“নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষ নয়”, তীব্র আক্রমণে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

কলকাতা, নিজস্ব সংবাদদাতা:- পুরোদমে নির্বাচনী জনসভা শুরু করতে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার তাঁর কর্মসূচি শুরু হবে ময়নাগুড়ি থেকে। তারপর উত্তর থেকে দক্ষিণ, পূর্ব মধ্য হয়ে পশ্চিম – একমাস বাংলার মানুষের পাশে থেকে তিনি একাধিক কর্মসূচি করতে চলেছেন। ”ব্যাকডোর থেকে খেলছেন কেন? সামনাসামনি খেলুন”, এদিন উত্তরে যাওয়ার আগে বিমানবন্দর থেকে নির্বাচন কমিশনকে তীব্র কটাক্ষ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

নির্বাচন কমিশনের নির্দেশিকায় বিজেপির স্ট্যাম্প নিয়েও এদিন ক্ষোভ প্রকাশ করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়। তিনি বলেন, ‘’ইলেকশন কমিশন কার ইশারায় চলছে? ঝুলি থেকে বিড়াল অবশেষে বেরিয়ে পড়ল। নির্বাচন কমিশনের নোটিফিকেশনে BJP-র প্রতীক। জাতীয় নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষ নয়, এতেই স্পষ্ট। ব্যাকডোর থেকে খেলছেন কেন? সামনাসামনি খেলুন।’’ হাতে কাগজ নিয়ে নির্বাচন কমিশনকে তোপ দেগে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ”ঝুলি থেকে বেড়াল বেরিয়ে পড়েছে। এটা ক্লারিক্যাল মিস্টেক না রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত?” সোমবার মধ্যরাতে কেন এসআইআরের তালিকা প্রকাশ হল, এই নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, ‘‘তালিকা বার করতে এত ভয় কেন? তা হলে কি তালিকায় স্বচ্ছতা নেই? কেন মধ্যরাতে তালিকা প্রকাশ করা হল? বিচারকেরা তো ছ’দিন আগে কাজ শেষ করে দিয়েছিলেন। তার পরেও দেরি কেন? যেটুকু নাম উঠেছে মনে রাখবেন আমার কেস করার জন্যই উঠেছে। এখন ওদের লিস্ট বের করতে ভয় কেন? নিশ্চয় তার মধ্যে স্বচ্ছতা নেই কমিশনের। স্বচ্ছতা থাকলে এতদিন লাগে? কী কী বাদ দিয়েছেন? এক তরফা কোনও পার্টির নাম ঢুকিয়েছেন? মধ্যরাতে লিস্ট কেন বের হবে? এখনও পর্যন্ত লিস্ট বুথে, ব্লকে, জেলায় কোথাও টাঙানো হয়নি। কালকেও দু’জন আত্মহত্যা করেছে। তার আগেও দুজন আত্মহত্যা করেছে। প্রায় ২২০ জন মানুষ এর মধ্যে মারা গেল।’’এরপরেই বিজেপি সরকারের একনায়কতন্ত্রের বিরুদ্ধে সব রাজনৈতিক দলগুলিকে প্রতিবাদ করার কথা জানিয়েছেন তিনি।

প্রসঙ্গত, এর আগে বহুবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ তুলেছেন নির্বাচন কমিশন বিজেপির অঙ্গুলিহেলনে কাজ করছে। তৃণমূল কংগ্রেসের তরফেও একাধিকবার এমন অভিযোগ করা হয়েছে। এর মাঝেই নির্বাচন কমিশনের বিজ্ঞপ্তিতে বিজেপির স্ট্যাম্প দেওয়া- এমন একটি ছবি সামনে আসায়, রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে। কমিশনের তরফে এটি নিছক ‘ক্ল্যারিকাল এরর’ জানানো হলেও মানতে নারাজ রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *