
জিম করবেট ন্যাশনাল পার্ক – বন্যপ্রাণীর স্বর্গরাজ্য
উত্তরাখণ্ডের রামনগর এলাকায় অবস্থিত জিম করবেট ন্যাশনাল পার্ক, ভারতের প্রথম জাতীয় উদ্যান। এটি ১৯৩৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এবং বর্তমানে বন্যপ্রাণীপ্রেমী ও প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য এক আকর্ষণীয় গন্তব্য। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৬৫০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত এই উদ্যান টাইগার সংরক্ষণের জন্য বিশ্বখ্যাত।
কীভাবে পৌঁছাবেন
- সড়কপথ: রামনগর, নৈনিতাল বা রামপুর থেকে বাস বা ভাড়ার গাড়িতে পৌঁছানো যায়।
- নিকটতম রেলস্টেশন: রামনগর (প্রায় ৭ কিমি)।
- নিকটতম বিমানবন্দর: জলি গ্রান্ট বিমানবন্দর, দেরাদুন (প্রায় ৮৫ কিমি)।
️ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য
জিম করবেট ন্যাশনাল পার্ক হিমালয়ের পাদদেশে বিস্তৃত বনাঞ্চল, নদী, ঝর্ণা এবং পাহাড়ি ঘেরা এলাকা নিয়ে গঠিত। এখানে সল, শিশম, বাঁশ, অরণ্য এবং হরিত বনভূমি পর্যটকদের মনকে আকর্ষণ করে। উদ্যানের বিভিন্ন সাফারি রুট থেকে প্রকৃতির অসাধারণ দৃশ্য দেখা যায়।
বন্যপ্রাণী ও জীবন
জিম করবেট ন্যাশনাল পার্কে ভারতের রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারসহ বহু ধরণের বন্যপ্রাণী দেখা যায়। এখানে পাওয়া যায়:
- হরিণ, হাতি, বুনো শূকর, নীলগাই
- চিতা, ল্যান্সার এবং বিভিন্ন প্রজাতির পাখি
- বন্যপ্রাণী ও নদী জীবন পর্যবেক্ষণ জন্য পার্কটি উপযুক্ত।
️ দর্শনীয় স্থান ও কার্যকলাপ
- সাফারি ট্যুর: ভোরবেলা ও বিকেলের সাফারি ট্যুরে বন্যপ্রাণী দেখা যায়।
- রামনগর দুর্গ: পার্কের কাছে অবস্থিত ঐতিহাসিক দুর্গ।
- কুমাউঁ ঘাট: নদী ও বনাঞ্চলের সঙ্গে প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়।
- ক্যাম্পিং ও ট্রেকিং: বন এবং পাহাড়ি পথ ধরে অ্যাডভেঞ্চার করতে পারবেন।
পর্যটক সুবিধা
পার্কের আশেপাশে হোটেল, রিসর্ট এবং রেস্ট হাউস রয়েছে। স্থানীয় খাবার ও হোটেল পরিষেবা পর্যটকদের জন্য সহজলভ্য।
ভ্রমণের সেরা সময়
- নভেম্বর থেকে জুন: এই সময় উদ্যান খোলা থাকে এবং বন্যপ্রাণী পর্যবেক্ষণের জন্য উপযুক্ত।
- বর্ষাকালে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) পার্কের রাস্তা জলমগ্ন এবং সাফারি সম্ভব হয় না।
উপসংহার
জিম করবেট ন্যাশনাল পার্ক শুধু একটি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য নয়, এটি প্রকৃতির অপূর্ব নৈসর্গিক সৌন্দর্যের এক অনন্য মিলনক্ষেত্র। টাইগার সাফারি, বনভ্রমণ, ঝর্ণা এবং নদীর ধারা – সব মিলিয়ে এটি প্রকৃতি ও অ্যাডভেঞ্চার প্রেমীদের জন্য এক স্মরণীয় অভিজ্ঞতা।












Leave a Reply