
নিজস্বসংবাদদাতা, চন্দ্রকোনা রোড :- পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার গড়বেতা তিন নম্বর ব্লকের চন্দ্রকোনারোডে বিরসা মুন্ডার সার্ধশত জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে তিন দিন ব্যাপী জয় জোহার মেলার আয়োজন করা হয়, সোমবার ছিল তার শেষ দিন এইদিন আদিবাসী সংগীত ও বিভিন্ন আদিবাসী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পুরস্কার বিতরণ এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। যেখানে উপস্থিত ছিলেন এলাকার বিশিষ্ট সমাজসেবীরা। প্রসঙ্গত আদিবাসী উন্নয়ন বিভাগের উদ্যোগে এবং ব্লক প্রশাসনের সহযোগিতায় এই মেলার আয়োজন করা হয়েছিল।
এই বেলায় উপস্থিত ছিলেন এই ব্লকের কয়েক হাজার আদিবাসী ও সাঁওতাল জনজাতি।
আদিবাসী গান শুনে আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষরা আনন্দিত হয়, কারণ গান তাদের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং সামাজিক রীতিনীতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে, যেমন – উৎসব, বিবাহ, এবং অন্যান্য সামাজিক রীতিনীতিতে, তারা লোকনৃত্য ও গানের মাধ্যমে নিজেদের আনন্দ ও ঐতিহ্য প্রকাশ করে। এই গানগুলো তাদের ইতিহাস, জীবনযাপন এবং পারিপার্শ্বিক জগৎ সম্পর্কে জানার এক শক্তিশালী মাধ্যম।
আদিবাসী সমাজের পক্ষ থেকে অশোক টুডু জানিয়েছেন আদিবাসী গান ভাষা সংস্কৃতির পাশাপাশি আনন্দ ও ঐক্যের প্রকাশ। আদিবাসী গান আমাদের সমৃদ্ধ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এটি তাদের শুধু আনন্দই দেয় না, বরং আমাদের ঐতিহ্য, ইতিহাস, এবং সামাজিক বন্ধনকেও দৃঢ় করে। গানগুলো শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, বরং এটি আমাদের নিজস্ব ভাষা, গল্প, এবং জীবনযাত্রার একটি জ্বলন্ত এবং উজ্জ্বল প্রতিচ্ছবির প্রতিফলন ঘটায়। বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে, যেমন – বিবাহ, উৎসব, এবং জীবনচক্রের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়গুলোতে গান ও নাচের মাধ্যমে আমাদের ঐতিহ্য ও রীতিনীতি পালন করা হয়। গান পরিবেশন ও শোনার মাধ্যমে আদিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে একতা ও বন্ধন দৃঢ় হয়। এই গান যেন কালের অতলে হারিয়ে না যায় সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হয় আমাদের। আর জয় জোহারের মত অনুষ্ঠান আরও হলে আমাদের রীতি নীতি কৃষ্টি সংস্কৃতি বজায় রাখতে অনেকটাই সহায়ক হবে।












Leave a Reply