নোনা মাটির নন্দনতত্ত্ব ও আর্তের সেবা: দক্ষিণ ২৪ পরগনার সাংস্কৃতিক জাগরণে লিটন রাকিব।

তিতাস চট্টোপাধ্যায়, দক্ষিণ ২৪ পরগনা:- দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার ক্যানিং ও সুন্দরবনের লোনা মাটির ঘ্রাণ আর মাতলা নদীর পলি যেখানে জীবনের আখ্যান লেখে, সেখানেই জন্ম নেয় এক অনন্য শিল্পবোধ। এই অঞ্চলের সমকালীন সাহিত্য, নির্ভীক সাংবাদিকতা ও সমাজকর্মের ইতিহাসে লিটন রাকিব একটি বলিষ্ঠ নাম। ২০২৬ সালের প্রেক্ষাপটে তিনি কেবল একজন কবি বা সংবাদকর্মী নন, বরং আর্তমানবতার সেবায় নিবেদিতপ্রাণ এক সামাজিক যোদ্ধা।

সাংবাদিকতা ও সত্য উদঘাটন: সংবাদ জগতের নির্ভীক কণ্ঠস্বর

লিটন রাকিব দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে এক বিশ্বস্ত ও আপসহীন নাম। একাধিক প্রথম সারির দৈনিক সংবাদপত্রের মাধ্যমে তিনি দীর্ঘকাল ধরে সুন্দরবনের প্রান্তিক মানুষের কণ্ঠস্বর তথা বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন মানুষের অদিকারের দাবী তুলে ধরছেন। সত্য উদঘাটনে তাঁর সাহসিকতা এবং জনসমস্যাগুলোকে প্রশাসনের নজরে আনার ভূমিকা তাঁকে জেলার অন্যতম প্রধান সংবাদকর্মী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

সমাজসেবা ও মানবিকতা: বিপর্যয়ের দিনে অতন্দ্র প্রহরী

লিটন রাকিবের সমাজসেবার রূপটি সবচেয়ে উজ্জ্বল হয়ে উঠেছিল মানবজাতির চরম সংকটের সময়ে।

করোনাকালীন ও প্রাকৃতিক বিপর্যয় বিধ্বস্ত সময়ের ভূমিকা: অতিমারি এবং আমফান বা ইয়াসের মতো প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে যখন সাধারণ মানুষের জীবন বিপর্যস্ত, তখন তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। কমিউনিটি কিচেন পরিচালনার মাধ্যমে ক্ষুধার্ত মানুষের মুখে অন্ন তুলে দেওয়া এবং ত্রাণ পরিষেবা প্রদানের মাধ্যমে তিনি দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার অন্যতম অগ্রগণ্য সমাজকর্মী হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।

প্রাতিষ্ঠানিক সেবা: তাঁর প্রতিষ্ঠিত সংগঠন ‘আলোপথ’ এবং অনাথ শিশু শিক্ষা আশ্রম  আজও সুন্দরবনের পিছিয়ে পড়া শিশুদের ভবিষ্যৎ গড়ার কাজ করে যাচ্ছে।

নোনা মাটির নন্দনতত্ত্ব: সাহিত্যিক অবদান

তাঁর কাব্যে সুন্দরবনের ভৌগোলিক বাস্তবতা ও মানুষের আবেগ মিলেমিশে একাকার হয়ে যায়। ‘ঋতুর দান’ এবং ‘ব্যথাদের আলো-গান’ কাব্যগ্রন্থ দুটিতে তিনি প্রান্তিক জীবনের যন্ত্রণাকে নন্দনতাত্ত্বিক মহিমায় ফুটিয়ে তুলেছেন। তাঁর সম্পাদিত লিটল ম্যাগাজিন ‘তরঙ্গ’ এবং গবেষণাগ্রন্থ ‘গ্রামনগর’ এই অঞ্চলের সাংস্কৃতিক চেতনার প্রসারে এক বিশেষ ভূমিকা পালন করে। এছাড়া অতি নেই নরওয়ে থেকে প্রকাশিত সময় কি পত্রিকার সাহিত্য সম্পাদক হিসেবে কাজ করেছেন এবং বর্তমানে সময়ের শব্দ পত্রিকা ও প্রকাশনের সম্পাদনার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।

বহুমুখী প্রতিভা ও সাংস্কৃতিক নেতৃত্ব:

শুধু সাহিত্য বা সেবা নয়, লিটন রাকিব সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা এবং সুন্দরবনের পরিবেশ রক্ষায় নিরন্তর কাজ করে চলেছেন। তাঁর বাচনভঙ্গি ও মঞ্চ উপস্থাপনা জেলার সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানগুলোতে এক অনন্য মাত্রা যোগ করে। তিনি কেবল নিজে সৃষ্টি করেন না, বরং তরুণ প্রজন্মের মধ্যে সাহিত্য ও সাংবাদিকতার বীজ বপন করে চলেছেন।

পরিশেষে বলা যায়, লিটন রাকিবের পরিচিতি কেবল শব্দের কারুকার্যে সীমাবদ্ধ নয়; তাঁর কাজের পরিধি বিস্তৃত মানুষের হৃদয়ে। ‘নোনা মাটির নন্দনতত্ত্ব ও আর্তের সেবা’—এই দুই জীবনদর্শনকে পাথেয় করে তিনি দক্ষিণ ২৪ পরগনার এক উজ্জ্বল অভিভাবক ও আলোকবর্তিকা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *