বোতল পাল্টেছে, মদটা একেই আছে! মেদিনীপুরে বললেন অভিষেক।

পশ্চিম মেদিনীপুর, নিজস্ব সংবাদদাতা :- চলবে না ছলনা, করবেনা ফন্দী, আপনাদের করতে হবে বিজেপিকে বন্দী! মেদিনীপুর কলেজ মাঠ ভরে উঠেছে কর্মীদের ভালোবাসায়, মঞ্চে উঠেই বলেন অভিষেক। আপনাদের আবেগ কে আমি সম্মান করি। আমি আজকে চির কৃতজ্ঞ, কারণ সিপিএম এর নেতা সুশান্ত ঘোষ এর নেতৃত্বে যেই হার্মাদ বাহিনীর হাত থেকে, যারা মেদিনীপুরকে রক্ষা করেছেন তারা আজকে আমাদের দলের কর্মী। এবারের বিধানসভায় মেদিনীপুরে ১৫-০ করতে হবে, যে কটা হার্মাদ বেঁচে রয়েছে তাদের এবার ঝেঁটিয়ে সাপ করতে হবে। সেই সঙ্গে ব্রিটিশ বিরুদ্ধে এখানে অনেকেই শহীদ হয়েছেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানায়। স্বাধীনতা সংগ্রামীদের রক্তে ভেজা এই মাটিকে আমি নতমস্তকে প্রণাম জানায়। ২০২০ সালে এই মাঠে মেদিনীপুরের গদ্দার বিজেপিতে যোগ দান করেছিলেন। মেদিনীপুর থেকে এবার গাদ্দারকে বিদায় দেওয়ার সময় এসেছে। এই জেলাই সিপিএম কিভাবে অত্যাচার করেছিল মনে আছে, ঘরে আগুন জালিয়ে দেওয়া, বাড়ির থেকে বেরোতে না দেওয়া। কেশপুর এর বিজেপি নেতা তন্ময় ঘোষ ও তার ভাইকেও আক্রমণ করেন। সেই সঙ্গে কেশপুরের সিপিএম নেতা তড়িৎ খাটুয়া, মহাদেব প্রামাণিক এর কু-কৃতির কথা বলেন অভিষেক। সেই সঙ্গে সিপিএম কে বিজেপির বি-টিম বলেও কটাক্ষ করেন। আগে যারা সিপিএম এর হার্মাদ ছিল এখন তারা বিজেপির জল্লাদ। যদি কোনো বিজেপি নেতা ফ্রম সেভেন নিয়ে ইআরও অফিস জমা দিতে আসে তাদেরকে রবীন্দ্র সংগীতের সঙ্গে একটু ডিজেও বাজিয়ে দেবেন। বিজেপি নেতাদের বাড়ি ঘেরাও করুন, আমি আসবো, আপনারা ডাকলে। কেন্দ্রীয় সরকার আমাদের যতই টাকা আটকে রাখুক আমরা সাধারণ মানুষের উন্নয়ন করবো। যারা ভাবছে মায়েদের লক্ষ্মীর ভান্ডার বন্ধ হবে, তারা জেনে রাখুন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় থাকলে সব পাবেন। আমাদের সরকার ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান তৈরি করছে। রাজ্য সরকার ইতিমধ্যেই ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। বিজেপি যতই মিথ্যে কথা বলুক আমরা ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান করে দেখাবো। মেদিনীপুরের শহরের “হটাৎ পাড়ায়” তিন জনকে আমি আপনাদের সামনে এনেছি, এদের নির্বাচন কমিশন মৃত বানিয়ে দিয়েছে। মঙ্গোলি মান্ডি বিজয় মালি ও মঙ্গোলি মান্ডি, এদের সবাই দেখতে পাচ্ছে কিন্তু জ্ঞানেশ কুমার দেখতে পাচ্ছে না। জ্ঞানেশ কুমার এর জন্য একটা নতুন প্রকল্প বানাতে হবে, চক্ষু-ছানী প্রকল্প। আপনারা ফ্রম ৬ ভরবেন, তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীরা আপনাদের পাশে থেকে ভারতীয় নাগরিকত্ব দেবো। কাঁথি ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার এক ছেলেকে বাংলা দেশী বানিয়ে দিয়েছে। ৭০-৮০ বছর এই দেশে থাকার পর আমাদের নাগরিকত্ব এর প্রমাণ দিয়ে হবে অমিত শাহ কে। আপনারা আমার সঙ্গে থাকলে আমি কারুর নাগরিকত্ব যেতে দেবো না, প্রয়োজনে দিল্লি যা হুশিয়ারি দেন অভিষেক। গুজরাটে ৮০ লাখ নাম বাদ গেছে তাহলে রোহিঙ্গারা কোথায় বেশি প্রবেশ করেছে, বাংলায় না গুজরাটে। তৃণমূলের কর্মীরাই আসল সম্পদ। মেদিনীপুরের দুই বিজেপির বিধায়ক, তৃণমূল কংগ্রেসে আসতে চেয়ে ছিল, আমি দরজা বন্ধ করে রেখেছি শুধু আপনাদের দাবিকে মান্যতা দিয়ে। অজিত মাইতি কে সঙ্গে নিয়ে আমার অফিসে এসেছিল। এবার খড়গপুর আপনাদের যেতাতে, যা লাগবে আমি দেবো। আপনারা আমাদের এবার খড়গপুর জিতিয়ে দিন। ভোটের বাক্স যেদিন খুলবে সেদিন যেনো বিজেপি এবং সিপিএম নেতারা চোখে সর্ষেফুল দেখে। এই ভোট প্রতিবাদের ভোট! জোড়া ফুল যদি ২৫০ র বেশি আসন নিয়ে যেতে তাহলে, বিজেপির কেন্দ্রীয় সরকার আর চলবে না, মুখ থুবড়ে পড়বে। বাংলায় কথা বললে যদি আমাদের জেলে পাঠাও, তাহলে বিজেপির নেতা সুকান্ত – শ্রমিক রা বাংলায় কথা বললে, তারা কেনো যাবে না। আমরা সকল পার্টির নেতাদের সম্মান দিয়ে কথা বলি, এটা আমাদের সংস্কৃতি। যারা ভোটার বাড়িতে সাদা থান পাঠিয়ে দিত তারা আজকে বড় বড় কথা বলে বেড়াচ্ছে। মাওবাদীদের হাত থেকে জঙ্গলমহল কে শান্ত করেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কেশপুর, বেনাচাপড়া, সবং ও ছোট অঙ্গারিয়া মনে নেই আপনাদের। ঝাড়গ্রাম ও পশ্চিম মেদিনীপুর নিয়ে ১৯-০ করতে হবে, যেখানে যেই বুথে যেতে হবে আমি যাব। আমি প্রয়োজনে প্রতিটি বিধানসভা এবং অঞ্চলেও যাব, তবে প্রতিটি বিধানসভায় তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থীদের জয় লাভ করাতে হবে আপনাদের। বাংলায় এনআরসি করতে পারে নি, তার কারণ বাংলার পাহারাদারের নাম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যতই করো হামলা, যতই দাও মামলা, আবার জিতবে বাংলা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *