
রাজস্থানের সাত্বিক প্রকৃতির এক অমূল্য রত্ন হলো রানথম্ভোর ন্যাশনাল পার্ক। মধ্য রাজস্থানের সাওয়াই মাধোপুর জেলার অন্তর্গত এই পার্ক ভারতীয় বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। বিশেষ করে রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার, বন্যপ্রাণী ও অসাধারণ প্রাকৃতিক দৃশ্যের জন্য এটি পর্যটকদের এক প্রিয় গন্তব্য।
ইতিহাস ও গুরুত্ব
রানথম্ভোরের নাম এসেছে এর প্রাচীন দুর্গ রানথম্ভোর ফোর্ট থেকে।
- ১৯৫৫ সালে এটি প্রথম ভারতীয় শিকার অভয়ারণ্য হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
- ১৯৮০ সালে তা ন্যাশনাল পার্ক হিসেবে উন্নীত করা হয়।
- বর্তমানে এটি Project Tiger উদ্যোগের অংশ হিসেবে রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ।
বন্যপ্রাণী
রানথম্ভোর ন্যাশনাল পার্কে প্রায় ৪০০ বর্গকিমি এলাকা জুড়ে ঘন বন, খোলা তৃণভূমি এবং জলাধার রয়েছে। এখানে দেখা যায় –
- রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার – প্রধান আকর্ষণ।
- লিওপার্ড, হায়েনা, জংলি শুয়াল, বানর
- স্লথ বেয়ার, হরিণ, নেকড়ে, চিতল
- বিভিন্ন প্রজাতির পাখি – ৩৫০ প্রজাতিরও বেশি।
পর্যটকরা বিশেষত জীপ সাফারি করে এদের প্রকৃতিতে দেখা অভিজ্ঞতা লাভ করেন।
দর্শনীয় স্থান
1️⃣ রানথম্ভোর দুর্গ
১৫শ শতকের নির্মিত দুর্গটি পার্কের হৃদয়।
- শিকড়ের মধ্যে প্রায় ৯টি দরজা
- দুর্গ থেকে পুরো পার্কের মনোমুগ্ধকর দৃশ্য দেখা যায়
2️⃣ জলাধার ও লেক
পার্কের মধ্যে বেশ কয়েকটি জলাধার রয়েছে যেমন পিস কুণ্ড, সীতাল হ্রদ।
- প্রাকৃতিক দৃশ্য
- বন্যপ্রাণীদের পানির কাছে আসা পর্যবেক্ষণ
3️⃣ পাথর পাহাড় ও বনভূমি
রানথম্ভোরের খাড়া পাহাড়, বনভূমি এবং খোলা তৃণভূমি জঙ্গল ট্রেকিং ও ফটোগ্রাফির জন্য উপযুক্ত।
ভ্রমণ উপায়
- ✈️ বিমানপথে: নিকটবর্তী বিমানবন্দর সাওয়াই মাধোপুর নয়, তবে জয়পুর ও উদয়পুর বিমানবন্দর থেকে ১৫০-২০০ কিমি দূরে।
- রেলপথে: সাওয়াই মাধোপুর রেলওয়ে স্টেশন।
- সড়কপথে: জয়পুর, উদয়পুর বা অজমের থেকে বাস বা ট্যাক্সিতে সহজে পৌঁছানো যায়।
সেরা সময় ভ্রমণের জন্য
- অক্টোবর থেকে জুন পর্যন্ত ভ্রমণ উপযুক্ত।
- বর্ষাকালে পার্কের অনেক অংশ পানিতে ভরে যায়, তাই জলবায়ুর কারণে পর্যটন সীমিত।
- সকাল ৬টা থেকে ১০টা এবং বিকেল ৩টা থেকে ৬টা জীপ সাফারির জন্য সবচেয়ে ভালো সময়।
ভ্রমণকারীর জন্য টিপস
- সাফারির জন্য দূরদর্শন ও ক্যামেরা নিয়ে যাওয়া আবশ্যক।
- হালকা কাপড়, হ্যাট ও সানগ্লাস সঙ্গে রাখা উচিত।
- চুপচাপ থাকলে বন্যপ্রাণীর দৃশ্য দেখা সম্ভব।
- স্থানীয় গাইডের সাহায্য নিলে নিরাপদ ও পূর্ণ অভিজ্ঞতা লাভ হয়।
️ উপসংহার
রানথম্ভোর ন্যাশনাল পার্ক শুধু বাঘের অভয়ারণ্য নয়, এটি ভারতের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক নিদর্শন। এখানে যাওয়া মানে প্রকৃতির মাঝে হারিয়ে যাওয়া, বন্যপ্রাণীর সঙ্গে সরাসরি সংযোগ অনুভব করা এবং সাহসী প্রাণীদের অপরূপ দৃশ্য দেখার এক অনন্য অভিজ্ঞতা। রাজস্থানে প্রকৃতি প্রেমীদের জন্য রানথম্ভোর ভ্রমণ এক স্মরণীয় গন্তব্য।












Leave a Reply