পরিযায়ী শ্রমিক ইস্যুতেই মালদা–মুর্শিদাবাদে তৃণমূলের প্রচারের অস্ত্র, মালদা থেকেই স্পষ্ট করলেন অভিষেক।

মালদা, নিজস্ব সংবাদদাতা:- ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে মালদা ও মুর্শিদাবাদ—এই দুই জেলায় তৃণমূল কংগ্রেসের প্রধান প্রচার ইস্যু যে ভিন রাজ্যে বাংলাভাষী পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর আক্রমণ, তা বৃহস্পতিবার মালদা থেকেই কার্যত স্পষ্ট করে দিলেন সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
পুরাতন মালদার জলঙ্গি ময়দানে পরিযায়ী শ্রমিকদের নিয়ে একটি সভার আয়োজন করা হয়। প্রায় এক ঘণ্টা বিলম্বে মঞ্চে প্রবেশ করেন অভিষেক। মঞ্চে তখন উপস্থিত ছিলেন সাম্প্রতিক কালে ভিন রাজ্যে নিগৃহীত কয়েকজন পরিযায়ী শ্রমিক। অভিষেক তাঁদের সঙ্গে কথা বলেন এবং একে একে তাঁদের উপর হওয়া অত্যাচারের কথা শোনেন। তাঁদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন কালিয়াচকের আমির শেখ, যাঁকে পুশব্যাক করে বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছিল বলে অভিযোগ।
বক্তব্যের শুরু থেকেই চাঁচাছোলা ভাষায় বিজেপি ও কংগ্রেসকে একযোগে আক্রমণ করেন অভিষেক। নাম না করে হুমায়ুন কবীরকে তোপ দাগেন এবং ব্রিগেডে ঘটে যাওয়া ‘প্যাটিস কাণ্ড’ নিয়েও সরব হন। তিনি বলেন, “মালদা-মুর্শিদাবাদের মানুষকে বোকা ভাববেন না। বিজেপি ও কংগ্রেস জেতার পরই বাংলার মানুষকে ভিন রাজ্যে গিয়ে হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে।”
অভিষেকের অভিযোগ, পরিযায়ী শ্রমিকদের সমস্যায় কংগ্রেস নেতারা কোথাও পাশে দাঁড়াচ্ছেন না। তিনি বলেন, “এই কারণেই কংগ্রেস হারে, আবার তৃণমূল হারায়। কিন্তু তৃণমূল ক্ষমতায় থাকলে ফোন করে সমস্যা শোনা হয়, খোঁজ নেওয়া হয়।”
সভা থেকে প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, “এই মাটিতেই কর্মসংস্থান হবে। কেউ আর ভিন রাজ্যে যেতে বাধ্য হবেন না।” পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন, যেখানে বিজেপির লাভ, সেখানেই বাংলার মানুষের ক্ষতি হচ্ছে। বাংলায় তৃণমূল বিজেপিকে রাজনৈতিকভাবে ভেঙে দিচ্ছে, কিন্তু অন্য রাজ্যে উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানিয়ে অভিষেক বলেন, “১৭ তারিখ যে মাঠে প্রধানমন্ত্রী সভা করবেন, ফেব্রুয়ারিতে আমি সেই মাঠেই পাল্টা সভা করব।” বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী, সুকান্ত মজুমদার, খগেন মুর্মু-র পাশাপাশি কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী ও ইসা খাঁনদেরও এক সারিতে রেখে আক্রমণ করেন তিনি।
সবশেষে পাঁচজন পরিযায়ী শ্রমিকের লিখিত সমস্যার উত্তর দেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সভা শেষে শ্রমিকদের সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজন সেরে সেখান থেকে বেরিয়ে যান তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *