
দিল্লি ভ্রমণ মানেই শুধু স্থাপত্য বা বাজার দেখা নয়; ইতিহাস, সংস্কৃতি ও শিল্পকলা বোঝার জন্য ন্যাশনাল মিউজিয়াম একটি অপরিহার্য স্থান। এটি ভারতের প্রাচীনতম ও বৃহত্তম মিউজিয়ামগুলির মধ্যে একটি, যেখানে প্রাচীন ভারতের ইতিহাস ও সংস্কৃতির সবকিছু সংরক্ষিত।
ইতিহাস ও প্রতিষ্ঠা
- ন্যাশনাল মিউজিয়াম প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ১৯৪৯ সালে, ভারতের স্বাধীনতার পর।
- মূল উদ্দেশ্য ছিল ভারতীয় ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও প্রদর্শন।
- মিউজিয়ামের মূল ভবনটি লখনউ কোর্টসের স্থাপত্য শৈলীতে নির্মিত।
- এখানে প্রায় ২০০,০০০টি প্রদর্শনী সংরক্ষিত রয়েছে, যা প্রাচীন হস্তশিল্প, ভাস্কর্য, চিত্রকলা ও সামরিক ইতিহাসের নিদর্শন।
️ প্রদর্শনীর বৈচিত্র্য
ন্যাশনাল মিউজিয়াম তিনটি প্রধান শাখায় বিভক্ত:
- প্রাচীন ভারত – মৌর্য, গুপ্ত, মুঘল যুগের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন।
- শিল্পকলা ও ভাস্কর্য – ব্রোঞ্জ, কাশী, পাথর ও সোনার কাজ।
- আধুনিক ইতিহাস – স্বাধীনতা সংগ্রামের স্মৃতি, রাজকীয় পোষাক ও সামরিক সামগ্রী।
বিশেষ আকর্ষণ:
- অমর জয়ন্তী সংগ্রহশালা – প্রাচীন ভারতীয় সভ্যতার নিদর্শন।
- মুঘল জ্বলজ্বলে শিল্পকলা – মুঘল শাসনের সময়কার ভাস্কর্য ও চিত্রকলা।
- বুদ্ধ কলেকশন – প্রাচীন বৌদ্ধ শৈলীর মূর্তি ও চিত্রকর্ম।
দর্শনের অভিজ্ঞতা
ন্যাশনাল মিউজিয়ামে প্রবেশ করলে ইতিহাসের ভ্রমণ শুরু হয়।
- প্রতিটি হলে ভাস্কর্য ও চিত্রকলা দেখে মনে হয় ইতিহাস জীবন্ত।
- প্রায়শই ছাত্র ও গবেষকরা এখানে এসে শিল্প ও ইতিহাস নিয়ে গবেষণা করেন।
- শিশুদের জন্য বিশেষ প্রদর্শনী এবং গাইডেড ট্যুর উপলব্ধ, যা শিক্ষামূলক অভিজ্ঞতা দেয়।
️ দর্শনের সেরা সময়
- সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত মিউজিয়াম খোলা থাকে।
- সপ্তাহের দিনগুলোতে সকালবেলা বা দুপুরের পরে যাওয়া ভালো, কারণ তখন ভিড় কম থাকে।
- সোমবার মিউজিয়াম বন্ধ থাকে।
ভ্রমণ উপায়
- মেট্রো: নিকটতম স্টেশন হলো পল্টন চৌক মেট্রো স্টেশন।
- ট্যাক্সি/অটো: দিল্লির যেকোনো স্থান থেকে সহজেই পৌঁছানো যায়।
- ভ্রমণ পরিকল্পনা: একদিনের সফরে লালকেল্লা, ইন্ডিয়া গেট ও রাজঘাটের সঙ্গে মিলিয়ে ভ্রমণ করা সম্ভব।
উপসংহার
ন্যাশনাল মিউজিয়াম হল ইতিহাস, সংস্কৃতি ও শিল্পকলার এক মহাসমাহার। এখানে এসে বোঝা যায় কিভাবে ভারতীয় সভ্যতা যুগে যুগে বিকশিত হয়েছে। দিল্লি ভ্রমণে ইতিহাসপ্রেমী ও শিক্ষার্থী যেই কেউ এখানে এসে কয়েক ঘণ্টা কাটালে এক অসাধারণ অভিজ্ঞতা পাবেন।












Leave a Reply