কলকাতা, সৌগত রাণা কবিয়াল:- ‘পরিযায়ী পাখিদের গান এবং কৌশিক’…যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ত্রিগুণ সেন অডিটোরিয়াম…সেদিন ২২শে অক্টোবরের শহরের সন্ধ্যা শরীরে তখনও পূজোর স্মৃতি গন্ধ… মঞ্চের ডানদিকে মোহিত আলোয় এক ঝাঁক তরুণের চোখে তখন সুখ ময়ূরের ছন্দ… মঞ্চের বা দিকে বসে একজন সাদাকালো মানুষ… গিটারের ঝংকারে প্রাণ ছড়িয়ে দিতে দিতে বলে গেলেন নিজের মতন করে..সেই কথা-সুরে মঞ্চের ছটফট প্রজাপতি মুখগুলো যেন সুরের ধারায় ভেসে গেলো তাদের প্রিয় শৈশবে….কি অসাধারণ কিছু তারুণ্যের মুখ…কখনো গাইছে..কখনো দুলছে..কখনো হাসছে..পাল তোলা নৌকার মতন বইছে জীবনের উৎসব শব্দে…পুরোটা হলঘরের দেয়ালে তখন শ্রোতা দর্শকের সম্মোহনী মুগ্ধতা… যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছোট অডিটোরিয়াম ঘরটাতে আলোর পরেও এক অসাধারণ আলো হয়ে ফুঁটে উঠলো বেঁচে থাকার ছন্দ….সুর হয়ে বাজলো স্মৃতির বীণা…..একটা অসাধারণ সুন্দর সন্ধ্যার সকল নীরবতা ভেঙে এই অনবদ্য কথা-সুরে চোখের সামনে যেন নেচে উঠলো কিশোর কলকাতা…!

বাংলা সংস্কৃতির আত্মকেন্দ্রীকতার এই যুগ পর্বে এই সময়ের তরুণ প্রজন্মের মন প্রিয় কণ্ঠশিল্পী কৌশিক চক্রবর্তী তার স্বভাবসিদ্ধ উপস্থাপনায় শুধু নিজে নয়..গান গাওয়ালেন এক ঝাঁক তরুণ প্রজন্মের শিল্পীদের…সকলকে নিয়ে পাঠ করলেন কবিতা, অনিরুদ্ধ চট্রোপাধ্যায়ের অসাধারণ লেখায় উপস্থাপন করলেন অনবদ্য এক শ্রুতি নাটক…সন্ধ্যার আলো ছায়ায় শ্রোতা দর্শকের চিবুক উপচে সুখ দিলো সাংস্কৃতিক বিনোদনের সকল পরাগ….চোখে ফুটলো ভালোবাসার পারিজাত….!
অনুষ্ঠানের প্রতিটি পরতে পরতে জীবন্ত হয়ে ফুটে উঠলো প্রিয় তারুণ্য…নষ্টালজিক প্রেমে ভাসলো শহর কলকাতার গোটা কতক সুখী চোখ…..!

বন্ধু অনিরুদ্ধ চট্রোপাধ্যায়ের আমন্ত্রণে সেদিনের সন্ধ্যায় আর সবার মতো আমিও নিজেকে ভেসে যেতে দেখলাম তারুণ্যের স্মৃতি কথায়…! জীবন তো বয়ে যায় ঠিকই তার ছন্দে..পেছনে ক্রমশ হারিয়ে যায় প্রিয় বন্ধুর মুখ..কলেজের ক্যাম্পাস…চায়ের ভারে তরতাজা আড্ডা..প্রথম প্রেম..প্রথম নিজেকে দেখা..! সত্যিই কি হারায়…না-কি নিজেকে সময়ের রাজা বানিয়ে যায় স্মৃতির পদ্মাবতী উপাখ্যানে..!
সদা হাস্যোজ্জ্বল কণ্ঠশিল্পী কৈশিক চক্রবর্তী ও তার ছাত্র-ছাত্রীদের উপস্থিতিতে ‘পরিযায়ী পাখিদের গান এবং কৌশিক’.. শুধু একটা সাংস্কৃতিক আনুষ্ঠানিকতা হয়ে থাকলো না…হয়ে উঠলো ভালোবাসার স্মৃতিসৌধ…বন্ধুত্বের দিগন্ত..মনুষ্যত্বের মহামন্ত্র….! বিশ্ববিদ্যালয়ের এই একটি সন্ধ্যা শহরের থমকে যাওয়া মুখগুলোকে বুক ভরে নিঃশ্বাস নিতে শিখিয়ে দিয়ে গেলো…শিল্প তার খোলশ ছেড়ে ইশ্বরীয় প্রকাশে জীবনের গান গাইলো আর সকলকে গাইতে শেখালো….!
এভাবেই কিছু নতুন হোক..বদল হোক…সংস্কৃতিতে আমিত্বের বলয় থেকে জেগে উঠুক বন্ধনের রামধনু…! শুভ হোক শুদ্ধ ভাবনার…!
সৌগত রাণা কবিয়াল—
–( সাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক ও সাংবাদিক )












Leave a Reply