নদীয়া, নিজস্ব সংবাদদাতা:- নিয়ম মেনেই জগন্নাথদেবের স্নান যাত্রা পালিত হচ্ছ। চাঁদুড়িয়া এক নম্বর জিপির মালোপাড়ার জগন্নাথ তলায়।স্নান যাত্রা উপলক্ষ্যে প্রচুর মানুষের সমাগম ঘটে।সেবাইত স্বপন বাবু বলেন,স্নান করার পর শ্রীজগন্নাথদেব অসুস্থ হয়ে যান।পনের দিন আর পর রাজবেশে ভক্তদের দর্শন দেন।নিত্যানন্দ মহাপ্রভুর স্মৃতি বিজাড়িত বসুধা জাহৃবীদেবীর শ্রীপাট প্রায় সাড়ে পাঁচশো বছরের প্রাচীন।নিত্যানন্দের হাতে প্রতিষ্ঠিত জগন্নাথ দেব চাঁদুড়িয়াতে আলোকিত ভাবে রয়েছে।বৈষ্ণবদের কাছে পরম তীর্থ ক্ষেত্র হিসাবে পরিচিত।
নদিয়া চাকদহ ব্লকের যশড়া, নেউলিয়া, পালপাড়ার মহেশ পন্ডিতের শ্রীপাটের মতই চাঁদুড়িয়া এক নম্বর জিপির মালোপাড়ায় অবস্থিত বসুধা জাহ্নবী শ্রী পাট বৈষ্ণব দের কাছে পরম তীর্থ ক্ষেত্র বলে পরিচিত।আজও পূজিত হন প্রভু নিত্যানন্দের হাতে প্রতিষ্টিত শালগ্রাম শীলা জগন্নাথ বলরাম ও সুভদ্রাদেবুর। প্রতিদিন নিত্যপূজা সহ জগন্নাথ দেবের স্নান যাত্রা সহ রথযাত্রার সময়েও বিশেষ পূজা অনুষ্ঠিত হয়।
কথিত আছে চৈতন্য মহাপ্রভু দীক্ষা নেবার জন্য যাত্রাপথে নবদ্বীপ ধাম থেকে হাঁটা পথে এই সুখসাগর রাস্তার মালো পাড়ার এক অশত্থ গাছের নিচে বিশ্রাম নিয়েছিলেন।তার পর ঐ রাস্তা ধরে কুমারহট্টে ( বতর্মান নাম হালিশহর) মাধবেন্দ্র পুরীর পরম শিষ্য ইশ্বরপুরীর কাছে গিয়েছিলেন দীক্ষা নেবার জন্য। তিনি কুমারহট্ট এর আচার্যপাড়ায় বসবাস করতেন সেই স্থানটি এখন চৈতন্যডোবা নামে পরিচিত। পরে নিত্যানন্দ প্রভু চৈতন্যদেব কে অনুসরন করতে করতে এই স্থানে আসেন।যেখানে চৈতন্য মহাপ্রভু বিশ্রাম নিয়েছিলেন।ঠিক সেই জায়গায় দীর্ঘক্ষণ বসে ছিলেন নিত্যানন্দ।তারপর তিনি নিজের হাতে প্রতিষ্ঠা করেন শালগ্রাম শীলা সহ জগন্নাথ দেবকে।তারপর এখানে এসেছিলেন নিত্যানন্দ প্রভুর দুই সহধর্মিনী বসুদা দেবী এবং তার বোন জাহ্নবা দেবী । সেই থেকেই বৈষ্ণব দের পরম তীর্থস্থান বসুধা জাহ্নবী শ্রীপাট নামে পরিচিতি পায়।একসময় গোলপাতার ছাউনি দিয়ে মন্দির ছিল।পাঁচ জন সেবাইত ছিল।তারা এখানে থেকে পূজা অর্চনা করতেন।তারও অনেক পরে সুখসাগর গ্রামে আক্রা সাধু এখানে থেকেই সাধন ভজন করতেন।আক্রা সাধুই পরবর্তীকালে চট্টোপাধ্যায় ঘরনি গৌরিদেবীর হাতে তুলে দেন এই শ্রীপাট এর দায়িত্ব ১৩৩৯ সালে।তারপরেই দেবতার নিমিত্তে পাকা মন্দির তৈরী হয়।এলাকার মানুষের আক্ষেপ যদি প্রশাসনের হাতে তুলে দেওয়া যায় বসুধা জাহ্নবী শ্রীপাটকে কিংবা ইসকন কর্তৃপক্ষের হাতে তাহলে এলাকার উন্নতি, পরিচিতি বাড়বে মনে করছে এলাকার বাসিন্দারা। গৌড়ীয় বৈষ্ণব তীর্থ পর্যটনে গ্রন্থ থেকে জানা যায় এই শ্রী পাটের প্রাণপুরুষ ছিলেন পুরুষোত্তম দাস ঠাকুর এবং তার পুত্র কানু ঠাকুর। তিনি ছিলেন প্রভু নিত্যানন্দ পার্ষদ আবার দ্বাদশ গোপালের অন্যতম। পিতা-পুত্র উভয়েই বৈষ্ণবদের কাছে পরম পূজনীয় ছিলেন ।বসুধা জাহ্নবা শ্রীপাট প্রথমে সুখ সাগরে অবস্থিত ছিল, গঙ্গার ভাঙ্গনে ক্ষতিগ্রস্ত হলে এখানে স্থানান্তরিত হয়েছিল। নিত্যানন্দ প্রভুর হাতে প্রতিষ্ঠিত বসুধা জাহৃবী শ্রীপাট প্রচারের আলয় আসত এবং বাংলার নানা প্রান্ত থেকে বহু ভক্ত ও পুণ্যার্থীর সমাগম ঘটতো চাঁদুড়িয়া অঞ্চলে।












Leave a Reply