দিল্লির রাজঘাট – মহাত্মা গান্ধীর স্মৃতিধাম।

দিল্লি ভ্রমণের মানেই শুধু ঐতিহাসিক দুর্গ বা আধুনিক স্থাপত্য দেখা নয়, বরং এমন কিছু স্থানে যাওয়া, যেখানে ভারতের আত্মা ও ইতিহাস জীবন্ত হয়ে ওঠে। রাজঘাট এমনই এক স্থান – যেখানে মহাত্মা গান্ধীর স্মৃতি চিরকাল অম্লান হয়ে আছে। শান্ত পরিবেশে ঘেরা এই স্থান ভ্রমণকারীদের হৃদয়ে দেশপ্রেম ও মানবতার অনুভূতি জাগিয়ে তোলে।


ইতিহাস ও গুরুত্ব

রাজঘাট মূলত সেই স্থান যেখানে ১৯৪৮ সালের ৩১ জানুয়ারি মহাত্মা গান্ধীর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছিল।

  • এটি যমুনা নদীর তীরে অবস্থিত।
  • এখানে রয়েছে একটি কালো মার্বেল দিয়ে তৈরি সমাধি, যার ওপর সাদা অক্ষরে লেখা রয়েছে “হে রাম”— যা গান্ধীজীর শেষ উচ্চারণ বলে ধরা হয়।
  • ভারতের প্রধানমন্ত্রী থেকে বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধান—যে কেউ দিল্লি এলে এখানে এসে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

️ পরিবেশ ও সৌন্দর্য

রাজঘাটের সৌন্দর্য তার সরলতায়।

  • চারপাশে সবুজ লawns, গাছপালা ও ফুলের বাগান এক শান্তিপূর্ণ আবহ তৈরি করে।
  • সমাধির চারপাশে সর্বদা অগ্নিশিখা জ্বলতে থাকে, যা চিরন্তন শ্রদ্ধার প্রতীক।
  • হাঁটার জন্য পাথরের পথ, বেঞ্চ এবং খোলা আকাশের নিচে ধ্যানমগ্ন পরিবেশ—সব মিলিয়ে এটি শহরের কোলাহল থেকে এক অন্য জগতে নিয়ে যায়।

দর্শনের অভিজ্ঞতা

রাজঘাটে গেলে মনে হয় সময় যেন থেমে গেছে।

  • প্রবেশ করার পরই অনুভব করা যায় এক গম্ভীর নীরবতা।
  • সমাধির কাছে দাঁড়ালে মহাত্মা গান্ধীর অহিংসা ও সত্যের দর্শন যেন হৃদয়ে গেঁথে যায়।
  • এখানে প্রায়শই শান্তি প্রার্থনা ও জাতীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন হয়।
  • রাজঘাট কমপ্লেক্সের ভেতরে রয়েছে গান্ধীজীর জীবন ও চিন্তাধারা নিয়ে গ্যালারি ও প্রদর্শনী, যা ভ্রমণকারীদের শিক্ষামূলক অভিজ্ঞতা দেয়।

️ দর্শনের সেরা সময়

  • রাজঘাট প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত খোলা থাকে
  • সকালবেলা বা সন্ধ্যার সময় গেলে কম ভিড় এবং আরও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ পাওয়া যায়।
  • জাতীয় ছুটির দিনগুলোতে এখানে বিশেষ অনুষ্ঠান হয়, তখন গেলে দেশপ্রেমের আবহ আরও তীব্রভাবে অনুভূত হয়।

কিভাবে যাবেন

  • মেট্রো: নিকটতম মেট্রো স্টেশন হলো দিলশাদ গার্ডেন লাইন বা প্র্যাগতি ময়দান
  • সড়কপথে: দিল্লির যেকোনও স্থান থেকে ট্যাক্সি, অটো বা বাসে সহজেই পৌঁছানো যায়।
  • এটি লালকেল্লা, ইন্ডিয়া গেট, ও রাজপথের কাছাকাছি হওয়ায় একদিনের ভ্রমণে একসাথে দেখা সম্ভব।

উপসংহার

রাজঘাট শুধুমাত্র একটি স্মৃতিসৌধ নয়, এটি ভারতের আত্মার প্রতীক। এখানে এসে মনে হয় আমরা ইতিহাসের কাছে দাঁড়িয়ে আছি—সেই মানুষটির স্মৃতির কাছে, যিনি সত্য, অহিংসা ও স্বাধীনতার জন্য জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। দিল্লি ভ্রমণে রাজঘাটে কয়েক মুহূর্ত কাটানো মানে শুধু এক ঐতিহাসিক স্থান দেখা নয়, বরং এক গভীর মানবিক অভিজ্ঞতা অর্জন করা।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *