মন্ত্রী উদয়ন গুহের অঙ্গুলি হেলনে প্রশান্তকে খুন করেছে দুষ্কৃতীরা: মৃত প্রশান্তের বাড়িতে এসে বিস্ফোরক মন্তব্য এসসি কমিশনের ভাইস চেয়ারম্যান অরুণ হালদারের।

কোচবিহার, নিজস্ব সংবাদদাতা:-  রাজবংশী যুবক প্রশান্ত রায় বসুনিয়াকে গুলি করে খুন করা হয় বলে অভিযোগ। সেই অভিযোগের পরে সোমবার নিহত প্রশান্ত রায় বসুনিয়ার বাড়িতে পরিদর্শনে আসেন জাতীয় তপশিলি কমিশনের ভাইস চেয়ারম্যান অরুণ হালদার। এদিন তিনি খুন হওয়া বিজেপি নেতার বাড়ির লোকজনের সাথে কথা বলেন এবং বাড়ির পুরো অংশ ঘিরে দেখেন। সেখানে তিনি জেলার কোন উচ্চ পদস্থ অধিকারী বা এসপি, ডিএমকে দেখতে না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন জাতীয় তপশিলি কমিশনের ভাইস চেয়ারম্যান অরুণ হালদার।

এদিন জাতীয় তপশিলি কমিশনের ভাইস চেয়ারম্যান অরুণ হালদার সাংবাদিকদের মুখোমুখি বলেন, রাজবংশী যুবকের সাথে রাজনৈতিকভাবে তেরে না ওঠার কারণে এখানকার বিধায়ক তথা মন্ত্রী তার অঙ্গুলি হেলনে বা তার নির্দেশে স্থানীয় কিছু দুষ্কৃতি ও পঞ্চায়েত প্রধান মিলে বাড়ির ভিতরে ঢুকে প্রশান্ত রায় বসুনিয়াকে গুলি করে খুন করেন। এবং একজন মায়ের কোল খালি করে দিয়েছেন দেড় মাসে প্রায় ছয়টি পরিবার তাদের সন্তানকে হারিয়েছে। বাংলার মুখ্যমন্ত্রী ২২ শতাংশ তপশিলি ভোটকে নিজের হাতে রেখে মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন তারপরেও বাংলার তপশিলি এবং রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষের উপর এই অত্যাচার হয়ে চলেছে তিনি কেন চুপ রয়েছেন।
তিনি আরো বলেন, সারা বাংলায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী, তাহলে যেখানে অপরাধ হচ্ছে রাজবংশী, তপশিলি জাতির মানুষদের বাছাই করে খুন করা হচ্ছে সেখানে কেনো তিনি আসছেন না।

গত শুক্রবার দুপুরে বিজেপির ২৩ নং মণ্ডলের সম্পাদক প্রশান্ত রায় বসুনিয়াকে একদল দুষ্কৃতী বাড়িতে ঢুকে প্রকাশ দিবালোকে গুলি করে হত্যা করেছে। এখনো পর্যন্ত সেই দুষ্কৃতীরা গ্রেফতার হয়নি। তার কারণও জানতে চেয়েছেন জাতীয় তপশিলি কমিশনের ভাইস চেয়ারম্যান অরুণ হালদার।

পরিবারে সাথে কথা বলার পর সমস্ত জানার পর পুলিশ, এসপি এবং ডি এমের উপর ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে জাতীয় তপশিলি কমিশনের ভাইস চেয়ারম্যান অরুণ হালদার বলেন, এখানকার এসপি,ডিএম ফোন করে আসতে মানা করে দেন কমিশনকে। একজন আইপিএস, এসআইদের ক্যারিয়ার নিয়ে ছেলে খেলা করছেন মুখ্যমন্ত্রী। বার বলছি একজন আইএস বা আইপিএস অফিসারদের বলছি তাদের চক্করে পা দেবেন না বা নিজেদের জড়াবেন না তাহলে আপনাদের নামে কমিশনে নালিশ জমা করতে পারে। ঘটনার সঠিক তদন্ত না হলে এই ঘটনায় যারা তদন্তকারী অফিসার রয়েছেন তাদের কমিশন দিল্লিতে তলব করবে এবং তদন্তের সম্পূর্ণ পুঙ্খানুপুঙ্খ প্রগতি জানতে চাইবেন। সেই ক্ষেত্রে কোন অফিসার যদি অসহযোগিতা করে তার বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেবে কমিশন। ডাকা হতে পারে কোচবিহারের জেলাশাসক এবং জেলা পুলিশ সুপারকে। প্রয়োজনে তাদের বিরুদ্ধে কেস করে গ্রেপ্তার করে দিল্লিতে নিয়ে যাওয়া হবে এবং তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে জানান তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *