
পশ্চিম মেদিনীপুর, নিজস্ব সংবাদদাতা:- বাংলা ভাষা নিয়ে ফের উত্তাল রাজ্য রাজনীতি। দিল্লি পুলিশের সাম্প্রতিক এক চিঠিতে বাংলা ভাষাকে “বাংলাদেশি ভাষা” বলে উল্লেখ করাকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিতর্কে এবার বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের মন্তব্য নতুন করে আগুনে ঘি ঢেলেছে। বিতর্কিত ওই বক্তব্যে দিল্লি পুলিশের অবস্থানকেই সমর্থন করলেন তিনি, যার ফলে তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে শুরু হয়েছে প্রবল প্রতিবাদ।
দিলীপ ঘোষের কথায়,
> “বিদেশের রেডিওতে যেসব ভাষার অনুষ্ঠান হয়, তার মধ্যে বাংলাদেশের ভাষাকেই বাংলা হিসেবে ধরা হয়, পশ্চিমবঙ্গের ভাষা নয়। রোহিঙ্গা বা বাংলাদেশিদের ভাষার সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের বাংলার মিল নেই। যেমন খাইতাসি, যাইতাসি— এসব তো আমরা বলি না! দিল্লি পুলিশের তাই মনে হয়েছে এটা বাংলাদেশি ভাষা। এতে আপত্তির কী আছে?”
এই মন্তব্যের পর তৃণমূল নেতৃত্ব ক্ষোভে ফেটে পড়ে। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এক্স (পূর্বতন টুইটার)-এ লেখেন,
> “এটা বিজেপির পরিকল্পিত প্রচেষ্টা। পশ্চিমবঙ্গের সাংস্কৃতিক পরিচয়কে কলঙ্কিত করা, এবং আমাদের ভাষাকে বিদেশি তকমা দিয়ে রাজনীতির ফায়দা তোলা।”
উল্লেখ্য, কিছুদিন আগেই দিল্লির লোদি কলোনি থানার তরফে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছিল দিল্লিতে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বঙ্গভবনের ইনচার্জকে। অভিযোগ, সেই চিঠিতে বাংলা ভাষাকে বাংলাদেশি ভাষা হিসেবে চিহ্নিত করে দিল্লি পুলিশ। চিঠির খবর প্রকাশ্যে আসতেই রাজনীতির ময়দানে ঝড় ওঠে।
তৃণমূল কংগ্রেস এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নেতৃত্বাধীন দিল্লি পুলিশের ভূমিকার কড়া সমালোচনা করে। অভিযোগ, বাংলা বললেই আজকের দিনে ‘বাংলাদেশি’ তকমা জুড়ে দেওয়া হচ্ছে।
এই আবহে দিলীপ ঘোষের মন্তব্য শাসকদলের অস্বস্তি যেমন বাড়িয়েছে, তেমনই বাংলার মানুষকে অপমান করার অভিযোগ তুলে বিজেপিকেও প্রবল চাপে ফেলেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।












Leave a Reply