
হিমাচল প্রদেশের মনোমুগ্ধকর পাহাড়ি জেলা কুল্লু-কে বলা হয় “ভ্যালি অফ গডস” বা দেবতাদের উপত্যকা। সবুজ পাহাড়, বিয়াস নদীর টলমলে স্রোত, আপেল বাগান, দেবদারু বন আর শান্ত পরিবেশ কুল্লুকে করে তুলেছে প্রকৃতিপ্রেমীদের স্বপ্নের গন্তব্য। কুল্লু শুধু প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য নয়, বরং এর সমৃদ্ধ সংস্কৃতি, রঙিন উৎসব এবং অ্যাডভেঞ্চার স্পোর্টসের জন্যও বিখ্যাত।
কীভাবে পৌঁছাবেন
- বিমানপথ: কুল্লুর নিকটবর্তী বিমানবন্দর হলো ভুন্তার এয়ারপোর্ট (Bhuntar), যেখান থেকে কুল্লু শহর মাত্র ১০ কিমি দূরে।
- সড়কপথ: দিল্লি, চণ্ডীগড় ও শিমলা থেকে সরাসরি বাস ও ট্যাক্সি পরিষেবা পাওয়া যায়।
- রেলপথ: নিকটবর্তী রেলস্টেশন জোগিন্দরনগর বা চণ্ডীগড়, সেখান থেকে সড়কপথে কুল্লু।
️ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য
কুল্লু উপত্যকা এক স্বপ্নময় দৃশ্যপট।
- দূরদূরান্ত পর্যন্ত বিস্তৃত সবুজ পাহাড় ও চা-বাগান।
- বিয়াস নদীর ধারে দাঁড়িয়ে বরফঢাকা পাহাড় দেখলে মন ভরে যায়।
- শীতকালে তুষারপাত কুল্লুকে সাদা চাদরে ঢেকে দেয়, যেন ছবির মতো সুন্দর হয়ে ওঠে।
️ দর্শনীয় স্থান
- রঘুনাথ মন্দির: কুল্লুর প্রধান ধর্মীয় কেন্দ্র, রামভক্তদের জন্য পবিত্র স্থান।
- বিজলি মহাদেব মন্দির: ২৪৬০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত শিবমন্দির, এখান থেকে পুরো কুল্লু উপত্যকার অপরূপ দৃশ্য দেখা যায়।
- গ্রেট হিমালয়ান ন্যাশনাল পার্ক: ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট, যেখানে দেখা যায় বিরল প্রজাতির পাখি ও প্রাণী।
- অখরা বাজার: স্থানীয় হস্তশিল্প, পশমি শাল ও কাঠের কারুকাজ কেনার জন্য আদর্শ জায়গা।
- মণিকরণ সাহিব: কুল্লু থেকে ৪৫ কিমি দূরে অবস্থিত গুরুদ্বারা ও উষ্ণ প্রস্রবণ – ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক কেন্দ্র।
অ্যাডভেঞ্চার কার্যকলাপ
কুল্লু অ্যাডভেঞ্চারপ্রেমীদের জন্য এক স্বর্গ।
- রিভার রাফটিং: বিয়াস নদীতে রাফটিং কুল্লুর সবচেয়ে জনপ্রিয় স্পোর্টস।
- ট্রেকিং: মালানা, খীরগঙ্গা, সার পাসের মতো ট্রেকিং রুট ট্রেকারদের কাছে খুব জনপ্রিয়।
- প্যারাগ্লাইডিং ও ক্যাম্পিং: উপত্যকার খোলা প্রান্তরে আকাশে ভেসে বেড়ানো ও রাতের আকাশের নিচে ক্যাম্প করার অভিজ্ঞতা ভ্রমণকে স্মরণীয় করে তোলে।
কুল্লু দশেরা
কুল্লুর সবচেয়ে বড় উৎসব হলো কুল্লু দশেরা। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভক্তরা এই উৎসবে অংশ নিতে আসে। রঘুনাথজিকে রথে বসিয়ে শোভাযাত্রা বার করা হয়, আর মেলা চলে সাত দিন ধরে। এটি কুল্লুর সাংস্কৃতিক পরিচয়ের মূল আকর্ষণ।
স্থানীয় খাবার
কুল্লুর খাবারে রয়েছে বিশেষ পাহাড়ি স্বাদ।
- সিদ্দু: গমের ময়দা দিয়ে বানানো বিশেষ রুটি।
- ধাম: উৎসবের দিনে পরিবেশিত ঐতিহ্যবাহী থালি।
- ট্রাউট ফিশ: স্থানীয় নদীতে ধরা তাজা মাছ দিয়ে তৈরি সুস্বাদু পদ।
ভ্রমণের সেরা সময়
- মার্চ থেকে জুন: প্রকৃতির সবুজ সৌন্দর্য উপভোগের সেরা সময়।
- অক্টোবর থেকে জানুয়ারি: তুষারপাত দেখার ও শীতকালীন খেলাধুলার আদর্শ সময়।
উপসংহার
কুল্লু এমন একটি জায়গা যেখানে প্রকৃতি, ধর্মীয় গুরুত্ব ও অ্যাডভেঞ্চার—সব একসাথে উপভোগ করা যায়। আপনি যদি শহরের কোলাহল থেকে কিছুদিনের জন্য মুক্তি চান এবং শান্ত প্রকৃতির কোলে সময় কাটাতে চান, তবে কুল্লু হবে আপনার জন্য সেরা গন্তব্য।












Leave a Reply