জালিয়ানওয়ালা বাগ – ইতিহাসের এক নীরব সাক্ষী।

পাঞ্জাবের অমৃতসরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত জালিয়ানওয়ালা বাগ ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে এক শোকাবহ অধ্যায়ের সাক্ষী। এটি কেবল একটি পার্ক নয়, বরং জাতীয় স্মৃতিসৌধ যেখানে ১৯১৯ সালের ১৩ই এপ্রিল সংঘটিত গণহত্যার করুণ স্মৃতি আজও আমাদের বিবেককে নাড়া দেয়।


ইতিহাসের পাতা থেকে

১৯১৯ সালের ১৩ এপ্রিল, পাঞ্জাবের বৈশাখী উৎসব উপলক্ষে হাজার হাজার মানুষ এই বাগে সমবেত হয়েছিলেন। কেউ উৎসব পালন করতে, কেউ রাওলাট আইনের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ জানাতে। হঠাৎই ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রেজিনাল্ড ডায়ার ব্রিটিশ সেনাদের নিয়ে এসে বাগের সব প্রবেশপথ বন্ধ করে গুলি চালানোর নির্দেশ দেন। প্রায় ৩৭৯ জন (সরকারি হিসাব) নিহত হন, যদিও অনানুষ্ঠানিক তথ্য অনুযায়ী নিহতের সংখ্যা এক হাজারেরও বেশি হতে পারে। এই হত্যাকাণ্ড গোটা ভারতবর্ষকে কাঁপিয়ে দেয় এবং স্বাধীনতা আন্দোলনকে আরও তীব্র করে তোলে।


কীভাবে পৌঁছাবেন

জালিয়ানওয়ালা বাগ অমৃতসর শহরের কেন্দ্রস্থলে, হরমন্দির সাহিবের কাছেই অবস্থিত।

  • রেলপথ: অমৃতসর জংশন থেকে মাত্র ২ কিমি দূরে।
  • বিমানপথ: শ্রী গুরু রাম দাস জি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ১১ কিমি।
  • সড়কপথ: শহরের প্রধান রাস্তাগুলি দিয়ে সহজেই এখানে পৌঁছানো যায়।

বর্তমান বাগ ও স্মৃতিসৌধ

আজকের জালিয়ানওয়ালা বাগ একটি সযত্নে রক্ষিত উদ্যান। এখানে প্রবেশ করতেই প্রথমে চোখে পড়ে স্মৃতিস্তম্ভ—শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধার নিদর্শন। বাগের মধ্যে রয়েছে—

  • শহিদ কুয়া: যেখানে মানুষ গুলির হাত থেকে বাঁচতে লাফিয়ে পড়েছিলেন।
  • গুলির চিহ্ন: অনেক দেয়ালে আজও সেই গুলির দাগ সংরক্ষিত।
  • অমর জ্যোতি: শহিদদের স্মরণে সর্বদা প্রজ্বলিত শিখা।
  • মিউজিয়াম: এখানে হত্যাকাণ্ড সম্পর্কিত নথি, ছবি ও নিদর্শন সংরক্ষিত আছে।

করণীয় কাজ

  • বাগে ধীরে হাঁটতে হাঁটতে ইতিহাসের নীরব সাক্ষীদের অনুভব করা।
  • শহিদ কুয়ার পাশে দাঁড়িয়ে তাঁদের আত্মবলিদান স্মরণ করা।
  • মিউজিয়াম ঘুরে দেখা এবং ব্রিটিশ শাসনের নির্মমতা উপলব্ধি করা।
  • সন্ধ্যায় লাইট অ্যান্ড সাউন্ড শো দেখা, যেখানে পুরো হত্যাকাণ্ডের বিবরণ নাটকীয়ভাবে উপস্থাপন করা হয়।

আশেপাশে ঘোরার জায়গা

  • সোনার মন্দির (হরমন্দির সাহিব): মাত্র কয়েক মিনিট হাঁটার দূরত্বে।
  • পার্টিশন মিউজিয়াম: ভারত বিভাজনের ইতিহাস জানতে একটি অসাধারণ জায়গা।
  • ওয়াঘা বর্ডার: সন্ধ্যার বিটিং রিট্রিট অনুষ্ঠান দেখার জন্য অবশ্যই যাওয়া উচিত।

উপসংহার

জালিয়ানওয়ালা বাগে গিয়ে মনে হয় যেন ইতিহাসের বুক চিরে উঠে আসছে স্বাধীনতার তৃষ্ণা ও ত্যাগের মহাকাব্য। এখানে দাঁড়িয়ে বোঝা যায় স্বাধীনতা আমাদের কাছে কেন এত মূল্যবান। প্রতিটি ভারতীয়ের জীবনে একবার অন্তত এই পবিত্র ভূমিতে এসে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো উচিত।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *