রানিখেত (Ranikhet) – কুমায়ুন পাহাড়ের রানি।

উত্তরাখণ্ডের আলমোড়া জেলায় অবস্থিত রানিখেত অর্থাৎ “রানির ক্ষেত”, এক শান্ত, সবুজ ও মনোরম পাহাড়ি শহর। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১,৮৬৯ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত এই ছোট্ট শহর প্রকৃতিপ্রেমী, শান্তি-পসন্দ ভ্রমণকারী এবং হিমালয়ের অনুরাগীদের কাছে স্বর্গসম। ঘন দেবদারু, চিরসবুজ পাইন বন, তুষারশৃঙ্গের দৃশ্য আর শান্ত পরিবেশ—সব মিলিয়ে রানিখেত এক আদর্শ হিল স্টেশন।


ইতিহাসের ঝলক

জনশ্রুতি আছে যে, কুমায়ুনের রানি পদ্মাবতী একসময় এই অঞ্চলের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে এটিকে নিজের প্রিয় স্থান হিসেবে ঘোষণা করেন। তাই এর নাম রাখা হয় “রানিখেত”। পরে ব্রিটিশরা এখানে সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করে এবং আজও রানিখেতে কুমায়ুন রেজিমেন্ট সেন্টার রয়েছে।


কীভাবে পৌঁছাবেন

  • সড়কপথ: নৈনিতাল (৬০ কিমি), কাথগোদাম (৮০ কিমি) বা আলমোড়া থেকে ট্যাক্সি বা বাসে সহজেই পৌঁছানো যায়।
  • নিকটতম রেলস্টেশন: কাথগোদাম।
  • নিকটতম বিমানবন্দর: পান্তনগর এয়ারপোর্ট (প্রায় ১১৫ কিমি)।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্য

রানিখেতের সকাল মানেই হিমালয়ের নন্দাদেবী, ত্রিশূল, নন্দাঘুঙ্ঘট শৃঙ্গের অপূর্ব দৃশ্য। শীতকালে এখানে হালকা তুষারপাত হয়, যা শহরটিকে আরও সুন্দর করে তোলে। গ্রীষ্মে এখানকার আবহাওয়া শীতল ও আরামদায়ক, যা ভ্রমণের জন্য আদর্শ।


️ দর্শনীয় স্থান

  • ঝুলা দেবী মন্দির: প্রায় ৭০০ বছরের পুরনো এই মন্দিরে ইচ্ছা পূরণের জন্য দর্শনার্থীরা ঘণ্টা বাঁধেন।
  • চৌবাটিয়া গার্ডেন: আপেল, আড়ু, নাশপাতি ও এপ্রিকট বাগানের জন্য বিখ্যাত।
  • কুমায়ুন রেজিমেন্টাল সেন্টার মিউজিয়াম: সামরিক ইতিহাস ও স্মৃতিচিহ্ন সংরক্ষণের এক দুর্দান্ত স্থান।
  • ভলু ধাম: হনুমানজিকে নিবেদিত একটি পবিত্র মন্দির।
  • গলফ কোর্স: রানিখেতে এশিয়ার অন্যতম বড় প্রাকৃতিক গলফ কোর্স রয়েছে।

করণীয় কাজ

  • পাহাড়ি পথে ট্রেকিং ও প্রকৃতি ভ্রমণ।
  • বনভূমিতে বার্ডওয়াচিং
  • শান্ত প্রাকৃতিক পরিবেশে যোগ ও মেডিটেশন
  • শীতকালে তুষারপাত উপভোগ

থাকা ও খাবার

রানিখেতে নানা রকম হোটেল, গেস্টহাউস ও রিসোর্ট রয়েছে। এখানকার খাবারে কুমায়ুনি স্বাদের ছোঁয়া পাওয়া যায়। “আলু কে গুটকে”, “ভাট কি দাল” এবং “ঝাংগোরি কি খীর” জনপ্রিয় স্থানীয় পদ।


ভ্রমণের সেরা সময়

  • মার্চ – জুন: সবুজ প্রকৃতি আর হিমালয়ের দৃশ্য উপভোগের জন্য শ্রেষ্ঠ সময়।
  • সেপ্টেম্বর – নভেম্বর: পরিষ্কার আকাশ ও ঠান্ডা আবহাওয়ার জন্য আদর্শ।
  • ডিসেম্বর – জানুয়ারি: হালকা তুষারপাতের রোমান্টিক আবহ উপভোগ করতে চাইলে।

উপসংহার

রানিখেত হলো তাদের জন্য এক আদর্শ গন্তব্য যারা শহরের ভিড় থেকে দূরে, শান্ত, প্রকৃতির কোলে কয়েকটা দিন কাটাতে চান। এখানে পাহাড়ি সকাল, হিমালয়ের দৃশ্য, চা হাতে শান্ত বিকেল—সব মিলিয়ে এক অপূর্ব অভিজ্ঞতা অপেক্ষা করে। প্রকৃতিপ্রেমী এবং ইতিহাসপ্রেমী উভয়ের কাছেই রানিখেত এক অবিস্মরণীয় ভ্রমণস্থল।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *