
পাঞ্জাবের হৃদয়ে অবস্থিত অমৃতসর শিখ ধর্মের অন্যতম পবিত্র শহর। এখানে রয়েছে বিখ্যাত সোনার মন্দির বা হরমন্দির সাহিব, যা সারা বিশ্বের শিখদের প্রধান তীর্থস্থান। স্বর্ণমণ্ডিত গুরদোয়ারা, শান্ত সরোবর, পবিত্র গুরুগ্রন্থ সাহিবের পাঠ এবং কীর্তনের সুর মিলে এমন এক আধ্যাত্মিক আবহ তৈরি করে যা দর্শনার্থীদের মনে গভীর শান্তি এনে দেয়।
ইতিহাস ও মাহাত্ম্য
সোনার মন্দিরের নির্মাণ কাজ শুরু হয় ১৫৮১ সালে পঞ্চম শিখ গুরু গুরু অর্জন দেব জির নির্দেশে এবং শেষ হয় ১৬০৪ সালে। পরে মহারাজা রণজিৎ সিং মন্দিরের উপরের অংশ স্বর্ণপাত দিয়ে ঢেকে দেন, যেখান থেকে এর নাম হয় “Golden Temple”। এটি শিখ ধর্মের আধ্যাত্মিক কেন্দ্র এবং এখানে গুরুগ্রন্থ সাহিব সর্বদা পাঠ করা হয়।
কীভাবে পৌঁছাবেন
- রেলপথ: অমৃতসর জংশন ভারতের বড় বড় শহরের সাথে যুক্ত।
- বিমানপথ: শ্রী গুরু রাম দাস জি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (১১ কিমি দূরে)।
- সড়কপথ: চণ্ডীগড়, দিল্লি বা লুধিয়ানা থেকে বাস ও গাড়িতে সহজে পৌঁছানো যায়।
প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও স্থাপত্য
হরমন্দির সাহিব একটি বিশাল সরোবর (পবিত্র জলাশয়)-এর মাঝখানে অবস্থিত। সাদা মার্বেল দিয়ে তৈরি মন্দিরটির উপরের অংশে স্বর্ণের প্রলেপ, যার প্রতিবিম্ব পানিতে এক অসাধারণ দৃশ্য তৈরি করে। রাতে আলোয় ঝলমল করা মন্দির যেন স্বর্গীয় সৌন্দর্য ছড়ায়।
️ দর্শনীয় স্থান
- হরমন্দির সাহিব (Golden Temple): মন্দিরে প্রবেশের সময় মাথায় কাপড় বা পাগড়ি বাঁধা আবশ্যক।
- আকাল তখত: শিখদের সর্বোচ্চ ধর্মীয় কর্তৃত্বের আসন।
- লঙ্গর হল: এখানে প্রতিদিন প্রায় এক লাখ মানুষকে বিনামূল্যে প্রসাদ ও খাবার পরিবেশন করা হয়—যা মানবসেবার এক অনন্য উদাহরণ।
- জালিয়ানওয়ালা বাগ: ১৯১৯ সালের ব্রিটিশ হত্যাকাণ্ডের স্মৃতিস্তম্ভ, যা ভারতীয় স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস বহন করে।
- ওয়াঘা বর্ডার: ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে প্রতিদিন সন্ধ্যায় বিখ্যাত বিটিং রিট্রিট অনুষ্ঠান দেখা যায়।
করণীয় কাজ
- ভোরবেলা বা গভীর রাতে গুরুগ্রন্থ সাহিবের কীর্তন শোনা।
- সরোবরে পবিত্র অমৃতস্নান।
- লঙ্গরে বসে সমতার প্রতীকী খাবার গ্রহণ।
- আশেপাশের বাজার থেকে ফূলকারি, পাগড়ি, পাঞ্জাবি মিষ্টি ও স্যুভেনির কেনাকাটা।
থাকা ও খাবার
অমৃতসরে বিলাসবহুল হোটেল থেকে শুরু করে সাধারণ গেস্টহাউস পর্যন্ত বিভিন্ন থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। শিখ সম্প্রদায়ের গুরদোয়ারায় বিনামূল্যে থাকার ব্যবস্থাও পাওয়া যায়। স্থানীয় খাবারের মধ্যে আমৃতসরি কুলচা, ছোলে-ভাটুরে, লস্যি পর্যটকদের বিশেষ আকর্ষণ।
ভ্রমণের সেরা সময়
- অক্টোবর – মার্চ: শীতকালে আবহাওয়া শীতল ও আরামদায়ক থাকে।
- বিশেষ সময়: গুরপুরব বা বৈশাখীর সময় পুরো মন্দির আলোকসজ্জায় সেজে ওঠে—এ সময় ভ্রমণ করলে এক বিশেষ অভিজ্ঞতা পাওয়া যায়।
উপসংহার
অমৃতসর কেবল একটি শহর নয়, এটি এক আধ্যাত্মিক যাত্রা। সোনার মন্দিরের প্রশান্ত পরিবেশে বসে, কীর্তনের সুরে মন ডুবে গেলে এক অদ্ভুত শান্তি অনুভূত হয়। ইতিহাস, ধর্ম, স্থাপত্য ও মানবসেবার মিলিত রূপ অমৃতসরকে এক অবিস্মরণীয় গন্তব্যে পরিণত করেছে।












Leave a Reply