দূর্গা পুজোর দিনে কিভাবে সাজবেন : পরিপূর্ণ গাইড।।

দূর্গা পুজো শুধু বাঙালির জন্যই নয়, এটি বাঙালি সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের অন্যতম বড় উৎসব। এই দিনে শুধু মণ্ডপে যেতে হয় না, ঘরোয়া বা পারিবারিক অনুষ্ঠানে অংশ নিতে গিয়ে সাজগোজও গুরুত্বপূর্ণ। সাজগোজ কেবল বাহ্যিক সৌন্দর্য নয়, এটি উৎসবের আবেগকে আরও উজ্জ্বল করে।

১. পোশাক নির্বাচন: ঐতিহ্য ও আধুনিকতার সংমিশ্রণ

  • সাধারণ বাঙালি স্টাইল:
    শাড়ি দূর্গা পুজোর অপরিহার্য অংশ। হালকা বা উজ্জ্বল রঙের শাড়ি, যেমন লাল, হলুদ, কমলা, সোনালী বা সবুজ, পুজোর জন্য একদম উপযুক্ত। জ্যামদানি, তান্ত বা শিল্ক শাড়ি সবচেয়ে বেশি পছন্দ করা হয়।
  • আধুনিক সংযোজন:
    যদি শাড়িতে আরামবোধ না করেন, লেহেঙ্গা, আনস্টিচড বা কুর্তি-প্যালাজো সেটও ভালো বিকল্প। শাড়ির সঙ্গে ব্লাউজ বা কুর্তি আধুনিক ফ্যাশনের ছোঁয়া দিতে পারে।
  • পূজার থিমের সঙ্গে মিলিয়ে রঙ:
    মণ্ডপ সাজ বা প্যান্ডেল ডেকরের রঙের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পোশাকের রঙ বেছে নিলে আরও সুন্দর লাগে।

২. জুয়েলারি ও আনুষঙ্গিক

  • স্বর্ণালংকার বা নকল স্বর্ণালংকার:
    গলার হার, চুড়ি, কানের দুল এবং আংটি—সবই পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে নিন। হালকা নকশা সকালে আরামদায়ক, কিন্তু সন্ধ্যায় মণ্ডপে বড় ও চোখ ধাঁধানো লুক দিতে পারেন।
  • বেল্ট বা পাগড়ি:
    শাড়ি বা লেহেঙ্গার সঙ্গে হালকা বেল্ট ব্যবহার করলে ফিগার সুন্দর দেখায়।
  • হাতের ব্যাগ বা ক্লাচ:
    ছোট ক্লাচ বা হাত ব্যাগে শুধুমাত্র মোবাইল, নগদ ও প্রয়োজনীয় জিনিস রাখুন।

৩. মেকআপ: প্রাকৃতিক ও উজ্জ্বল

  • মুখের মেকআপ:
    হালকা ফাউন্ডেশন বা টিন্টেড মোইশ্চারাইজার দিয়ে ত্বককে উজ্জ্বল দেখান। চোখের জন্য কালার ইত্যাদি হালকা রাখুন।
  • চোখের মেকআপ:
    আইলাইনার ও কজল পুজোর লুককে চমৎকারভাবে হাইলাইট করে। সন্ধ্যায় চোখে স্মোকি বা সোনালী শেড ব্যবহার করতে পারেন।
  • লিপস্টিক ও ব্লাশ:
    লাল বা পিঙ্ক লিপস্টিক পুজোর জন্য সর্বোত্তম। হালকা ব্লাশ বা রোডার দিয়ে গালের রঙ আরও সুন্দর দেখাবে।

৪. চুলের স্টাইল

  • উচ্চ বুন বা চুল খোলা:
    শাড়ির সঙ্গে উচ্চ বুন বা বক্স বুন ভালো মানায়। হালকা ফুল বা হেয়ারপিন ব্যবহার করতে পারেন।
  • চুল খোলা:
    চুল খোলা রাখলে প্রাকৃতিক ও নরম লুক পাওয়া যায়। হালকা কার্ল বা ওয়েভ চুলকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।

৫. পায়ের জুতা

  • হিল বা স্যান্ডেল পুজোর দিনের জন্য আরামদায়ক ও সাজগোজের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া উচিত।
  • লেহেঙ্গা বা শাড়ির সঙ্গে হালকা স্যান্ডেল বা জুতা ভালো মানায়।

৬. অঙ্গভঙ্গি ও আত্মবিশ্বাস

সাজগোজের শেষ অংশ হলো আত্মবিশ্বাস। যেকোনো সাজে আপনি নিজেকে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করলে সেটাই সবচেয়ে আকর্ষণীয় দেখাবে।


উপসংহার:
দূর্গা পুজোর দিনে সাজগোজ কেবল বাহ্যিক সৌন্দর্য নয়, এটি উৎসবের আনন্দ এবং ঐতিহ্যের সঙ্গে আত্মাকে মেলানোর একটি উপায়। শাড়ি বা লেহেঙ্গার সঙ্গে সঠিক রঙ, হালকা মেকআপ, সুন্দর চুলের স্টাইল ও আরামদায়ক জুতা নির্বাচন করলে পুজোর দিনে আপনি নিজেকে দেখতে পারবেন আরও উজ্জ্বল ও আত্মবিশ্বাসী।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *