
পাঞ্জাবের অমৃতসর থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ওয়াঘা বর্ডার ভারতের সবচেয়ে বিখ্যাত সীমান্ত গেটগুলির একটি। এটি ভারতের পাঞ্জাব রাজ্যের সাথে পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশকে পৃথক করেছে। প্রতিদিন সন্ধ্যায় এখানে যে বিটিং রিট্রিট অনুষ্ঠান হয়, তা শুধু একটি আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠান নয়, বরং ভারতীয়দের মধ্যে দেশপ্রেমের অগ্নিশিখা প্রজ্বলিত করে।
️ ইতিহাস ও গুরুত্ব
ওয়াঘা বর্ডার ভারত-পাকিস্তান বিভাজনের সময় থেকেই সীমান্ত গেট হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এখানে রয়েছে অটারি-ওয়াঘা সীমান্ত গেট, যা আন্তর্জাতিক সীমান্তে একমাত্র আনুষ্ঠানিক রাস্তা। ভারত ও পাকিস্তানের সেনারা এখানে প্রতিদিন বিকেলে একসাথে পতাকা নামানোর অনুষ্ঠান করেন, যা দুই দেশের সম্পর্কের এক অনন্য প্রতীক।
কীভাবে পৌঁছাবেন
ওয়াঘা বর্ডারে পৌঁছানো বেশ সহজ।
- রেলপথ: অমৃতসর জংশন থেকে ৩০ কিমি দূরে।
- সড়কপথ: ট্যাক্সি বা অটো নিয়ে সহজেই পৌঁছে যাওয়া যায়।
- সময়: অনুষ্ঠানের সময় বিকেল ৪টা থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত, তাই আগে পৌঁছানো ভালো।
বিটিং রিট্রিট অনুষ্ঠান
এখানকার প্রধান আকর্ষণ হলো প্রতিদিনের বিটিং রিট্রিট অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানটির ধাপগুলি নিম্নরূপ –
- ভারতীয় ও পাকিস্তানি সেনাদের সুশৃঙ্খল কুচকাওয়াজ।
- সীমান্ত গেটের উভয় পাশে জোরালো দেশাত্মবোধক স্লোগান।
- উভয় দেশের পতাকা নামানো এবং স্যালুট।
- গেট বন্ধ করে শক্তপোক্ত করমর্দন।
এমন এক আবহ তৈরি হয় যেখানে দর্শকদের গলা ভরে ওঠে “ভারত মাতার জয়”, “বন্দে মাতরম” স্লোগানে। ভারতীয় সেনাদের প্রতিটি পদক্ষেপে গর্বের শিহরণ অনুভব হয়।
করণীয় কাজ
- সময়মতো পৌঁছে ভালো আসন দখল করা।
- দেশাত্মবোধক আবহ অনুভব করে স্লোগানে অংশগ্রহণ করা।
- অনুষ্ঠান শেষে সীমান্তের গেট ও আশেপাশের স্মারক দেখতে ভুলবেন না।
আশেপাশে দেখার মতো জায়গা
- অমৃতসর শহর: হরমন্দির সাহিব (সোনার মন্দির), জালিয়ানওয়ালা বাগ।
- পার্টিশন মিউজিয়াম: ভারত-পাকিস্তান বিভাজনের ইতিহাস জানার জন্য।
- গোবিন্দগড় ফোর্ট: পাঞ্জাবের রাজকীয় ইতিহাসের এক ঝলক।
উপসংহার
ওয়াঘা বর্ডারে গেলে মনে হয় যেন দেশের প্রতিটি নাগরিকের হৃদয়ে দেশপ্রেমের ঢেউ বইছে। ভারতীয় সেনাদের সাহস, শৃঙ্খলা ও গর্ব দেখলে মনে হয় আমরা সত্যিই এক অদম্য জাতির অংশ। এই অভিজ্ঞতা একবার হলে সারা জীবনের জন্য মনে গেঁথে থাকে।












Leave a Reply