
পাঞ্জাবের গোবিন্দগড় ফোর্ট একটি ঐতিহাসিক দুর্গ যা পাটিয়ালা জেলার আনন্দপুর সাহিবের কাছে অবস্থিত। এটি শুধু প্রাচীন শৈল্পিক স্থাপত্যের নিদর্শন নয়, বরং শিখ রাজাদের সামরিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। প্রতিটি প্রাচীর, গেট এবং টাওয়ার ইতিহাসের কথা বলে, যা দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে।
ইতিহাস
গোবিন্দগড় ফোর্ট নির্মাণ শুরু হয় ১৭০৫ সালে গুরু গোবিন্দ সিংজি-এর নির্দেশে, খালসা পন্থের প্রতিষ্ঠা এবং শিখ সাম্রাজ্যের শক্তিশালী কেন্দ্র হিসেবে। পরে ফোর্টটি বিভিন্ন রাজাদের অধীনে উন্নত ও সম্প্রসারিত করা হয়। এখানে শত্রুরা থেকে শহর ও গুরুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা হতো।
দর্শনীয় স্থান
1️⃣ ফোর্টের প্রবেশপথ ও প্রাচীর
দুর্গের প্রাচীর, প্রাসাদের গেট এবং প্রহরী টাওয়ারগুলি প্রাচীন স্থাপত্যের অসাধারণ নিদর্শন। দর্শনার্থীরা প্রাচীরের উপর দিয়ে শহরের মনোমুগ্ধকর দৃশ্য উপভোগ করতে পারেন।
2️⃣ প্যালেস ও মহল
ফোর্টের ভেতরে রয়েছে প্রাচীন প্রাসাদ ও মহল, যেখানে রাজাদের আবাসন এবং সভা-সমিতি হত। রাজকীয় চিত্রকলা ও ভাস্কর্য এখনও দর্শনীয়।
3️⃣ আর্মরি ও স্মৃতি মিউজিয়াম
শিল্পকর্ম, অস্ত্র ও যুদ্ধের স্মৃতিসৌধ দর্শনার্থীদের ইতিহাসের সঙ্গে সংযুক্ত করে।
4️⃣ প্রাকৃতিক দৃশ্য
ফোর্টটি পাহাড়ের ওপর অবস্থিত হওয়ায়, চারপাশের সবুজ বন, নদী এবং হ্রদ দর্শনার্থীদের জন্য এক প্রশান্তিদায়ক অভিজ্ঞতা তৈরি করে।
ভ্রমণকালে করণীয়
- ফোর্টের সমস্ত প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা।
- টাওয়ার ও প্রাচীর থেকে আশেপাশের শহর ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ।
- স্মৃতি মিউজিয়ামে স্থাপত্য, অস্ত্র ও শৈল্পিক নিদর্শন দেখা।
- পিকনিক বা ছোট বিশ্রামমূলক শিকড়ের জায়গায় বসে শান্তি অনুভব।
আশেপাশের খাবার ও সংস্কৃতি
- আনন্দপুর সাহিব ও পাটিয়ালা থেকে সহজে স্থানীয় খাবার পাওয়া যায়।
- পাঞ্জাবি থালি, লস্যি, ছোলা-ভাটুরে স্থানীয় খাবারের মধ্যে জনপ্রিয়।
- স্থানীয় হস্তশিল্প ও পাটিয়ালা পেগ ও পাগড়ি কেনাকাটার সুযোগ।
️ কীভাবে যাবেন
- সড়কপথ: আনন্দপুর সাহিব বা পাটিয়ালা থেকে সহজেই গাড়ি বা ট্যাক্সিতে পৌঁছানো যায়।
- রেলপথ: নিকটতম রেলস্টেশন আনন্দপুর সাহিব বা পাটিয়ালা।
- বিমানপথ: চণ্ডীগড় বিমানবন্দর থেকে প্রায় ৯০ কিমি দূরে।
উপসংহার
গোবিন্দগড় ফোর্ট পাঞ্জাবের ইতিহাস, রাজকীয় স্থাপত্য এবং আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এক অসাধারণ নিদর্শন। যারা ইতিহাসপ্রেমী এবং স্থাপত্যশিল্পে আগ্রহী, তাদের জন্য এই দুর্গ একটি স্মরণীয় গন্তব্য। প্রতিটি প্রাচীর, গেট ও মহল ইতিহাসের কথা বলে, যা ভ্রমণকারীর মনে গভীর ছাপ ফেলে।












Leave a Reply