রামের প্রতিবেশী এবং চেঙ্গিসপুর এলাকার যে শ্রমিক সরবরাহকারী দালালের হাত ধরে আমার স্বামী ভিন রাজ্যে গিয়েছিল। তাদের বাড়িতে গিয়ে অনেকবার স্বামীকে ফিরিয়ে আনার জন্য অনুরোধ নিবেদন করা হলেও তারা কোন কথাই কর্ণপাত করছেন না বলে অভিযোগ ডুমিলা পাহানের।বারবার এই শ্রমিক সরবরাহকারী গ্রামের প্রতিবেশীর দালালের কাছে স্বামীকে ফিরিয়ে আনার জন্য যাওয়া হলে তিনি বিরক্ত হয়ে শ্মশানে ও হুমকি দিচ্ছেন বলে তিনি জানান। আমরাইল এলাকার দালাল মহিলাটিও হয়ে বার বার যোগাযোগ করার ফলে বিরক্ত বোধ মনে করেন বলে অভিযোগ করেন এই মহিলা। তাই বাধ্য হয়ে দুই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে হিলি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। এই প্রসঙ্গে হিলি থানার আই সি শীর্ষেন্দু দাস জানিয়েছেন যে অভিযোগ হাতে পেয়েছি। বিষয়টি খতিয়ে রাখা হচ্ছে। যাতে এই শ্রমিকটি বাড়ি ফিরে আসতে পারে। সেই বিষয়টিও দেখা হবে। বলে তিনি জানান।












Leave a Reply